|
|
রাসূল (সা.)কে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবি
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : আমেরিকার সিনেমায় কটূক্তি, ফ্রান্সের পত্রিকায় ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ, ঝিনাইদহের কলেজ শিশির ফিরোজ ও ঢাবির শিক্ষিকা লুকনা ইয়াসমিন রাসূল (সা.)কে অবমাননা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশির ফিরোজ ও লুকনা ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করার জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। অন্যথায় যে কোনো পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে বলে এসব বিক্ষোভ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এদিকে বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় জারিকৃত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাযের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলনসহ কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এছাড়াও রাজধানীর কুড়িল-বিশ্বরোড, প্রগতি সরণী ও মহাখালী এলাকায়ও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় জারিকৃত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়ে পল্টন থানার ওসি গোলাম সারোয়ার দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, আমেরিকায় রাসূল (সা.)কে নিয়ে সিনেমা তৈরি করে বিশ্ব মুসলিমের কলিজায় যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তা শুকাতে না শুকাতেই ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে ঝিনাইদহে শিশির ফিরোজ এবং ঢাবির শিক্ষিকা লুকনা ইয়াসমিন নামের কুলাঙ্গারদ্বয় যে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, শিশির ও লুকনা ইয়াসমিনকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় মুসলমানদের অন্তরে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছে, তা কেউ রুখতে পারবে না। দেশময় মুসলমানরা জেগে উঠলে সরকার পালাতে বাধ্য হবে।
সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, মহানগর সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আবু সাঈদ সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা এইচ এম সাইফুল ইসলাম, নুরুজ্জামান সরকার, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ইতোপূর্বে আমেরিকা, ফ্রান্সসহ মানিকগঞ্জ, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জে এবং ঢাকার ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলের শিক্ষক কর্তৃক রাসূল (সা.)-এর অবমাননার বিচার না হওয়ায় নাস্তিক-মুরতাদরা বেপরোয়া হয়ে আমাদের প্রাণের স্পন্দন হযরত মুহাম্মদ (সা).কে নিয়ে অব্যাহতভাবে অবমাননা করে যাচ্ছে। নববই ভাগ মুসলমানের দেশে এই অবমাননা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। আন্দোলনের ঢাকা মহানগরী আমীর মোস্তাফা বশীরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্দোলনের মুহ্তারাম আমীর ড. মওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এম সাখাওয়াত হুসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী বলেন, যে ইহুদী কুলাঙ্গার মহানবী (সা.)-এর অবমাননায় সিনেমা তৈরি করে বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে, তার পক্ষে বাক-স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উল্টো মুসলমানদের সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে দেশে দেশে নতুন করে আগ্রাসন চালানোর পাঁয়তারা করছেন। কাজেই আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ইহুদী-খ্রিস্টান চক্রের ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন প্রতিরোধ করার জন্য মুসলিম বিশ্বকে জাগ্রত হতে হবে।
এদিকে, জুমার নামাযের পর যমুনা ফিউচার পার্কের আশপাশের মসজিদ থেকে ‘মহানবী (সা.)কে অবমাননা প্রতিরোধ কমিটির' ব্যানারে মিছিল বের হয়ে মূল সড়কে আসে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধার মুখে তারা প্রগতি সরণীতে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে।
পুলিশের ব্যারিকেডের মধ্যে রাস্তার একপাশে এই সমাবেশ হয় বলে জানিয়েছে ভাটারা থানার ওসি জিয়াউজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘মিছিলের কারণে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাস্তার এক পাশ বন্ধ থাকায় যান চলাচল কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, চারজনের একটি প্রতিনিধি তার গাড়িতে করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে এসে একটি স্মারকলিপি দেয়।
অন্যদিকে নামাযের পর বিভিন্ন ইসলামী দলের আরো কিছু নেতাকর্মী গুলশান থেকে মিছিল নিয়ে মহাখালীর আমতলী মোড়ে গিয়ে সমাবেশ করে।
বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাইনুল ইসলাম জানান, নেতাকর্মীরা রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ সমাবেশ করে চলে যায়। এতে যান চলাচলে খুব একটা সমস্যা হয়নি।

