Quantcast
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩১০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

রাবিতে আক্রান্তদের বিরুদ্ধে ২টি মামলা

প্রকাশ্য অস্ত্রধারী ছাত্রলীগের ব্যাপারে নীরব পুলিশ \ উল্টো শিবির পাকড়াও অভিযান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপর ছাত্রলীগের গুলীবর্ষণের ঘটনায় কোন মামলা না হলেও হামলার শিকার শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দু'টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কোন ভূমিকা গতকাল সন্ধ্যে পর্যন্ত দেখা যায়নি। গতকাল বুধবারও ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে ক্যাম্পাসে কোন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি।

গত মঙ্গলবার প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ ও শত শত মানুষের সামনে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা পিস্তল উঁচিয়ে অর্ধশত রাউন্ড গুলী ছোঁড়ে। অন্যান্য দেশী ধারালো অস্ত্রেও বিপুলভাবে সজ্জিত হয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়াও দেয়। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উল্টো পুলিশ শিবির কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার মধ্য রাতের দিকে নগরীর মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করে ছাত্রলীগের রাবি শাখার যুগ্ম-সম্পাদক সুদীপ্ত আসলাম। শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ইমন ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়াসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৮০/৯০ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে মতিহার থানায় রাবির ঘটনায় শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতিসহ শতাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক  তৌহিদ আল তুহিন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম ইমনসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো শতাধিক কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ‘ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর বিভিন্ন ছাত্রাবাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিবিরকর্মী সন্দেহে আটক অভিযান অব্যাহত রাখে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার ঘটনার পর থেকে রাত পর্যন্ত বিনোদপুর, কাজলা, ধরমপুর ও মির্জাপুরে অভিযান চালিয়ে ২২ শিবিরকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এরা হলেন, জাহাঙ্গীর আলম (সংস্কৃত, তৃতীয় বর্ষ), শরীফুল ইসলাম শরীফ (ইসলামী ইতিহাস বিভাগ, মাস্টার্স), তৌহিদুর রহমান (ইসলামের ইতিহাস, মাস্টার্স), আব্দুল হান্নান (আরবি, চতুর্থ বর্ষ) ও মোসাদ্দেক আলী (আরবি, প্রথম বর্ষ)। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ও শরীফুল ইসলাম শরীফ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার বাকি নেতাকর্মীদের জিজ্ঞসাবাদের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম মনিরুজ্জামানের কাছে একজন সাংবাদিক জানতে চান, ক্যাম্পাসে যারা প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে গুলীবর্ষণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা তাদের গ্রেফতার করা হবে কিনা। উত্তরে তিনি জানান, মঙ্গলবার ঘটনা ঘটেছে মতিহার থানার অধীনস্থ এলাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কাজেই ওই থানার ওসি ইচ্ছে করলে মামলা করতে পারেন। তার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে, সামনে পেলে অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে বুধবারও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। সকাল সোয়া ৮টায় বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। অনেকেই আতঙ্কে ক্যাম্পাসে আসছে না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।