|
|
৯০ ভাগ মুসলমানের দেশকে ধর্মহীন করার আরেক চক্রান্ত
স্টাফ রিপোর্টার : বিতর্কিত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে প্রণীত ২০১৩ সাল থেকে কার্যকর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যক্রমে মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞানসহ অন্যান্য শাখা থেকে ইসলাম শিক্ষা বিষয়টি বাদ দেয়া হয়েছে। সরকার এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি ‘মগজ ধোলাই' কর্মশালাও সম্পাদন করে। এদিকে শিক্ষাবিদগণ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটা ইসলাম শিক্ষা নিয়ে সরকারের একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশকে ধর্মহীন করার আরেকটি কূটকৌশল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকে বিগত সকল পাঠ্যক্রমে ইসলাম শিক্ষা বিষয়টি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষাসহ সকল শাখায় শিক্ষার্থীরা নৈর্বাচনিক ও ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে অধ্যয়ন করতে পারতো। নয়া পাঠ্যক্রম বাস্তবায়িত হলে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ইসলাম শিক্ষা বিষয়টি পড়তে পারবে না। এ পর্যায়ের কলেজের বর্তমান কর্মরত হাজার হাজার শিক্ষক কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং চাকরি হারাতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো কলেজে ইসলাম শিক্ষা বিষয়টি পড়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। পরবর্তীতে ডিগ্রী পর্যায়ের কলেজগুলোতে বিএ পাস কোর্স এবং অনার্স কোর্সে ভর্তি হওয়ার মতো শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না। এর ধারাবাহিকতায় ডিগ্রী-অনার্স কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহেও ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়টি অধ্যায়ের কোনো সুযোগই থাকবে না।
বিগত ১৯৯৬ সাল থেকে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ইসলাম শিক্ষা বিষয়টি বাদ দিয়ে মানবিক শাখায় রাখা হয় এবং নৈর্বাচনিক ও ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে অধ্যয়নের সুযোগ ছিলো। ক্ষমতাসীন আওয়ামী মহাজোট সরকারের প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে আগামী বছর থেকে কার্যকর করার লক্ষ্যে নয়া পাঠ্যক্রমের কাজ চলছে। এ বছর থেকে বিষয়টি মানবিক শাখা থেকেও বাদ দেয়া হয়েছে। সূক্ষ্ম কৌশলের অংশ হিসেবে ‘ইসলাম শিক্ষা শাখা' নামে একটি স্বতন্ত্র শাখা করা হয়েছে। যে শাখাটি অতীতে দেশের হাতেগোনা কয়েকটি ইন্টারমিডিয়েট সরকারি কলেজে ছিল। সেখানে কোনো শিক্ষক না থাকায় ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয় না- তা এমনিতেই বন্ধ রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা বিভাগের একশ্রেণীর অতি উৎসাহী কর্মকর্তা সরকারের খায়েশ কিংবা কুমতলবকে বাস্তব রূপ দানের লক্ষ্যে গত ১৯ সেপ্টেম্বর একটি ‘মগজ ধোলাই' কর্মশালারও আয়োজন করে। ঐদিন রাজধানীর এনসিটিবিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবং সেকেন্ডারী এডুকেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের যৌথ উদ্যোগে ‘একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষাক্রম উন্নয়ন' শীর্ষক ঐ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়াকিবহাল সূত্রগুলো বলছে, নয়া পাঠ্যক্রম অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘ইসলাম শিক্ষা' নামে কাগুজে স্বতন্ত্র শাখার কথা বলে জাতিকে ধোঁকা দিতে চাইছে। ‘ইসলাম শিক্ষা শাখা' কোনো কলেজে নেই এবং খোলারও অনুমতি নেই। এমনকি উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রী কলেজে এ বিষয়টি খোলার জন্য বহু চেষ্টা-তদবির করেও অনুমতি পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট অফিস ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা উপরের নির্দেশের অজুহাত দেখিয়ে বলেন, ইসলাম শিক্ষা বা ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়টি বাদ দিয়ে প্রস্তাব নিয়ে আসেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্তৃপক্ষকে বাধ্য হয়েই নতুন ও পুরানো কলেজে এ বিষয়টি বাদ দিয়ে অন্যান্য বিষয় নিয়ে আসতে হয়।
ইসলামের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের এমন অবস্থানে উদ্বিগ্ন শিক্ষাবিদ। শিক্ষক-ছাত্রসহ ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। তারা বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ নিজস্ব ধর্মশিক্ষা করতে পারবে না, এটা হয় না। কর্তৃপক্ষ তার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে শিক্ষার সকল পর্যায় ও শাখায় ইসলাম শিক্ষা বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা করুন। তা না হলে অন্তত মানবিক শাখায় নৈর্বাচনিক এবং বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ঐচ্ছিক পড়ার সুযোগ করে দিন। তারা এও বলেন, ইসলাম শিক্ষা বাদ দেয়ার সরকারের কূটকৌশল কোনো প্রকারেই বাস্তবায়িত হতে দেয়া হবে না।

