|
|
পদ্মায় প্রচন্ড স্রোত
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, শিবচর থেকে : তীব্র স্রোতের কারণে শেষ পর্যন্ত মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌরুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিসি। শুক্রবার বিকেলে উভয় ঘাটে এ সংক্রান্ত মাইকিং করেছে বিআইডব্লিউটিসি। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নৌরুটের পদ্মা নদীতে ১১ সে.মি. পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৬ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রচন্ড স্রোত ও ঘূর্ণিবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সকল ফেরি সার্ভিসই বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এরআগ পর্যন্ত একই সংকটে গত বুধবার থেকে ৭টি ফ্লাট ফেরিসহ এ রুটের ৯ টি ফেরি পারাপার বন্ধ ছিল। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় ঘাটের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সহস্রাধিক যানবাহন আটকে পড়েছে। তবে লঞ্চ ও স্পীডবোট চলাচলে দীর্ঘ সময় লাগলেও স্বাভাবিক আছে।
বিআইডব্লিউটিসির মেরিন কর্মকর্তা আঃ সোবাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়ে স্রোত আরো তীব্রতর হয়েছে। ফলে ৪ টি দ্রুতগতি সম্পন্ন ফেরিও আর চলতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে ফেরি সার্ভিস পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মজিবর রহমান নদীর এই পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন।
রো রো বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমিনের মাস্টার ইনচার্জ মোঃ ইয়াকুব আলী বলেন, মাওয়া ফেরি ঘাট এলাকায় প্রচন্ড ঘূর্ণিবর্ত ও স্রোতের কারণে পার হয়ে ঘাটে ভিড়ানোর সময় ২/৩টি আইটি জাহাজের সহায়তা লাগে। ওই জায়গায় এতোটাই স্রোত যে চলাচলের অনুপযোগী ও চরম ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
পূর্ববর্তী খবরে বলা হয় মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌ-রুটে ফেরি চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে। গতকাল শুক্রবার এ রুটে চলাচলকারী ছোটবড় ১৫টি ফেরির মধ্যে মাত্র একটি চলছে। ১৪টিই বন্ধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বন্ধ ছিল ১১টি। গত কয়েকদিন ধরে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় মাওয়ায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। যাত্রী ভোগান্তি চরমে ওঠে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা-বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মোঃ সিরাজুল হক বিকাল সাড়ে ৪টায় বলেন, স্রোতের তীব্রতা এভাবে বাড়তে থাকলে বর্তমান হাজরা চ্যানেল দিয়ে চলাচলকারী একমাত্র ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনও বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এখন পারাপার হচ্ছে স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ৮ শতাংশ। ফলে উভয়পাড়ে ১ হাজারেরও বেশি যান আটকা পড়েছে। স্রোতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। এতে ফেরি দিয়ে পারাপারের যাত্রীদেরও অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
‘‘গতদিনের চেয়ে পদ্মার পানি ৭ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে,’’ বলেন সিরাজুল হক। এর আগে নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় গত সোমবার কবুতরখোলা চ্যানেলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখন ফেরি চলছে লৌহজং-হাজরা ড্রেজিং চ্যানেলে। এতে দূরত্ব যেমন ২ কিলোমিটার বেড়েছে, তেমনি পড়তে হচ্ছে তীব্র স্রোতের মুখে। ২০০২ সালের দিকে পদ্মায় একবার প্রচন্ড স্রোত দেখা দিলেও তা এবারের মতো খর স্রোতা ছিল না বলে দাবি করেন সিরাজুল হক। এ রুটে কাওরা-কান্দি থেকে মাওয়া এই ১৯ কিলোমিটার যেতে সময় লাগছে সাড়ে ৩ থেকে পৌনে ৫ ঘণ্টা। কিন্তু মাওয়া থেকে স্রোতের অনুকূলে কাওরা-কান্দি পৌঁছতে সময় লাগছে আড়াই ঘণ্টা।
গত বৃহস্পতিবার বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক আশিকুজ্জামান বলেন, ফেরির ইঞ্জিনের গতির চেয়ে পদ্মায় স্রোতের গতি বেশি হওয়ায় মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সীমিত সংখ্যক ফেরি দিয়ে অব্যাহত রাখা হয়েছে পারাপার। ফেরি সার্ভিসে সঙ্কটের কারণে যাত্রী ভোগান্তি ছাড়া এ অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পণ্যবাহী ট্রাকগুলো মাওয়া ঘাটে আটকে আছে ৪ দিন ধরে।

