|
|
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিসিএস পরীক্ষা স্থগিত
স্টাফ রিপোর্টার : ৩৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আজ রোববার এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে বেশ কিছুদিন ধরে গুজব ছিল। লাখ টাকায় বিসিএসের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মিলছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে শর্ত মোবাইলসহ সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে পরীক্ষার পূর্ব পর্যন্ত থাকতে হবে বিশেষ জায়গায়। পরীক্ষা শেষ হলেই টাকা শোধ করতে হবে এমন আশ্বাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছাড়ে শতাধিক শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট এ কাজে জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এক থেকে একাধিক সব প্রশ্নই মিলবে টাকার বিনিময়ে এমন অফারও আসছে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে। এ ক্ষেত্রে অবস্থা ভেদে প্রশ্ন মিলছে ১ বা দেড় লক্ষ টাকায়। আর অতি দরিদ্রদের জন্য ছিল বিশেষ ছাড়, তাদের জন্য মাত্র ৫০ হাজার টাকা।
পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছারউদ্দিন গতকাল জানান, লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণেই এমনটি হলো কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাই আমরা পরীক্ষা স্থগিত করলাম। পরে নতুন তারিখ জানানো হবে।
সাধারণ ক্যাডারের জন্য আবশ্যিক বিষয়ের নয়টি পরীক্ষা স্থগিত করলেও কারিগরি (টেকনিক্যাল) ক্যাডারের পরীক্ষাগুলো চলবে বলে জানিয়েছে পিএসসি। তবে ৩০ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত টেকনিক্যাল ক্যাডারের বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সিন্ডিকেট ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ এবার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগের জন্য বিশাল এজেন্ডা নিয়ে নেমেছেন। টাকা অর্জনের পাশাপাশি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদও রয়েছে সিন্ডিকেটের ওপর। গত কয়েকদিন ধরে হলে হলে ছাত্রলীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের এ নিয়ে সক্রিয় দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের ৩৩ তম বিসিএস পরীক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের পক্ষে ১০ হাজার টাকা দিয়েও প্রশ্নপত্র নেয়া সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে প্রকৃত মেধাবীরা তাদের মেধার মূল্যায়ন পাবে না। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আগে সবসময় লাইব্রেরীতে থাকলেও এখন আর তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি হলে হলে এমন রবও উঠছে টাকার বিনিময়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের ফাসকৃত প্রশ্নের সমাধান পড়ানো হবে।
পরীক্ষা শুরু হওয়ার দু'দিন আগে থেকেই ঢাবি ও তার আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে হলে কিছুদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কি গুম হয়েছেন, নাকি প্রশ্নপত্র পেয়ে হলের বাইরে অবস্থান করছেন এ বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রশ্নপত্র পেয়ে তারা হল ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। ঢাবির বিভিন্ন হলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, হাজী মুহাম্মদ মহসিন হল, মাস্টার দ্যা সূর্যসেন হল. কবি জসিম উদ্দিন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলসহ কয়েকটি হলের কিছু ৩৩ তম বিসিএস পরীক্ষার্থীকে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এদের মধ্যে বর্তমানে অনেকেই ছাত্রলীগের হল বা কেন্দ্রীয় নেতা।
অন্যদিকে নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থিত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল থেকে প্রায় ১৫/২০ জনকে গত দু'দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকের অভিভাবক তাদের খোঁজ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোস্টেলের এক সদস্য বলেন, কয়েকজন পরীক্ষার্থী তাদের আরও বেশি পড়তে হবে বলে বাইরে কয়েকদিন থাকবেন বলে চলে গেছেন। তবে চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আরেক বিসিএস পরীক্ষার্থী দুঃখ করে বলেন, পাবলিক ভার্সিটির গরীব শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে বেশি লাভবান হবে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাই। কারণ তাদের কাছে ১ লক্ষ টাকা কিছুই না। ইতোমধ্যে যাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাদের অনেকেই সরকার দলীয় সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। আবার অনেকের বাড়ি বাংলাদেশের বিশেষ কিছু জেলায়।

