Quantcast
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৮১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বাংলাদেশকে পানিতে ডুবিয়ে মারার ফন্দী

এবার কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর উজানে ড্যাম নির্মাণ করছে ভারত

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী এম ভিরাপ্পা মইলি সম্প্রতি শিলঙে নেপকো হেডকোয়ার্টার প্রাঙ্গণে ৮৫ মেগাওয়াট মাওপো আইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ছবি: ইন্টারনেট

কবির আহমদ/মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সিলেট : টিপাইমুখ এবং সারি নদীর ধারাবাহিকতায় এবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দেশের সর্ববৃহৎ পাথরকোয়ারী ভোলাগঞ্জের ধলাই নদীর উজানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ড্যাম নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ভারত সরকার। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী এম বীরাপ্পা মইলি এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নর্থ ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড (এনইইপিসিও) সংক্ষেপে নেপকো এটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের অধীনে উমইউ নদীর ওপর ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষম মাওপু ড্যাম নির্মাণ করা হবে। উমইউ নদী বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে ধলাই নাম ধারণ করেছে। ড্যাম নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অনুষদের ডিন এবং সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডঃ আখতারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এটা বাংলাদেশকে পানিতে ডুবিয়ে মারার কৌশল।

শিলং টাইমস, মেঘালয়া টাইমস, মেঘালয়া গার্ডিয়ানসহ একাধিক পত্রিকার ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী প্রকল্প স্থানের পরিবর্তে শিলং-এ অবস্থিত নেপকোর সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মুকুল সাংমা এবং রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী এ টি মন্ডল উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলো ভারতের বিদ্যুৎ শক্তির আধার। বারতম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সরকার পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। উমইউ নদীর ওপর ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ড্যাম নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪শ' ৫৩ কোটি টাকা। ৪১ মিটার উঁচু কংক্রীটের ১৫০ মিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর রিজার্ভারের ধারণ ক্ষমতা ১১২ লাখ কিউবিক মিটার। প্রকল্পের আওতায় ৪২.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দু'টি বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণ করা হবে। যে গ্রামে সেটি নির্মিত হবে তা হচ্ছে চেলা-ভোলাগঞ্জ ব্লকের মাওপু গ্রাম। এটি মেঘালয়ের ইষ্ট খাসি হিলস ডিস্ট্রিকের জেলা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার এবং মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে। প্রত্যন্ত এ গ্রামটি কমলা উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এই গ্রামে ১৩৯টি পরিবারের লোকসংখ্যা ৭৩৭ জন। এটি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীর কাছাকাছি। প্রত্যন্ত অঞ্চল বিধায় বাঁধের নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে শিলংয়ে নেপকোর সদর দফতরেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়। ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন নেপকো উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলোতে একাধিক পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও এই প্রথমবার মেঘালয় রাজ্যে পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। যদিও নেপকোর সদর দফতর মেঘালয়ের শিলংয়ে অবস্থিত। আগামী ৪ থেকে সাড়ে ৪ বছরের মধ্যে বাঁধটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী দুই/আড়াই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য কোম্পানির কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ২০০৭ সালে নেপকো ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ড্যাম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চলতি বছরের এপ্রিলে মেঘালয় সরকার ও নেপকোর কর্মকর্তাদের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎমন্ত্রী এম ভিরাপ্পা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন। উমইউ নদীর ওপর মাওপু হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্ট স্টেইজ-২ মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসি হিলস্ ডিস্ট্রিকের মাওপু গ্রামের কাছে নির্মিত হবে। এজন্য গ্রামের নামের সাথে মিল রেখে প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে ৮৫ মেগাওয়াট মাওপু হাইড্রেল প্রজেক্ট। মাওপু গ্রামের পুরো নাম লুমসকুল মাওপু। যা এখন মাওপু নামে পরিচিত। উমইউ নদী শিলং পিক ও চেরাপুঞ্জির বৃষ্টির জলধারা বয়ে নিয়ে আসে। এটি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সীমান্তে ধলাই নামধারণ করে। এরপর কোম্পানীগঞ্জের ভেতর দিয়ে ১০/১১ কিলোমিটার এগিয়ে উপজেলা সদরের কাছে সীমান্তের অন্য নদী পিয়াইনের সাথে মিশেছে। এখানকার হাওরের জলধারা নিয়ে ধলাই-পিয়াইন নদী ছাতকের কাছে সুরমা নদীতে মিলিত হয়েছে। ধলাই-পিয়াইন নদী সুরমার অন্যতম উপনদী।

সিলেটের ডাক-এর সাথে আলাপকালে প্রফেসর আখতারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভারত সীমান্ত বরাবর অনেক ড্যাম নির্মাণ করছে। এসব ড্যাম নির্মাণের পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ড্যামের মাধ্যমে পানি আটকে রাখাই ভারতের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে অতিবৃষ্টির সময় বেশি পরিমাণ পানি ছেড়ে দেয়া হবে। আর গ্রীষ্ম ও শীতকালে পানি না ছেড়ে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করা হবে। এর ভয়াবহতায় শুকিয়ে যাবে হাওর-বাওর। কমে যাবে ধানের উৎপাদন। বিলুপ্ত হবে জলজ প্রাণি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এম তৈয়বুর রহমান বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীর প্রাকৃতিক উৎস বিনষ্ট হবে এবং পাথর শূন্য হয়ে পড়বে কোয়ারি। প্রসঙ্গত, ভোলাগঞ্জের ধলাই নদীর উৎসমুখে দেশের অন্যতম পাথর কোয়ারী। এখান থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা মূল্যের পাথর আহরণ করা হয়। গত এক যুগ ধরে উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে শীতকালে এর জলধারা অনেকটা শুকিয়ে যায়। তবে বর্ষায় মেঘালয়ে একাধিক ঝর্ণা ধারার পানি ধলাই নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। আগে ঢলের সাথে বিপুল পরিমাণ পাথর নেমে আসত। বর্তমানে পাথর আসার পরিমাণ কমে গেছে। এর আগে মেঘালয় রাজ্য সরকার সারি নদীর উজানে ড্যাম তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। পাশাপাশি বরাক নদীর উজানে টিপাইমুখেও বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এ কারণে সিলেটে মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকা করছেন পরিবেশবাদীরা।