|
|
স্পোর্টস রিপোর্টার: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের গ্রুপ লড়াই থেকেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার ‘ডি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে আট উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে উঠেছে অপরাজিত পাকিস্তান।এই গ্রুপ থেকে রান রেটে এগিয়ে থাকায় আগেই সুপার এইটে জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড। পাল্লেকেলে অন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার সাকিবের (৮৪) দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ দল ৬ উইকেটে ১৭৫ রান করেছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এটাই সর্বোচ্চ রান। ব্যাটিংয়ে ভাল করলেও বাজে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের মাশুল গুনতে হয়েছে তামিম -মুশফিকদের। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ১৮ ওভার ৪ বলে দুই উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান করে জয়ের লক্ষ্য পৌঁছে যায় । সুপার এইটে খেলতে হলে পাকিস্তানকে ১৩৯ রানে অলআউট করতে হবে। এমন সমীকরন সামনে নিয়ে মাঠে নামলেও বাংলাদেশ দলের বোলার ও ফিল্ডাররা অতিরিক্ত স্নায়ু চাপের কারনেই লক্ষ্যে পৌঁচ্ছাতে ব্যর্থ হয়। অভিজ্ঞতা আর দক্ষতায় এগিয়ে থাকা পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা ম্যাচ শেষের আগেই বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। দুই উইকেট হারিয়েই ইমরান নাজিররা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁচ্ছে যায়। ১৭৬ রানের টার্গেটে খেলতে নামা পাকিস্তান দলের প্রথম উইকেট ফেলতে টাইগারদের ১৩ ওভার ৩ বল লেগেছে। তবে এই ওভারেই দ্বিতীয় উইকেটটিরও পতন হয়। ওপেনিং জুটি আউট হয় দলের জন্য ১২৬ রান তুলে। এই ওভারে আবুল হাসানের বলে ফরহাদ রেজার হাতে ক্যাচআউট হন ইমরান নাজির। এর আগে তিনি ৭২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন। ৩৬ বলে এই রান তোলেন ইমরান।একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে ইমরান নাজির ২০০০ রানের কোটাও পূরণ করলেন। অপর ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজ আউট হন আবুল হাসানের বলে। ৪৫ রান করার পর হাফিজের শটটি বল তালুবন্দি করেন মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে ৫২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাকি কাজটুকু সহজেই সারেন নাসির জামশেদ (অপরাজিত ২৯) ও কামরান আকমল (অপরাজিত ২২)। অপরদিকে বোলিংয়ে ৩৩ রানে ২ উইকেট নিয়ে হাসানই বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন। এর আগে টসে জয় পেয়ে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ আশরাফুলের (১৪) সঙ্গে তামিম ইকবালের ৩৪ রানের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে ভালো সূচনা এনে দেয়। দ্বিতীয় উইকেটে ২ ওভার ৩ বলে তামিমের (১২ বলে ২৪) সঙ্গে সাকিব আল হাসানের ২৭ রানের জুটি বড় কিছু স্বপ্ন দেখাচ্ছিল বাংলাদেশকে। দলীয় ৬১ রানে তামিম রান-আউট হয়ে গেলে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন সাকিব। তিনি তৃতীয় উইকেটে মুশফিকুর রহিমের (২৬ বলে ২৫) সঙ্গে ৫৮ ও পঞ্চম উইকেটে নাসির হোসেনের (১৬) সঙ্গে ৩৭ রানের দুটি কার্যকর জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে দেন। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ১৭০ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেয়ার আগে ৮৪ রান করেন টেস্ট ও ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা সাকিব। তার ৫৪ বলের ইনিংসে এগারোটি বাউন্ডারী ও দুটি ওভার বাউন্ডারীর মার ছিল। অপরদিকে বোলিংয়ে পাকিস্তানের ইয়াসির আরাফাত ২৫ রান খরচায় তিনটি উইকেট নেন।

