|
|
গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ
স্টাফ রিপোর্টার : অপরিকল্পিত ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের দিকে লবণাক্ত পানি ধেয়ে আসছে। সমুদ্র থেকে ঢাকা শহরের দিকে লবণাক্ত পানি আসছে যথাক্রমে ১১০ ফুট ও ৬৫০ ফুট গভীরতা দিয়ে। ঢাকা শহরে সমুদ্র পৃষ্ঠের ৫৩ মিটার নীচে পানির স্তরে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা শহরের পানির স্তর সমুদ্র পৃষ্ঠের গড় উচ্চতার ১৭০ ফুট, গাজীপুর ৮০ ও রাজশাহীতে ১৮-২০ ফুট নিচে চলে গেছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির এ পরিস্থিতি খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গোলটেবিল লাউঞ্জে প্রকাশিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের উপর প্রভাব' শীর্ষক গবেষণা পত্রে এসব উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এ উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে গবেষণা কর্মের সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন অন্যতম গবেষক, পানি পরিবেশ প্রকৌশলী ও কৃষিবিদ ড. ইফতেখার আলম। গবেষণা কাজটির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন অপর গবেষক, পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. মোল্লা আজফারুল হক। বাপার সহসভাপতি, পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এএমএম শাহজাহান। সূচনা বক্তব্য দেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন।
ড. ইফতেখার আলম বলেন, সারা গবেষণা করে দেখা যায় অপরিকল্পিতভাবে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ভবিষ্যতে পানি প্রাপ্তি হুমকির সম্মুখীন। বোরো চাষের জন্য দশকের গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় বোরো ধানের চাষ সঠিকভাবে করতে পারলে অধিক উৎপাদন সম্ভব, এতে দেশে খাদ্য ঘাটতি অনেক কমিয়ে আনাও সম্ভব। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর অনেক নীচে নেমে যাচ্ছে। ঢাকার পানির স্তর এখনই সমুদ্র পৃষ্ঠের চেয়ে ১৭০ ফুট ও রাজশাহীতে ১৮-২০ ফুট নীচে চলে গেছে। ফলে সাগরের লোনা পানি ক্রমশ দক্ষিণ জনপদ পার হয়ে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দক্ষিণ অঞ্চলের ৬ কোটি মানুষ ভূ-গর্ভস্থ লবণাক্ততা বৃদ্ধি জনিত বিপর্যয়ের হুমকিগ্রস্থ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই পরিস্থিতি বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ আরো সংকটজনক পর্যায়ে উপনীত হবে।
তিনি বলেন, এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদেরকে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেমন- নদী, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয়গুলো দখল ও দুষণমুক্তকরণ ও পুনরুজ্জীবিত করা, পানির নতুন উৎস খুঁজে বের করা, পানি অববাহিকা ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দেয়া, পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনায় ভূ-গর্ভস্থ পানির চেয়ে ভূ-উপরিভাগ পানি ব্যবহারিক গুরুত্ব আরোপ করা, নদী ও জলাশয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আগত নদীসমূহের পানি প্রবাহ থেকে অবরোধমূলক অবকাঠামো অপসারণ করা এবং টিপাইমুখ ড্যাম ও ভারতীয় আন্তঃনদী সংযোগ জাতীয় প্রকল্প পরিহার করা।
এএসএম শাহজাহান বলেন, আমাদের প্রকৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। দেশের পানির আধার ও প্রকৃতিকে টিকিয়ে রাখতে না পারলে এর দায় আমাদেরকেই নিতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি না করে একে টিকিয়ে রাখার জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী আমরা রেখে যেতে চাই।
অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানি কৃষিতে অধিক ব্যবহারে প্রকারান্তরে মাটির কার্যক্ষমতাকে দিন দিন কমিয়ে আনে। কৃষিতে ভূ-গর্ভস্থ পানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে।

