|
|
৮ অক্টোবর সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ
স্টাফ রিপোর্টার : একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে সরকার দেশকে অস্থিতিশীল করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ক্ষমতায় থাকার নীল কশা বাস্তবায়ন করতে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণে হীন অপচেষ্টা করে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে চায়।’’
এ সময় তিনি নেত্রকোনায় বিএনপি নেতা মির্জা আববাসের গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে পুলিশের হামলা, অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা এবং যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ প্রায় শতাধিত নেতাকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি।
৮ অক্টোবর সোমবার ঢাকাসহ সারাদেশের সকল মহানগর ও জেলাগুলোতে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নেত্রকোনায় মির্জা আববাসের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন থানায় দুটি মামলা করেছে পুলিশ। এতে অর্ধশতাধিক নামে এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় আড়াই হাজার লোককে আসামী করা হয়েছে। কর্মসূচির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ৮ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। এ সময় ১০ অক্টোবর ১৮ দলের সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ১৭ অক্টোবরের গণমিছিল হবে এবং ৬ অক্টোবর হবিগঞ্জে খালেদা জিয়া জনসভাও অনুষ্ঠিত হবে। বরিশালে ৯ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৪ নভেম্বর খালেদা জিয়ার জনসভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান ফখরুল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার নেত্রকোনায় ১৮ দলীয় জোটের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে পুলিশের ছত্রছায়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মির্জা আববাসের গাড়ি বহরে হামলা করে। এর প্রতিবাদে নয়াপল্টনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে সরকারের মদদপুষ্ট লোকেরা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ও ভাঙচুর চালায়। কিন্তু পুলিশ অতর্কিত বিক্ষোভ মিছিলে টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে মিছিল পন্ড করে দেয়। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয় এবং গতকালই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের নামে তিনটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পুলিশ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার, আটককৃতদের মুক্তি ও আহতদের সুচিকিৎসার দাবি করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা, বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আসিফা আশরাফি পাপিয়া, রেহেনা আক্তার রানু, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারি বাবু, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল।
রামুর ঘটনাকে সরকারের নীলনকশার অংশ দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে সরকার সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সরকার একতরফাভাবে বিরোধী দলকে এ ঘটনায় দায়ি করলেও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও ছবিতে প্রমাণ হয়েছে যে, সরকারি দলের অঙ্গ
সংগঠনের নেতাকর্মীরা রামুর ঘটনায় জড়িত।’’ দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘‘অবিলম্বে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিন। দেশকে সংঘাতের হাত থেকে বাঁচান। অন্যথায় এর সব দায়দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।’’
হলমার্কসহ সরকারের দুর্নীতির কারণে জনগণের নজর ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিরোধী নেতাদের রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এ মামলা দেয়া হয়েছে।’’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নেত্রকোনায় মির্জা আববাসের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন থানায় দুটি মামলা করেছে পুলিশ। এতে অর্ধশতাধিক নামে এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় আড়াই হাজার লোককে আসামী করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা সচেতনভাবে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করছে।’’ সরকারের কৌশলের সঙ্গে বিরোধী দলের আন্দোলনের কৌশলের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক এই নেতা বলেন, ‘‘যারা আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায় তারা আমাদের আন্দোলনকে নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু আমরা মনে করি আমাদের কৌশল ঠিক আছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবে।’’
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু, সৈয়দা আসিফা আশরাপি পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, জাসাস সভাপতি এম এ মালেক উপস্থিত ছিলেন।

