|
|
রফিকুল ইসলাম : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মাঠে নামছে পাকিস্তান। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক শ্রীলংকা। কলম্বো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ম্যাচটি শুরু হবে। আগামীকাল একই মাঠে একই সময়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ম্যাচটি হবে অস্ট্রেলিয়া আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হলেও সেমিতে ঠাই পাওয়া চারটি দল নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে উঠেছে তা বলতেই হবে। ফলে সেমিফাইনালেও জমজমাট লড়াইয়ের আশা করতেই পারে ক্রিকেট ভক্তরা। আর আজ প্রথম সেমিফাইনালেই সেই আগুন ম্যাচ উপহার দিতে পারে এশিয়ার দুই ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তান-শ্রীলংকা। আজকের ম্যাচে স্বাগতিক হিসেবে শ্রীলংকা একটু এগিয়ে থাকলেও পরিসংখ্যানে এগিয়ে পাকিস্তানই। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তানের আছে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা আর জয়ের রেকর্ড। পাকিস্তান সর্বোচ্চ ২৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে জয়ও পেয়েছে সর্বোচ্চ ১৬টি। আর শ্রীলংকা ২৩টি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে ১৫টি ম্যাচে। উভয় দল একে অপরের বিরুদ্ধে ৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে পাকিস্তান ৬টি ম্যাচে আর শ্রীলংকা তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের আছে একবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড। অবশ্য এখনও শ্রীলংকা শিরোপা জয় করতে পারেনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তবে সব হিসেব আর পরিসংখ্যান মুছে যায় মাঠের পারফরমেন্সে। না হলে সেমির আগেই বিদায় নিতে হয় চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড আর সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভারতকে। আজকের ম্যাচে ফাইনালে ওঠার প্রতিযোগিতায় দুটি দলই শক্তিতে আছে সমপর্যায়ে। খেলার ধরন, উইকেট আর আবহাওয়ার সাথে সবভাবেই অভ্যস্ত। এশিয়ার কন্ডিশনে বেড়ে ওঠা দল দুটিতে তাই মাঠের পারফরমেন্সের দিকেই নজর দিতে হচ্ছে। কারণ দিনটি যে দল নিজেদের করে নিতে পারবে ফাইনালের টিকিট পাবে সে দলটিই। গ্রুপ পর্ব আর সুপার এইটে স্বাগতিক শ্রীলংকা একটি ম্যাচে হেরেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারলেও জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সুপার এইটে উঠেছে। সুপার এইটের তিনটি ম্যাচে হারিয়েছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডকে। অপর দিকে পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে কোন ম্যাচ হারেনি। বাংলাদেশ আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে উঠেছে। সুপার এইটে পাকিস্তান ভারতের কাছে হারলেও দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে হারিয়ে রান রেটে ভারতকে পিছনে ফেলে সেমিফাইনালে উঠেছে। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১১৭ রান বেঁধে ফেলার ম্যাচ দেখে অবাক হয়েছে অনেকেই। বিশেষ করে পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণই আজ ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে পাকিস্তানকে। সাঈদ আজমল, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, শহীদ আফ্রিদি, রাজা হাসান আর ওমর গুলই বোলিং আক্রমণে দলকে এগিয়ে রাখতে পারে। সেই সাথে ব্যাটিংয়েও বর্তমান পাকিস্তান দারুণ শক্তিশালী। বোলিংয়ে শ্রীলংকা যে দুর্বল তা কিন্তু নয়। লাসিথ মালিঙ্গা, অজান্তা মেন্ডিস, জীবন মেন্ডিসও কম যায় না। ব্যাটিংয়ে দু'দলই আছে বেশ কয়েকজন সেরা ব্যাটসম্যান। ফলে মাঠের পারফরমেন্সেই বলে দিবে ২০০৯ সালের ফাইনালের মত শ্রীলংকাকে বিদায় করে দিবে পাকিস্তান। নাকি সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিবে শ্রীলংকা পাকিস্তানকে ফাইনালের আগেই বিদায় করে। আর এটা হলে এবার নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দেখা যাবে চতুর্থ আসরে। তবে চারটি আসরের চারটিতেই সেমিতে ওঠা পাকিস্তানকে বিদায় করে ফাইনালে ওঠার পথ মোটেও সহজ নয় শ্রীলংকার জন্য। বরং পরিসংখ্যান মাঠে নামার আগে কথা বলছে পাকিস্তানের পক্ষেই।

