Quantcast
ঢাকা, বুধবার 10 October 2012, ২৫ আশ্বিন ১৪১৯, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৫৩৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

রাজধানীতে ডেসটিনির কর্মীদের বিক্ষোভ

পুলিশের লাঠিচার্জ টিয়ার শেল আহত ৩০ গ্রেফতার শতাধিক

ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়াসহ ডেসটিনির পরিচালকদের উপর দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ডেসটিনির কয়েক হাজার গ্রাহক গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করতে চাইলে গ্রাহকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ডেসটিনি গ্রুপের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে গতকাল  মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পুলিশি বাধায় পন্ড হয়ে গেছে। এসময় পুলিশের সঙ্গে ডেসটিনি কর্মীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ কর্মসূচি পন্ড করতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এবং ডেসটিনির কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এঘটনায় পুলিশ ডেসটিনির শতাধিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। তবে পল্টন ও শাহবাগ থানা সূত্রে জানা জানা যায়, এঘটনায় পুলিশ ৮৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের বাধায় একপর্যায়ে রমনা পার্কে ডেসটিনির প্রায় ৩০ হাজার কর্মী অবস্থান নেয়।  দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর অফিসে স্মারকলিপি দিয়ে ফিরে আসার পরই ডেসটিনি কর্মীরা ঐ এলাকা ত্যাগ করে। এর আগে সোয়া একটার দিকে আবদুল আল মামুনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্মারকলিপি দিতে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যায়। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন-রাজিব মিত্র, কেএম শফিউল্লাহ, সিরাজুম মনির ও রকিবুল ইসলাম।

 এদিকে গতকাল বিকেল ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরাম ঢাকা বিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও দাবি মান না হলে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।

সূত্র জানায় সোমবার দিবাগত রাতেই রাজধানী ও এর বাইরের অঞ্চল থেকে ডেসটিনির কর্মীরা ঢাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কাকরাইল মোড়, প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড়, মৌচাক, ফকিরেরপুল, তোপখানা রোড ও গুলিস্তান এলাকায় জড়ো হতে থাকেন তারা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পূর্বানুমতি না নিয়েই হঠাৎ করে ডেসটিনির কয়েক হাজার কর্মী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়। এ সময় পুলিশ তাদেরকে বাধা দিতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে ডেসটিনির কর্মীরা রমনা পার্কে জড়ো হয়।

এ সম্পর্কে রমনা বিভাগে পুলিশের উপ-কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, ‘যদি কোথাও অনেক লোক জড়ো হয় তাহলে আগে থেকেই অনুমতি নিতে হয়। যার ফলে পুলিশ তাদেরকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। কিন্তু তারা (ডেসটিনি কর্মী) কোন রকম অনুমতি না নিয়েই জড়ো হতে গেলে পুলিশ তাদেরকে সরে যাবার অনুরোধ করে। কিন্তু তারা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে পুলিশের উপর হামলা চালায়। যার ফলে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত তিনদিন ধরে এমন সমাগমের প্রস্তুতি চলে আসছিল। নতুন এমএলএম নীতিমালাকে স্বাগত জানাতেই তারা আসবে এমন তথ্য ছিল। কিন্তু এখন যেটা করেছে, সেটা বিশৃক্মখলা সৃষ্টি করতেই করা হয়েছে। কিন্তু যখন তারা বিশৃক্মখলা করতে পারেনি তখন তারা স্মারকলিপি পেশ করার কথা বলছে। এদিকে বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ডেসটিনির প্রায় ৪৫ লাখ বিনিয়োগকারী এ কোম্পানীতে এসে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হইনি কিংবা আমরা গ্রাহকরা কোন অভিযোগ করিনি। বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং ক্রেতা পরিবেশক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বস্বান্ত করতে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।