|
|
কামরুজ্জামান হিরু: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সুপার এইট পর্বে সাবেক চ্যাম্পিয়ন অষ্ট্রেলিয়া দারুন সূচনা করেছে। গতকাল শুক্রবার কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্টিত ম্যাচে শেন ওয়াটসন ও ডেভিড ওয়ার্নারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভারতকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারত সাত উইকেটে ১৪০ রান সংগ্রহ করে । অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভাল করতে ভারতীয় দল এদিন পাঁচজন স্পেলালিস্ট বোলার দিয়ে সাজানো হলেও সফলতা পায়নি ধোনী। অসিদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে ভারতের প্রতিষ্টিত বোলাররা কার্যকরী ভূমিকাই রাখতে পারেনি। তাই অধিনায়ক ধোনী এ ম্যাচে আটজন বোলার ব্যবহার করে ও ব্যর্থ হয়েছেন। বোলারদের প্রাধান্য দেয়ায় এদিন দলে জায়গা হয়নি শেহবাগের। তার বদলে উদ্ভোধনী জুটিতে গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করেন ইরফান পাঠান। উদ্ভোধনী জুটিতে খেলতে নামা ইরফানই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন। তিনি ওয়াটসনের বলে হোয়াইটের তালুতে বন্দী হবার আগে ত্রিশ বলে একটি ছক্কা ও দুটি বাউন্ডারী হাঁকিয়ে উল্লেখিত রান করেছিলেন। তার আগেই ভারতীয় শিবিরে ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়। গৌতম গম্ভীর (১৭) রান আউট হয়ে সাজ ঘরে আসেন। তারপর পাঠানের সাথে জুটি গড়েন কোহেলী। এটাও খুব বেশী স্থায়ী হয়নি। কমেন্সের বলে ক্রিশ্চিয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে কোহেলী দলকে (১৫) রান দিয়ে যান। দশম ওভারে বল করতে এসে ওয়াটসন ভারতীয় শিবিরে আতঙ্কে পরিনত হন। এই ওভারের প্রথম বলে যুবরাজ সিং (৮) ও শেষ বলে পাঠানকে (৩১) ফিরিয়ে দেন। এগারো তম ওভারের প্রথম বলে শরমা (১) ফিরে গেলে মাত্র ৭৪ রানে ভারত হারায় পাঁচ উইকেট। এসময় রানের চাকা কিছুটা সচল করতে চেষ্টা করেন ধোনী ও রায়না জুটি। দলীয় ১০৪ রানে ভারতীয় অধিনায়ক ধোনী কমেন্সের বলে বেইলীর তালু বন্দী হন (১৫)। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তুলে (১৯ বলে ২৬) রাইনা ওয়াটসনের বলে ম্যাক্সওয়েলের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজ ঘরে ফিরেন। বোলিংয়ে ওয়াটসন ৩৪ রানে তিনটি কমিন্স ১৬ রান খরচায় দটি উইকেট নেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ১৪ ওভার ৫ বলে ১ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান করে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় । ১৩ ওভার ৩ বলে প্রথম উইকেট হারায় অষ্ট্রেলিয়া। ওয়াটসনের সঙ্গে ওয়ার্নারের ১৩৩ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয় নিশ্চিত করে। শুরুতে কিছুটা ধীর স্থির হয়ে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভারতের বোলারদের ওপর চড়াও হন ম্যাচ সেরা ওয়াটসন। যুবরাজ সিংয়ের বলে বদলি ফিল্ডার মনোজ তিওয়ারীর হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেয়ার আগে এই অলরাউন্ডার ৭২ রান করেন । ওয়াটসনের ৪২ বলের ইনিংসে সাতটি ছক্কা ও দুটি বাউন্ডারীর মার ছিল। ওয়াটসন সাজ ঘরে ফিরে গেলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন ওয়ার্নার। তিনি ৪১ বলে তিনটি ছক্কা ও সাতটি বাউন্ডারীর সাহায্যে ৬৩ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন।

