|
|
শিক্ষার্থীসহ নিরীহ লোকজনের ভোগান্তি\ সম্প্রীতি অটুট রাখতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আহবান
শাহজালাল শাহেদ, কক্সবাজার থেকে : রামুতে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনায় সম্পৃক্ত ফেসবুক অনলের পোড়ানো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিহার ও পুরাকীর্তি ভস্মীভূত করার অন্যতম হোতা পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননাকারী উত্তম কুমার বড় য়ার হদিস নেই ধ্বংসাজজ্ঞের ৭দিনেও। পুলিশ কুরআন অবমাননাকারী ওই যুবকের খোঁজ ও প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার না করে উল্টো নিরীহ অগণিত লোকজনকে আসামী করে বেপরোয়া ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা জানাতে পুরো কক্সবাজারে আওয়ামী বলয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। এমন আগমনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মাঝেও আশার সঞ্চার ঘটেছে, যে সহিংস ঘটনার আসল তথ্য বেরিয়ে আনতে পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী কার্যকর নির্দেশ দিতে পারেন প্রশাসনকে। দু'দিন আগের এক সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গণহারে গ্রেফতার বন্ধের নির্দেশ দিলেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া। এরপরও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধী নয়, এমন লোকসহ আড়াই শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সপ্তাহ জুড়ে গোটা জেলার আক্রান্ত এলাকায় অঘোষিত রেড এলার্ট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে দফায়-দফায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের জাতীয় নেতৃবৃন্দের আগমন অব্যাহত রয়েছে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সমাবেদনা জানাতে। আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুড়ে যাওয়া পুরাকীর্তি ও বৌদ্ধ পল্লী পরিদর্শনে আসছেন। সূত্রমতে, স্থানীয় প্রশাসন ঘোষিত রামু, উখিয়া ও টেকনাফ থেকে ১৪৪ধারা প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও সীমান্ত উপজেলা উখিয়া, টেকনাফ ও ধ্বংসযজ্ঞ এলাকার রামুসহ পুরো জেলার সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র সটকে পড়ার খবর অহরহ। এ পর্যন্ত পুলিশ বিগত ১৪ মামলার সাথে আরো কয়েকটি মামলা যোগ করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ আড়াই শতাধিক লোকজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম, সাধারণ পথচারী ও জেলে-চাষীসহ নিরীহ লোকজন। সেই সাথে মামলাগুলোতে জড়ানো হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদেরও। বিতর্কিত গ্রেফতার এড়াতে ঘরবাড়ির ভাত-পানি হারাম করেছে অগণিত বনি আদম। অন্যদিকে, সংঘটিত সহিংস ঘটনার ৭দিনেও পবিত্র কুরআন অবমাননাকারী উত্তম কুমার বড়ুয়ার সন্ধান পায়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ফেসবুক অনল দিয়ে ধর্মীয় সেন্টিমেন্টে আঘাত হেনে রামুতে ডজনাধিক বৌদ্ধ বিহার ভস্মীভূতের ঘটনায় পুরো জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়া ঘাপটি মেরে থাকা ওই যুবকের হদিস না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। একইভাবে গা আড়াল করে থাকা অপরাধীদের ধরতে ব্যর্থ প্রশাসনের সমালোচনার ঝড় তুলে সচেতন মহল বলেন, উল্টো ছাত্র-শিক্ষকসহ নিরীহ লোকজনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। যেটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা কক্সবাজার তথা দেশের ইতিহাসে নজীরবিহীন বলেও সংশ্লিষ্ট মহল উল্লেখ করেন। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় সঠিক তথ্য বেরিয়ে না আসা ও প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনোত্তর রামুতে অনুষ্ঠিত সম্প্রীতি সম্মেলনের এক বক্তব্যে নিরীহ মানুষের হয়রানি হওয়ার কথা উল্লেখ করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহজাহান মিয়া বলেন, গণগ্রেফতার ঠিক নয়। গণগ্রেফতার বন্ধ করা হোক। তিনি, পবিত্র কোরআন অবমাননাকারী উত্তম কুমার বড়ুয়া ও বৌদ্ধ মন্দিরে বর্বরোচিত হামলায় জড়িত প্রকৃত দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রদান করার কথা জানান।
কুরআন অবমাননা ও বৌদ্ধ মন্দির পোড়ানোর ঘটনায় কক্সবাজারের আইনজীবীদের বিবৃতি : ফেইসবুকে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনাকে পুঁজি করে সুবিধাবাদী চক্রের সৃষ্ট উগ্র সন্ত্রাসের শিকার রামু, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং মন্দির পোড়ানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জ্ঞাপন করে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নিম্নস্বাক্ষরকারী বিজ্ঞ আইনজীবীগণ বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে আইনজীবীগণ বলেন, কক্সবাজার জেলায় সকল সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হাজার বছরের গৌরবময় ঐতিহ্য। এহেন শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার হীন চক্রান্তে মেতে উঠেছে স্বার্থান্বেষী মহল। এ প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের মনে বিরাজ করছে মামলা, হামলা ও গ্রেফতার আতঙ্ক। এহেন অবস্থায় বিজ্ঞ আইনজীবীগণ সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান। পবিত্র কুরআন অবমাননাকারী চক্র এবং প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। বিবৃতিদাতাগণ হলেন- সাবেক বার কাউন্সিল নেতা এডভোকেট ছালামত উল্লাহ, এডভোকেট তোফায়েল আহমদ, এডভোকেট একেএম শাহজালাল চৌধুরী, এডভোকেট আবুল আলা, এডভোকেট আবুল কালাম সিদ্দিকী, এডভোকেট আমির হোসাইন (১), এডভোকেট ইব্রাহিম খলীল, এডভোকেট শামসুল হুদা, এডভোকেট এমএ বাকের, এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, এডভোকেট নুরুল হুদা, এডভোকেট হোসাইন আহমদ আনসারী, এডভোকেট সাবিবর আহমদ, এডভোকেট রমিজ আহমদ, এডভোকেট নুরুল মোর্শেদ আমিন, এডভোকেট একে ইলিয়াছ, এডভোকেট আব্দুল বারী, এডভোকেট আমির হোসাইন (২), এডভোকেট আব্দুর রহমান, এডভোকেট নাজিম উদ্দিন, এডভোকেট রাশেদুজ্জামান, এডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী, এডভোকেট নিজামুল হক, এডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়ছার, এডভোকেট আব্দুর রহমান, এডভোকেট আমিনুল হক, এডভোকেট এ আলম, এডভোকেট একে ফিরোজ আহমদ, এডভোকেট মোঃ জাফরুল্লাহ ইসলামাবাদী, এডভোকেট মনজুর আলম, এডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, এডভোকেট নূরুল ইসলাম (৪), এডভোকেট তাহের আহমদ সিকদার, এডভোকেট রফিক আহমদ, এডভোকেট আবু তাহের, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, এডভোকেট আব্দুর রহিম, এডভোকেট সালাহ উদ্দিন, এডভোকেট শাহজাহান, এডভোকেট মোস্তাক, এডভোকেট জসিম উদ্দিন, এডভোকেট আহমদ হোসাইন, এডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন, এডভোকেট এনামুল হক শিকদার, এডভোকেট সালাহ উদ্দিন, এডভোকেট আবু হুরাইরা, এডভোকেট তবারক হোসেন, এডভোকেট ফিরোজ আহমদ, এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন, এডভোকেট রাশেম উদ্দিন, এডভোকেট মিজান, এডভোকেট মনজুর, এডভোকেট আবেদীন, এডভোকেট ফরিদ আহমদ প্রমুখ।

