Quantcast
ঢাকা, বুধবারর 26 September 2012, ১১ আশ্বিন ১৪১৯, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৯৪৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় মুনতাসির মামুনের জেরা সমাপ্ত

তিনি জানেন না কোন রাজাকার আলবদর কমান্ডারের নাম

 একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৮৬১৪৮০ টাকা অবৈধভাবে গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুনের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। ইতোপূর্বে তার জবানবন্দী  ও জেরা হয়। তবে আধাবেলা জেরা বাকি ছিল। গতকাল তা সম্পন্ন করেছেন অধ্যাপক গোলাম আযমের আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তিনি তার সাক্ষ্য প্রদানকালে শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনীর গঠন ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের অধিকাংশের দায়ভার চাপিয়েছেন অধ্যাপক গোলাম আযম এবং তার দল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র সংঘের ওপর। তবে গতকালের জেরায় তিনি কোন রাজাকার আল বদর, আল শামস কমান্ডারদের একজনের নামও বলতে পারেননি। কোন রাজাকার এডজুটেন্ট বা মহকুমা কমান্ডারের নামও জানেন না মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ড. মুনতাসির মামুন। বিগত সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ৮৬১৪৮০ টাকা বিধি বহির্ভূতভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক থাকাকালে গ্রহণ করার প্রমাণ পেয়ে ড. মুনতাসির মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। আদালতে যাতে ঐ বিষয়ে কোন অভিযোগ না আসে সে জন্য সরকারের নির্দেশে তিনি অধ্যাপক গোলাম আযামের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষী দিতে এসেছেন মর্মে অভিযোগ করেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তবে ড. মামুন তা সত্য নয় বলে উল্লেখ করেছেন। বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর পরই জহির রায়হানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টায় অসমাপ্ত জেরা সমাপ্ত হয় ড. মামুনের। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বিগত ২ দিনের মত গতকালও অনুপস্থিত ছিলেন। জেরায় গতকাল এডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, শিশির মোহাম্মদ মনির প্রমুখ। এ উপলক্ষে ৯০ বছর বয়সী অধ্যাপক গোলাম আযমকে গতকাল সকালে পিজি হাসপাতাল থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় এনে রাখা হয়। সকালে তার মামলার বিচারিক কার্যক্রম না হওয়ায় আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বেলা ১টার পরে তাকে পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে ফেরত পাঠানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুনের গতকালের জেরার উল্লেখযোগ্য বিবরণ নিম্নরূপ :

প্রশ্ন : স্বাধীনতার পরে সরকারি উদ্যোগে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের ব্যাপারে কোন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল কিনা?

উত্তর : আমার যতদূর মনে পড়ে স্বাধীনতার পর পরই বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে জহির রায়হান একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। যার উদ্দেশ্য ছিল গণহত্যা, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকান্ড তদন্ত করা এবং কারা এর জন্য দায়ী তা নির্ধারণ করা। জহির রায়হানের অন্তর্ধানের পর এই কমিটি আর কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নীতি-নির্ধারণী অনেকে গণহত্যা বিশেষ করে বুদ্ধিজীবীদের ব্যাপারে তদন্ত করে বিচার করার কথা বলেছিলেন।

প্রশ্ন : জহির রায়হানের উদ্যোগে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল তার প্রধান তিনি নিজে ছিলেন কিনা?

উত্তর : তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন : উক্ত কমিটির কাগজপত্র জহির রায়হানের অন্তর্ধানের পর তদন্ত কার্যক্রমের দায়িত্বভার কারো কাছে দেয়া হয়েছিল নাকি কলকাতার একজন সাংবাদিক নিয়ে গিয়েছিল?

উত্তর : এ সম্পর্কে নানা রটনা আছে। এর মধ্যে একটি হলো কলকাতার জনৈক সাংবাদিক কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এর সত্যতা কখনো নির্ধারণ করা যায়নি। আমার যতদূর মনে পড়ে কাগজপত্র কি কি ছিল  তার ইনভেন্ট্রি কখনো তৈরি করা হয়নি। তবে কিছু কিছু কাগজপত্র সেই সময়ে এডভোকেট এহসান সাহেবের কাছে মামলার স্বার্থে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে এই যে, এই সব কাগজপত্র সম্পর্কে সত্য কখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

প্রশ্ন : জহির রায়হানের নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম সাহেব।

উত্তর : সঠিকভাবে বলতে পারব না। কারণ আমরা এটাকে জহির রায়হানের কমিটি হিসেবেই জানতাম। কারণ তিনি ঐ কমিটির প্রধান ছিলেন।

প্রশ্ন : আপনি গবেষণা কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে জহির রায়হান সাহেবের তদন্ত কমিটির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন কিনা?

উত্তর : করি নাই।

প্রশ্ন : শহীদুল হক মামা নামে কাউকে চেনেন?

উত্তর : চিনি না।

প্রশ্ন : নাসির উদ্দিন ইউসুফের উপস্থাপনায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘রণাঙ্গনের দিন গুলী' শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে।

উত্তর : বিটিভিতে প্রচার হচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে চ্যানেল আইতে এরূপ একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে বলে আমার জানা আছে।

প্রশ্ন : ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে ঢাকার মিরপুর দখল মুক্ত হয়েছিল।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : মিরপুর দখল মুক্তির অভিযানকালে জহির রায়হান সাহেব নিখোঁজ হন।

উত্তর : ঐ সময়ের খবরের কাগজের প্রতিবেদন যতদূর মনে পড়ে তাতে আমার যা স্মরণে আছে তা হলো জহির রায়হান তার বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারের খোঁজে মিরপুরের দিকে রওনা হয়েছিলেন। তিনি মিরপুর যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন এমন কোন খবর তখন দেখি নাই।

প্রশ্ন : জহির রায়হান সাহেব মিরপুরে নিহত হওয়ার খবর শুনেছিলেন?

উত্তর : আমি তার মৃত্যুর খবর শুনি নাই। তবে সেখানে আমি তার অন্তর্ধানের খবর শুনেছিলাম।

প্রশ্ন : জহির রায়হানের অন্তর্ধান বিষয়ে সাংবাদিক জুলফিকার আলী মানিকের কোন বই আপনি পড়েছেন?

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : জহির রায়হান সাহেবকে একজন অবাঙালি ব্যক্তি যার নাম মাস্তানা টেলিফোন করে ডেকে মিরপুরে নিয়ে গিয়েছিলেন কিনা?

উত্তর : এরূপ কোন খবর আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : মিরপুর মুক্ত হওয়ার পর সেখান থেকে ১০/১২ হাজার স্বাধীনতা বিরোধী গ্রেফতার হয়েছিল।

উত্তর : আমার জানা নেই। আদৌ কোন লোক গ্রেফতার হয়েছিল কি না তা আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রেফতারকৃত একজন অবাঙ্গালি রাজাকারের স্বীকারোক্তি মোতাবেক পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী খানে সবুরের বাসা থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা সংক্রান্ত কাগজ উদ্ধার হয়েছিল। এটা জানেন কি না?

উত্তর : আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের বিষয়ে পাকিস্তানী কোন জেনারেলের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন?

উত্তর : জেনারেল রাও ফরমান আলী, জেনারেল নিয়াজী ও সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারনী আরো অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি।

প্রশ্ন : রাও ফরমান আলী ও নিয়াজী ১৯৭১ সালের ঘটনাবলীর বর্ণনা দিয়ে বই লিখেছেন আপনি জানেন কি না?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : নিয়াজী তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে রাজাকাররা পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হতো।

উত্তর : একথা নিয়াজী তার বইয়ে লিখতে পারে। ঐ সময় সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতো সেনাবাহিনী। তবে তারা একাই সব কাজ করেছে এমন কথা সত্য নয়। তাদের সমর্থক রাজনৈতিক দলসমূহ তাদেরকে সহায়তা করেছে। এটা তাদের বইতেও উল্লেখ আছে।

প্রশ্ন : জেনারেল নিয়াজী আপনার কাছে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাতে তিনি বলেছেন যে রাজনৈতিক দলসমূহ ও তাদের নেতৃবৃন্দকে আমরা বিশ্বাস করি না। নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমরা সর্বত্রই নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণ করি। এ কথা বলেছেন কি না।

উত্তর : নিয়াজী পাকিস্তানের ভাড় হিসেবেই পরিচিত। তার কথার মূল্য আমরা কেন পাকিস্তানীরাই মূল্যায়ন করে না। আপনি যদি আমার বইতে সেটা দেখে থাকেন তবে তা কাগজপত্র ও তথ্য দ্বারা বিশ্লেষিত হয়েছে। কাগজপত্র না দেখে সঠিকভাবে বলতে পারব না।

প্রশ্ন : রাজাকার, আলবদর আল শামস নিয়াজীর কমান্ডে ছিল কি না এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি আপনাকে বলেছিলেন কেউ কেউ বলেন, ওরা জামায়াতে ইসলামীর অধীনেই ছিল। কিন্তু আমি তা স্বীকার করি না। আলবদর ও আলশামস বাহিনী গঠনের নেপথ্যে জার্মানীর এক শাসকের ধারণা রয়েছে যে তিনি অনুরূপ ধারণার উদ্যোক্তা। সেখান থেকে আমি ধারণাটা নিয়েছি। একথা সঠিক কি না?

উত্তর : আপনি একটি সাক্ষাৎকারের খন্ডাংশ তুলে ধরেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় না যে নিয়াজী যা বলেছেন তাই সত্য। আগের প্রশ্নের উত্তরে বলেছি, নিয়াজীর যেকোন উক্তি অন্যান্য তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করতে হবে।

প্রশ্ন : আপনার কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিয়াজী রাজাকার, আলবদর, আলশামস সম্পর্কে আরো বলেছিলেন, তারা জামায়াতে ইসলামীর কেউ নয়। আমি রাজনীতিবিদদের ঘৃণা করি। যারা রাজনীতি করে আমি তাদের কাউকেই ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে দেই না। কাজেই আমি কেমন করে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য কোন রাজনৈতিক দলকে বলতে পারি। একথা কি ঠিক?

উত্তর : আগের প্রশ্নের উত্তরেই এর উত্তর নিহিত। তবে জামায়াতের ঐতিহাসিক সেলিম মনসুর এর উল্টোটি বলেছেন। সেই কারণেই আমি বলেছিলাম, পাকিস্তানী জেনারেল বা নীতি নির্ধারকদের যেকোন বক্তব্যই অন্যান্য তথ্যের আলোকে বিচার না করলে সঠিক সত্য নির্ধারণ সম্ভব হবে না।

প্রশ্ন : জামায়াতে ইসরামীর কোন প্রকাশনা সংস্থা আছে কি না?

উত্তর : যতদূর জানি পশ্চিম পাকিস্তানে আছে। বাংলাদেশে দৈনিক সংগ্রাম তো জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র।

প্রশ্ন : সেলিম মনসুরের যে বক্তব্য আপনি বলেছেন তা জামায়াতে ইসরামীর কোন প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর : জামায়াতে তালাবা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তবে উর্দু নাম। আমার উচ্চারণে ভুল হতে পারে।

প্রশ্ন : জামায়াতের কোন প্রকাশনা থেকেই সেলিম মনসুরের এইসব বক্তব্য সম্বলিত বই প্রকাশিত হয়নি।

উত্তর : সত্য নয়। যেখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে সেই সংস্থা জামায়াত সংলগ্ন সংস্থা বলেই জানি।

প্রশ্ন : রাজাকার বাহিনীকে অক্সিলারী ফোর্স হিসেবে অন্তর্ভূক্তির কাজটি পূর্বাঞ্চলীয় নয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড কর্তৃক করা হয়েছিল।

উত্তর : যা কিছুই হয়েছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃকই হয়েছে সেটা পূর্বাঞ্চলেই হোক আর পশ্চিমাঞ্চলেই হোক।

প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সরকারকে নির্দেশ দেয়া, সিদ্ধান্ত প্রদান বা কোন কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার কোন ক্ষমতা অধ্যাপক গোলাম আযমের ছিল না?

উত্তর : কোন ব্যক্তি কোন সরকারকে বিশেষ করে সামরিক সরকারকে সরাসরি নির্দেশ প্রদান করতে পারে না। তবে পরামর্শ দিতে পারে প্রণোদনা যোগাতে পারে পরিকল্পনার সাহায্য করতে পারে প্ররোচিত করতে পারে। এমনকি তাদের সাথে ষড়যন্ত্রে অংশ নিতে পারে।

প্রশ্ন : আলবদর, আলশামস বাহিনী কোন পৃথক বাহিনী ছিল না, রাজাকার বাহিনীর অংশ ছিল।

উত্তর : এই তথ্যটি নতুন। কারণ আমাদের জানা মতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস বা শান্তি কমিটিকে পৃথক পৃথক সংস্থা হিসেবে বিচার করলেও এর সদস্যদের সিংহভাগ জামায়াতের সদস্য ছিল। অন্যভাবে বলা যেতে পারে যে জামায়াতে ইসলামীর সিংহভাগ রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং শান্তি কমিটি রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছিল।

প্রশ্ন : রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সদস্য সংখ্যা কত ছিল সে ধারণা আপনার না থাকার কারণে রাজাকার আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি সিংহভাগ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর ছিল মর্মে ট্রাইব্যুনালে যে তথ্য দিলেন তা অসত্য।

উত্তর : আপনার বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। কারণ জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও কখনো তাদের সংখ্যা নির্ধারণ করেনি। (আসামী পক্ষের আপত্তিসহ)

প্রশ্ন : আপনি যে সমস্ত রাজাকার, আলবদর, আলশামস সনাক্ত করেছেন তাদের সকলের দলীয় পরিচয় বলতে পারবেন?

উত্তর : কাউকে নির্দিষ্ট করে আমি সনাক্ত করি নাই। পত্র-পত্রিকায় যে সমস্ত পরিচয় আছে, আমি সেইগুলোই উল্লেখ করেছি।

প্রশ্ন : কতজন রাজাকার এডজুটেন্টের আপনি দলীয় পরিচয় সনাক্ত করেছেন?

উত্তর : বলতে পারব না।

প্রশ্ন : কতজন মহকুমা পিস কমিটির সদস্যকে সনাক্ত করেছেন?

উত্তর : বই না দেখে বলতে পারব না।

প্রশ্ন : আপনার জবানবন্দীতে অধ্যাপক গোলাম আযমের বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা আপনি দিয়েছেন তা একান্তই আপনার নিজস্ব।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি আপনার রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে জামায়াত বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। সেই অবস্থান থেকে আপনি জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে অসত্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।

উত্তর : আমার রাজনৈতিক আদর্শ সনাক্ত করার আগ পর্যন্ত আমার পক্ষে এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। তবে আপনার বক্তব্য সত্য নয়।

প্রশ্ন : ১৯৭৩ সালে অধ্যাপক গোলাম আযমের ভূমিকা ছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক।

উত্তর : গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ইত্যাদি যদি রাজনৈতিক আদর্শের অন্তর্ভূক্ত হয় তাহলে আপনার বক্তব্য সঠিক।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে অধ্যাপক গোলাম আযম হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ কোন অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না। আপনি তাকে জড়িয়ে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছিলেন?

উত্তর : জবানবন্দী নয়, আমি আমার বক্তব্য দিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে সেন্সরশীপ কি সকল পত্রিকার জন্যই ছিল?

উত্তর : সকল পত্রিকার জন্য একই নিয়ম হওয়ার কথা।

প্রশ্ন : মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার আপনি পেয়েছেন। এই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিধি বহির্ভূতভাবে সর্বমোট ৮ লাখ ৬১ হাজার ৪শ ৮০ টাকা গ্রহণ করেছিলেন। এজন্য পূর্ববর্তী সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি প্রমাণ পেয়ে আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনার বিরুদ্ধে যাতে আদালতে অভিযোগ দায়ের না হয় সেজন্য বর্তমান সরকারের নির্দেশ মতে আপনি সাক্ষ্য দিতে এসেছেন।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেননি।

উত্তর : সত্য নয়।