|
|
চারদিনেও অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ বা প্রশাসন
রাবি রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক ব্যাপক অস্ত্রবাজিকে বৈধতা দিলো ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরীকরা। অন্যদিকে বহিষ্কৃত নেতাদের প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় ছাত্রলীগের নেতারা। ক্যাম্পাস থেকে ‘ছাত্রশিবিরকে উচ্ছেদ' করতে যে কোনো উপায় ও কাজকে সমর্থন দেবে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে গত ৪ দিনেও এই অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরস্ত্র ছাত্রশিবির কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক গুলী বর্ষণ করে। এনিয়ে সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ছাত্রলীগ। কিন্তু গত ৪ দিনেও এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি আখেরুজ্জামান তাকিম, বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ আল হাসান তুহিন, উপ-দফতর সম্পাদক আতিকুর রহমান, উপ-পাঠাগার সম্পাদক নাসিম আহমেদ সেতু, ছাত্রলীগ নেতা রাজিব, মোবাশ্বের আহমেদ তানিম সবচেয়ে বেশি গুলী ছোঁড়ে। আর এদের নেতৃত্ব দিয়েছে এসময়ের ক্যাম্পাসের ত্রাস হিসেবে পরিচিত তাকিম ও তুহিন। এদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আহমেদ আলীর বক্তব্য, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের সকল উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিবিরের নাম-নিশানা মুছে দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এজন্য অস্ত্রের রাজনীতিতেও তাঁর পূর্ণ সমর্থন আছে। যারা শিবিরকে প্রতিহত করেছে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে। কাজেই শিবিরকে বিতাড়িত করতে যে কোনো কর্মকান্ডকেই আমি সমর্থন করি।' রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশার বক্তব্য, একতরফাভাবে শুধু ছাত্রলীগকে দোষারোপ করলেই হবে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় আনতে হবে। সর্বশেষ মঙ্গলবারের ঘটনা জামায়াত-শিবির উস্কে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ অস্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে ফের অশান্ত করার চেষ্টা করছে জামায়াত-শিবির। তাদেরকে ছাত্রলীগ প্রতিহত করেছে।' ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতার এই বক্তব্য রাজশাহীর একটি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, রাজশাহী আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারও এই অস্ত্র ব্যবহারের প্রতি সমর্থন রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। ছাত্রলীগের এই অস্ত্রবাজির কোন নিন্দা জানানো দূরের কথা, মহাজোটের শরীকরা ঘটনার পরদিনই তাদের সমর্থনে মিছিল-মানববন্ধন করেছে। ফলে এসব অস্ত্রবাজকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ‘তাদের চেনা যায়নি' বলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।
সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এই অস্ত্রধারী ক্যাডাররাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এদের চাঁদাবাজির অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পদ্মা সেতুর চাঁদাবাজি নিয়ে গোলগুলীতে গত ১৫ জুলাই সোহেল নামের ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হয়। এই হত্যা মামলার আসামী তুহিন, আতিক ও সেতু। এ ঘটনায় তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু ক্যাম্পাসে তাদের কোনো কর্মকান্ড থেমে নেই। দলের সব অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতেই থাকে এই বহিষ্কৃত নেতারা। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও অব্যাহত আছে। সবখানেই ছাত্রলীগের এমন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সমালোচনা হচ্ছে। তবে, এনিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কারোরই।

