Quantcast
ঢাকা, রোববার 7 October 2012, ২১ আশ্বিন ১৪১৯, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৯০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিশ্বব্যাংকের ৩ সদস্যের প্যানেল ঘোষণা

পদ্মাসেতু দুর্নীতি তদন্ত পর্যালোচনায় নেতৃত্ব দেবেন ওকাম্পো

পদ্মাসেতু দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের পর্যালোচনায় নেতৃত্ব দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর লুইস মোরেনো ওকাম্পো।

সংগ্রাম ডেস্ক : বাংলাদেশের পদ্মাসেতু দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের পর্যালোচনায় নেতৃত্ব দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর লুইস মোরেনো ওকাম্পো। বিশ্বব্যাংকের একটি ঘোষণায় একথা জানানো হয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, তিন সদস্যের একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দেবেন ওকাম্পো।

তারা পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেয়ার সুযোগ কতটুকু রয়েছে তা পর্যালোচনা করে বিশ্বব্যাংককে রিপোর্ট দেবেন।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ঋণ সহায়তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।  দীর্ঘ অচলাবস্থা শেষে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংকের দেয়া শর্তপূরণে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ায় সংস্থাটি প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করে প্রকল্পে ফিরে আসার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তার আগে যে কয়টি বিষয়ে নিশ্চিত হতে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি শর্তারোপ করেছে তার অন্যতম হচ্ছে পদ্মাসেতুতে দুর্নীতির সঠিক তদন্ত। এই তদন্ত কাজের যথার্থতা পর্যালোচনা করবেন লুইস মোরেনো ও তার দল।

নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধীদের জেরা করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে মোরেনো ওকাম্পোর।

প্যানেলে ওকাম্পোর সঙ্গে থাকছেন হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং এবং ব্রিটেনের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের সাবেক পরিচালক রিচার্ড আলডারম্যান।

গত জুনে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে পদ্মাসেতু প্রকল্পে তাদের হাতে দুর্নীতির ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণাদি' রয়েছে এই দাবি করে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দেওয়ার পূর্ব ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয়।

পরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘ দূতিয়ালির পর গত সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক ঋণ প্রদানের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করে। যার অন্যতম হচ্ছে একটি বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা পর্যালোচনা করে দেখা।

প্যানেলটির তৈরি রিপোর্ট বাংলাদেশ সরকারকেও সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

তবে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ওই দুর্নীতির জন্য অভিযুক্ত কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাকে পদত্যাগের মাধ্যমে নয়তো ছুটি দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রেখেছে। বিশ্বব্যাংকের অন্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির দমন কমিশনের পক্ষে তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত ও প্রসিকিউশন দল গঠন করা এবং পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য একটি নতুন ক্রয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যা হবে আরো বেশি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিং বিবৃতিতে বলেছেন তার নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি মর্যাদার সাথে পদ্মাসেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন চায়। তিনি বলেন, ওকাম্পোর নেতৃত্বে গঠিত প্যানেলটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের পক্ষে একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে।

উল্লেখ্য, পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজ পেতে কানাডাভিত্তিক প্রকৌশলী কোপানি এসএনসি-লাভালিন গ্রুপ বাংলাদেশের সেতু সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজনকে ঘুষ দিয়েছে এমন অভিযোগের পরই বিশ্বব্যাংক তার ঋণ-প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে। বিষয়টি কানাডা সরকারের নজরে আনলে তারাও এ বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেয়।