Quantcast
ঢাকা, রোববার 7 October 2012, ২১ আশ্বিন ১৪১৯, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৮৭৯ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

হবিগঞ্জের বিশাল জনসভায় খালেদা জিয়া

বিশ্বচোর ও বিশ্ব বেহায়ার কবলে আজ বাংলাদেশ

গতকাল শনিবার ১৮ দলের উদ্যোগে হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ডে আয়োজিত জনসমুদ্রে ভাষণ দেন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছবি-এ.কে.এম. মুসা

0 নির্দলীয় ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হবে না 0 ঈদের পর আন্দোলন বাধা দিলে কঠিন পরিণতি

0হলমার্ক লুটের টাকা সরকারের লোকজনই খেয়েছেO আগামীতে দুদককে ধরা হবে

 0পদ্মা সেতু শুরুর আগেই দুর্নীতি হয়েছে 0ওআইপি দুর্নীতিতে বামদলীয় মন্ত্রীর ছেলে জড়িত

0সরকারই ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে0

 মোহাম্মদ জাফর ইকবাল/ কবির আহমদ/আবদুর রউফ সেলিম, হবিগঞ্জ থেকে : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া আবারো সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, নির্দলীয় সরকার ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, যদি আপনাদের এতই জনপ্রিয়তা থাকে তাহলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। তিনি বলেন, দাবি আদায়ে ঈদের পর ১৮ দল আন্দোলন নিয়ে নির্ভয়ে এগিয়ে যাবে। আন্দোলনে কোনো বাধা কিংবা মামলা দেয়া হলে তার পরিণতি হবে কঠিন এবং ভয়াবহ। সরকারকে সে জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকারকে ‘আন্তর্জাতিক চোর' আখ্যায়িত করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, আজ বিশ্বচোর ও বিশ্ব বেহায়া (এরশাদ) এক হয়েছে।  বিশ্ব বেহায়া ও বিশ্ব চোরের কবলে পড়েছে বাংলাদেশ। এদের হাত থেকে দেশকে বাচাতে হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে মাসব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার বিকেলে হবিগঞ্জে নিউফিল্ড মাঠের বিশাল জনসভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে খালেদা জিয়া সরকারের দুর্নীতি এবং দুঃশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে হবিগঞ্জের জনসভার মঞ্চে ওঠেন তিনি। এ সময় লক্ষাধিক জনতা খালেদা জিয়াকে মুহুর্মূহু শ্লোগানে স্বাগত জানায়।

বক্তব্যের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

হলমার্কের দুর্নীতি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, হলমার্ক সোনালী ব্যাংক থেকে চার হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। সরকারের লোকজনই এই টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছে। কাউকেই ধরা হয়নি। দুদক বলে, এরা হলো তিমির হাঙ্গর তাই ধরা যাচ্ছে না। কিন্তু দুদক বিরোধী দলকে ঠিকই হয়রানি করছে। আগামীতে এই দুদককেই ধরা হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, পদ্মা সেতু শুরুর আগেই দুর্নীতি হয়েছে। কানাডায় বসবাসকারী ‘জামাই বাবু' সব টাকা ভাগ ভাটোয়ারা করে নিয়েছে। পদ্মা সেতুতে সরকার ৩০০ কোটি টাকা লুটপাট করেছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই আজ দুর্নীতির সাথে জড়িত।

হবিগঞ্জ-সিলেটের সব উন্নয়ন বিএনপির সময়ে হয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ভোট দিয়ে আ'লীগকে এমপি বানাবেন কিনা আপনারা ভেবে দেখুন। তাহলে কোনো উন্নয়ন হবে না। বিএনপির এমপি হলেই উন্নয়ন হবে। আমরা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের দল। এই দলকে ভোট দিলেই কেবল দেশের উন্নয়ন হবে। আ'লীগ শুধু লুটপাট করে। চুরি আর দুর্নীতি ছাড়া আ'লীগের কিছু নাই।

ভিওআইপি ব্যবসায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে খালেদা জিয়া বলেন, যারা প্রকৃত লাইসেন্সধারী তারা ব্যবসা করতে পারছে না। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের লুটপাটের কারণে সরকারের প্রতিদিন ১২ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। সরকারের একজন সদ্য বাম দলীয় মন্ত্রীর ছেলে এই ব্যবসার সাথে জড়িত। সরকারের লোকেরা জড়িত বলেই এ খাতের দুর্নীতিবাজদের ধরা হচ্ছে না। এ সময় তিনি এ সংক্রান্ত খবর সম্বলিত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা প্রদর্শন করেন।

সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ইলিয়াস আলী কোথায় তা জানতে চাই। ইলিয়াস আলীকে অবিলম্বে ফেরত চাই। সরকারই তাকে গুম করেছে। ইলিয়াস আলীর কিছু হলে কেউই মাফ পাবে না। সারা জীবন আপনারা ক্ষমতায় থাকবেন না। এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং শাস্তি ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, আজ প্রতিনিয়ত দেশে হত্যা, যখম, গুম হচ্ছে। কেউ রাস্তায়, কেউ ঘরে গুম হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে ‘দুর্নীতিবাজ' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ মন্ত্রীর ১৭ বছর জেল হয়েছিল। তাকে দিয়ে কিছু হবে না।

রামুতে বৌদ্ধ বসতিতে হামলার ঘটনায় সরকারদলীয় লোকদের দায়ী করে খালেদা জিয়া বলেন, এই ঘটনায় সরকার ও তাদের দলীয় লোকজনই জড়িত। কিন্তু ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরা হচ্ছে এবং মামলা দেয়া হচ্ছে। বিএনপি সন্ত্রাস- অরাজকতায় বিশ্বাস করে না। বিএনপি নেতারা হামলায়  ক্ষতিগ্রস্তদের পাশেই দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ছাত্র লীগের সন্ত্রাসীরা অস্ত্র, পিস্তল উঁচিয়ে সেখানে শিবিরের ছেলেদের তাড়া করেছে, গুলী করেছে। ছাত্রলীগ রাবির হলগুলোকে অস্ত্রাগারে পরিণত করেছে। অস্ত্র জমা করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য কি? তারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়। আর এসব অস্ত্র এসেছে আশপাশ থেকেই।  চারদিকে চলছে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ব্যবস্থা নিবে কি করে প্রত্যেকেই চোর। তাই ছাত্র লীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার আজ আন্তর্জাতিক চোর হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। স্বৈরাচার আন্দোলনের সময় শিল্পী কামরুল হাসান এরশাদকে  বিশ্ববেহায়া বলেছিল। সেই বিশ্ববেহায়া আর এখনকার বিশ্বচোর একসাথে হয়েছে। এদের কবলেই আজ দেশ। সবাই চুরি করছে। সুরঞ্জিত সেনের ড্রাইভার তার ১০ কোটি টাকা চুরির তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। এভাবে একেক মন্ত্রী একেকভাবে চুরি করছে। কেউ রেল, কেউ শেয়ার বাজার, কেউ ভিওআইপি ব্যবসায়। বিশ্বচোরের কবলে আজ বাংলাদেশ। এ চোরদের হাত থেকে দেশকে আমরা রক্ষা করবো। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনবো।

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশী হত্যা করা হচ্ছে। সরকার সেখানে কোন নিরাপত্তা দিতে পারছে না। সীমান্তে হত্যার কোনো প্রতিবাদ করার সাহসও করছে না এ সরকার। আসলে এ সরকারের অধীনে কারো জীবনই নিরাপদ নয়। সরকারের হাতে রাজনীতিবিদ, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, মা-বোন, ছেলে-মেয়ে কেউই নিরাপদ নয়। সেই সরকার জনগণের হতে পারে না। এ জন্য দরকার জনগণের সরকারের।

দলীয়করণ প্রসঙ্গে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেত্রী বলেন, নিজেরা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে সরকার সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করেছে। বিচার বিভাগকেও দলীয়করণ করেছে। সেখানে আজ কোন ন্যায়বিচার নেই। টেলিফোন করে জেল-রিমান্ড সম্পর্কে তাদের বলে দেয়া হয়। পুলিশ প্রশাসন সব একটি জেলার। প্রশাসনের সর্বত্র আজ স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ভালো অফিসারদের ওএসডি অথবা বাদ দেয়া হয়েছে। সর্বত্র দুর্ভিক্ষ বিরাজ করছে। আ'লীগ মানেই যে দুর্ভিক্ষ তা তারা আবারো প্রমাণ করেছে। আ'লীগ ক্ষমতায় এসেছে চুরি-লুটপাটের জন্য। এদের আর ক্ষমতায় রাখা যায় না।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকারর তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করে সংবিধান সংশোধন করেছে দলীয় লোকজন দিয়ে নির্বাচন করার জন্যে। কিন্তু এই তত্ত্বাবধায়ক এসেছিল তাদের কারণেই। এই দাবিতে তারা দিনের পর দিন জ্বালাও-পোড়াও ভাংচুর করেছে। বিএনপি তাদের দাবি মেনে নিয়ে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সংযোজন করেছিল। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। তারা যদি এত জনপ্রিয় হয়ে থাকে তাহলে তাদের এত ভয় কেন? কারণ তারা জানে, ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা এলাকায় গেলে লোকজন তাদের তাড়া করবে।

খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। আ'লীগ যা বলে তারা টিয়া পাখির মত সেই সুরেই কথা বলে। আওয়ামী লীগকে জঙ্গির আশ্রয়দাতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় এদেশে জঙ্গির উত্থান হয়েছে। যশোরে, রমনায়, সিপিবির সমাবেশে, কুষ্টিয়ায়, গোপালগঞ্জে তাদের সময় বোমা হামলা হয়েছে। সব জঙ্গির সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক আছে। বাংলা ভাই, শায়খ রহমানকে আমরাই ধরেছি। বিচার করেছি, শাস্তি দিয়েছি। বিএনপির সাথে জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নই।

পিলখানায় বিডিয়ার হত্যাকান্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারের নামে সেখানে প্রহসন চলছে। আসল খুনিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিছু শ্রমিককে ধরে বিচার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫০-৬০ জন মারা গেছে। মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলা হলেও তা মিথ্যা কথা। হত্যাকান্ডের সাথে আওয়আমী লীগের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত বাহিনী ও সোনবাহিনীকে দুর্বল করা।

বিএনপি কার্যালয় তিন দিন অবরুদ্ধ করে রাখার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, কিছু হলেই আমাদের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়। এভাবে আর চলতে দেয়া হবে না। আমরা কর্মসূচি পালন করে যাবো। সময় এসেছে জেগে উঠবার।

খালেদা জিয়া আগামীতে ক্ষমতায় গেলে একটি মডেল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রতি দিয়ে সিলেটবাসীর উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতায় গেলে যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। শিক্ষাঙ্গন সন্ত্রাস মুক্ত করবো। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। মডেল দেশ হবে বাংলাদেশ। বর্তমান ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ জেগে উঠবে।

খালেদা জিয়া যুবক-মা-বোন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানিয়ে সামনের দিনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ঈদের পর আমরা ১৮ দল মিলে নির্ভয়ে এগিয়ে যাবো। কোনো বাধা বা মামলা দেয়া হলে তার পরিণতি হবে কঠিন এবং ভয়াবহ। সেজন্য সরকারকে প্রস্তুত থাকতে হবে। 

পথে পথে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা : এদিকে সকাল সোয়া ১১টায় খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসা থেকে গাড়িবহর নিয়ে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হন। যাত্রাবাড়ীতে সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহমেদ ও সাবেক কাউন্সিলর নবী উল্লাহ নবীর সমর্থকরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়া জামায়াত-শিবিরের নেতৃবৃন্দ সংগঠনের আমীর মাওলানা মতিউর রহমাস নিজামীসহ আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেয়। কাঁচপুর ব্রিজ ও আশপাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকারের সমর্থকরা এবং কাঁচপুর ব্রিজ থেকে শুরু করে ভুলতা-গাউসিয়া পর্যন্ত জেলার সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনির সমর্থকরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। গাড়ির ভেতর থেকে হাত নাড়িয়ে নেতা-কর্মীদেও শুভেচ্ছার জবাব দেন। বিএনপির পাশাপাশি এসব স্থানে জামায়াত-শিবিরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী দলের আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেয়। এ সময় তাদের হাতে নেতাদের ছবি সম্বলিত লিফলেট ও বিলবোর্ড দেখা যায়। খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে মাধবদীতে ব্যাপক লোক সমাগম করেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন। রাস্তার দুই পাশে এমনকি বিল্ডিংয়ের ছাদে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। কথিত সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত দলের উপেক্ষিত সাবেক এমপি সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল রায়পুরায় তার সমর্থকদের নিয়ে ব্যাপক শোডাউন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর বিএনপির সভাপতি খালিদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সমর্থকরা আশুগঞ্জ থেকে সদরের মোড় পর্যন্ত রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। যানজটের কারণে দেরি হওয়ায় হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে না গিয়ে সোয়া ৪টায় সরাসরি জনসভা মঞ্চে ওঠেন তিনি। বক্তব্য শেষ করে যান সার্কিট হাউসে। সেখানে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি নিয়ে ২৫ বছর পূর্বে এরশাদ আমলে ১৯৮৭ সালে খালেদা জিয়া প্রথম হবিগঞ্জে আসেন। ওই সময় তিনি বক্তব্য রাখেন স্থানীয় জালাল স্টেডিয়ামে।

এরপর ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়া হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় একটি নির্বাচনী জনসভায় এবং ২০০৮ সালে জেলা শহরের পৌরসভা মাঠে অপর একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। ২০১২ সালের শুরুতে সিলেট অভিমুখী লংমার্চে যাওয়ার পথে শায়েস্তাগঞ্জে সর্বশেষ বেগম জিয়া বক্তব্য রাখেন। তাছাড়া সিলেট যাওয়ার পথে একাধিকবার তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, বাহুবল ও নবীগঞ্জে আয়োজিত পথসভায় তিনি ভাষণ দেন।

সকালের দিকে সূর্যের দেখা মিললেও সাড়ে ১০টা থেকেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। একটানা বৃষ্টি চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিএনপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। মিছিলের পর মিছিলে মুখরিত হয় হবিগঞ্জ শহর। দুপুর ২টার মধ্যেই জনসভাস্থল নেতাকর্মীদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর ১২টায় কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়। তারপর সমবেত কন্ঠে ১৮ দলীয় জোট নেতাকর্মীরা পরিবেশন করেন জাতীয় সংগীত। জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্জ সৈয়দ মোঃ ফয়সলের সভাপতিত্বে ও  সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আলহাজ্জ জিকে গউছের পরিচালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন- ইলিয়াছ আলী বর্তমান সরকারের হাতেই গুম হয়েছে। বিএনপি ও সিলেটবাসী তাকে অক্ষত অবস্থায় দেখতে চায়। তিনি বলেন, সুরঞ্জিত সেন অনেকের সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। আজ এই কুখ্যাত মন্ত্রীর থলের ভেতর থেকে কালো বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মির্জা আববাস বলেন, খালেদা জিয়া যে স্থানেই যান না কেন বৃষ্টি থাকলে অন্ধকার দূর হয়ে এলাকা আলোকিত হয়ে যায়। আর হাসিনার অন্ধকারে গোটা এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। জাতি আজ অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে মুক্তি চায়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রথমবারের মতো বেগম জিয়া আপনাকে মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যান, সাধারণ মানুষ আপনার সাথে রয়েছে। এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ এমপি বলেছেন, ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতায় আসা এ দু'টি কাজ নিয়ে শেখ হাসিনা মহাব্যস্ত। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, মানুষের অভাব অভিযোগ নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নাই। এই সরকারের হাতে দেশ, দেশের জনগণ আজ নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, ইসি, দুদক, বিচারপতিদের আসন, জেলা প্রশাসকের অফিস, ইউএনও অফিস আওয়ামী লীগের দলীয় অফিসে পরিণত হয়েছে। এই সরকারের লক্ষ্য প্রথম পর্যায়ে জামায়াতকে নিঃশেষ করে দেয়া। পরবর্তী টার্গেট বিএনপি নেতাদের মামলা দিয়ে জেলে পুরে দেয়া। আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা কক্সবাজারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, পুলিশ ও র‌্যাবকে নিজস্ব বাহিনী হিসাবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে এই সরকার। মন্ত্রী এমপি'র লোভ ছাড়িয়ে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ জাতি ও ইসলামকে রক্ষা করতে আজ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাগপার সভাপতি সফিউল আলম প্রধান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, ইলিয়াস আলীকে আপনি নিজের হাতে গুম করেছেন। ভবিষ্যতে বাংলার জনগণ আপনার চুল ধরে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে এর বিচার করবে। তিনি বলেন, আজ দেশে চোরের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। আজ শ্লোগান হচ্ছে, চোর চোর তিন চোর, শেখ হাসিনা বিশ্ব চোর। তিনি সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, মাওলানা নিজামী, মুজাহিদসহ আটককৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি করেন। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইব্রাহিম বীর বিক্রম হবিগঞ্জবাসীকে উদ্দেশ করে বলেন, শেখ হাসিনা এখন পালাবার পথ খুঁজছেন। তিনি হবিগঞ্জের রাস্তা দিয়ে জকিগঞ্জ বা তামাবিল দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। তাকে হবিগঞ্জের মাটিতেই প্রতিরোধ করতে হবে। তাকে পালানোরও সুযোগ দেয়া হবে না। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু বলেন- শেখ হাসিনা সোনালী ব্যাংকের চোরদেরকে গ্রেফতার করতে পারেন না। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেন। সুরঞ্জিত সেন চোর হলে তাকে রক্ষা করে শেখ হাসিনা হয়েছেন বড় চোর। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি মীমাংসিত ইস্যু জামায়াতের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে বর্তমান সরকার জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে।  বাংলাদেশের একটি মানুষ থাকতেও জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হবে না। আওয়ামী লীগের সেই খায়েশ কোনো দিনই পুরণ হবে না। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, নির্বাচন করতেও দেয়া হবে না। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ইলিয়াস আলীর সন্ধান দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, তারেক জিয়ার মেরুদন্ড এই সরকার ভেঙ্গে দিয়েছে। বেগম জিয়াকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দেয়া হয়েছে। জনগণ সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপির শাম্মি আক্তার শিপা এমপি, শেখ সুজাত মিয়া এমপি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাহজাহান, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুখলিছুর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা মুশাহিদ আলী, জেলা শ্রমিকদল সভাপতি সফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল সেক্রেটারি এনামুল হক সেলিম, ড্যাব সভাপতি ডাক্তার আহমেদুর  রহমান আব্দাল, যুবদল সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, সেক্রেটারি মিয়া মোঃ ইলিয়াছ, জেলা শিবির সভাপতি খলিলুর রহমান, সেক্রেটারি আতিকুল ইসলাম সোহাগ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, মৎস্যজীবী দল সভাপতি এডভোকেট মুদ্দত আহমেদ।