|
|
সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষীকে আইনজীবী
সামছুল আরেফীন : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির আইনজীবী এডভোকেট আহসানুল হক হেনা জেরাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১৪ নম্বর সাক্ষী গোপাল চন্দ্র দাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একটি কুচক্রি মহল ভারত থেকে আপনাকে ঢাকায় এনে এক মাস রেখে শিখিয়ে ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে এনেছে। এ সময় তিনি বলেন, এ কথা সত্য নয়।
গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়। জেরায় আহসানুল হক হেনাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, এডভোকেট রেজাউল করিম ও আল ফেসানী। এ মামলার কার্যক্রম আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
এ সময় সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ :
প্রশ্ন: কুন্ডেশ্বরী মন্দিরের সামনে উঠান আছে?
উত্তর: আছে। ১৯৭১ সালে তার পাশে অন্যান্য ভবনের সামনে আরেকটি বিস্তৃত উঠান ছিল।
প্রশ্ন: রাঙ্গামাটি রোড থেকে কুন্ডেশ্বরী যাওয়ার রাস্তা কী?
উত্তর: ইটের কংকর বিছিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল বৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: মনে নেই।
প্রশ্ন: চাষাদের জন্য নতুন বাবুর বাড়িতে নির্দিষ্ট ঘর ছিল?
উত্তর: থাকতে পারে।
প্রশ্ন: তখন কী ইরির মওসুম ছিল, ধান কাটার সময়?
উত্তর: চাষ হয়েছিল, তবে পাকেনি।
প্রশ্ন: আপনি কয় তারিখ, কোন পথে ভারতে গিয়েছিলেন?
সাক্ষী এ সময় বার বার তিনি ভারতে যাওয়ার পথে কোন জায়গায় কত দিন ছিলেন, কী করেছেন তা বলতে থাকেন। ট্রাইব্যুনাল বলে, প্রশ্ন ছিল কোন পথে গিয়েছেন। আপনি শুধু সেটাই বলবেন।
তার পর সাক্ষী বলেন, বাড়ি থেকে ফটিকছড়ি যাই, সেখান থেকে সাবরুম হয়ে ভারতে যাই। ২৭ এপ্রিল রওনা দিয়ে ২৮ এপ্রিল ভারতে পৌঁছাই।
প্রশ্ন: ১৩-২৭ এপ্রিলের মধ্যে কুন্ডেশ্বরী মন্দিরে গিয়েছিলেন?
উত্তর: শুধুমাত্র ভারতে যাওয়ার পথে কমপ্লেক্সের সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া আর যাইনি।
প্রশ্ন: ভারতে প্রবেশ করার পূর্বে সাবরুম থেকে পাস দেয়া হয়েছিল?
উত্তর: বাংলাদেশ থেকে পাস দেয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন: সেই পাসটা তদন্ত কর্মকর্তাকে দেখিয়েছিলেন?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: আপনি ১৯৭১ সালের ভারতে যাননি, বাড়িতেই ছিলেন।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনি স্বাধীনতার পর কুন্ডেশ্বরীতে কোন কোন ভবনে গুলী দেখেছিলেন?
উত্তর: মনে নেই।
প্রশ্ন: কুন্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়ে গুলীর দাগ দেখেছিলেন?
উত্তর: ওখানে দাগ ছিল না।
প্রশ্ন: ৪১(১)৭২ নাম্বারে নতুন বাবু হত্যা নিয়ে মামলা হয়েছিল, আপনি তা জানেন?
উত্তর: জানি।
প্রশ্ন: মামলা দায়েরের সময় আপনি থানায় গিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: মামলায় ফজলুল কাদের চৌধুরীকে আসামী করা হয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: ২/৫/৮০ তারিখে সরকারের নির্দেশে পাবলিক প্রসিকিউটর মামলাটি প্রত্যাহার করলে, তা প্রত্যাহার করে সব আসামীকে খালাস দেয়া হয়, আপনি তা জানেন?
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: সেই মামলাটি দায়ের করেছিল সত্য রঞ্জন সিং?
উত্তর: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: মামলার এজহার পড়েছিলেন?
উত্তর: পড়েছি, তবে মনে নেই।
প্রশ্ন: সত্য বাবুদের বাড়িতে লুটপাট নিয়ে ৪২(১)৭২ নং মামলা হয়েছিল, আপনি তা জানেন?
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: উনাদের বাড়ি ও গাড়ি লুট হয়েছিল কি?
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: আপনি সেই গোপাল নন, যেই গোপাল চন্দ্র দাস সেই মামলার সাক্ষী হয়েছিল।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দী নেয়ার সময় আপনার ছবি নিয়েছিল?
উত্তর: মনে নেই।
প্রশ্ন: আপনি কোন ছবি উনাকে দিয়েছিল?
উত্তর: মনে নেই।
প্রশ্ন: পাকিস্তান আর্মি চলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর ফিরে আসার আগে নতুন সিংহকে আপনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, আর্মিরা তাকে কী বলেছে?
উত্তর: কথা বলার সুযোগ পাইনি। কারণ আমি দোতলায় ছিলাম।
প্রশ্ন: দোতলার সব কক্ষ বন্ধ ছিল, আপনার পক্ষে সে সব কক্ষে ঢুকার সুযোগ ছিল না।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: দোতলায় ৭/৮ ফুট প্রশস্ত বারান্দা ছিল?
উত্তর: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: পুরো বারান্দায় ৩/৪ ফুট উচু রেলিং ছিল?
উত্তর: আংশিক রেলিং ছিল।
প্রশ্ন: আসলে কোন রুম থেকে মন্দিরের সামনের অংশ দেখার সুযোগ ছিল না।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: মন্দিরে যে মূর্তি সংরক্ষিত ছিল, তা কী স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো ছিল?
উত্তর: অলংকার ছিল, স্বর্ণ কি না জানি না।
প্রশ্ন: মন্দিরের পুরোহিতের নাম কী?
উত্তর: ভুলে গেছি।
প্রশ্ন: ঘটনার দিন পুরোহিতকে দেখেছেন?
উত্তর: দেখিনি।
প্রশ্ন: চৌধুরী সাহেব গাড়ি থেকে নামার সময় আর্মি সাথে ছিল?
উত্তর: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: ‘ঐ সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, ঐ আবদুল মাবুদ' এ কথা কে বলেছে?
উত্তর: মনে করতে পারছি না।
প্রশ্ন: এই কথাগুলো তদন্ত কর্মকর্তা আপনাকে শিখিয়েছে।
উত্তর: সত্য নয়। এরপর তিনি বসা অবস্থা থেকে দাঁড়িয়ে বলেন, চিরকাল আমরা শিখালাম, এখন আপনি বলছেন, তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে শিখিয়েছে। (তবে এই অংশটুকু রেকর্ড করেননি ট্রাইব্যুনাল)
প্রশ্ন: যখন আপনি সেখানে আসেন, তখন নতুন বাবুর সাথে কতজন ছিল?
উত্তর: আমরা ৫জন ছিলাম।
প্রশ্ন: আর্মি ৫ জনের সাথে কথা বলেছিল?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: আপনি দৌড়ে, নাকি হেটে হেটে দোতলায় উঠেছিলেন?
উত্তর: ২জন দৌড়ঝাপ করে উঠি।
প্রশ্ন: আর্মি আপনাদের গুলী করেছিল?
উত্তর: আর্মি সম্ভবত আমাকে দেখেনি।
প্রশ্ন: ঘটনার পর বাকী ৪জনের খবর নিয়েছিলেন?
উত্তর: না, কোন কথা হয়নি। আমি তো তড়িঘড়ি করে দৌড়ে পালাই।
প্রশ্ন: ঘটনার পর বাড়িতে গিয়ে তা কোন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে বলেছিলেন?
উত্তর: পরদিন বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও পরিবার পরিজনকে জানিয়েছিলাম, অন্য কাউকে জানাইনি।
প্রশ্ন: কদলপুর গ্রামের সেই ছাত্রের নাম কি, যার বাড়িতে আপনি ছিলেন?
উত্তর: নাম বলতে পারছি না।
প্রশ্ন: ভারতে থাকা অবস্থায় প্রফুল্ল বাবু, চিত্ত বাবু ও সত্য বাবুর সাথে দেখা হয়েছিল?
উত্তর: না। কারণ আমি ক্যাম্পে ছিলাম।
প্রশ্ন: আপনি ১৩ তারিখ কুন্ডেশ্বরী কমপ্লেক্স বা তার আশপাশে ছিলেন না।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: একটি কুচক্রি মহল ভারত থেকে আপনাকে ঢাকায় এনে একমাস রেখে শিখিয়ে ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা সাক্ষী দিতে এনেছে।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: ঘটনার দিন কুন্ডেশ্বরীর সামনের রাস্তায় আর্মি কোন লোক মেরেছিল?
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: আসলে ১৩ এপ্রিল কোন ঘটনা ঘটেনি, প্রফুল্ল বাবু ও অন্যান্যরা রটনাকে ঘটনা হিসেবে সাজিয়েছে।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: ঘটনার দিন সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী ঘটনাস্থলে যাওয়া, পিস্তল বা রিভলবার থেকে ২/৩ রাউন্ড গুলী করেছেন, এটা সত্য নয়, সাজানো কথা।
উত্তর: সাজানো নয়।
প্রশ্ন: কথিত দিনে, কথিত স্থানে, কথিত প্রকারে কোন ঘটনা ঘটেনি।
উত্তর: সত্য নয়।

