Quantcast
ঢাকা, বুধবার 10 October 2012, ২৫ আশ্বিন ১৪১৯, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১২৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক শোকসভা

আতাউস সামাদ ও ফাজলে রশীদ ছিলেন সাংবাদিকতার বাতিঘর

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মরহুম প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ ও ফাজলে রশীদ স্মরণে নাগরিক শোক সভার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিশিষ্ট সাংবাদিক আতাউস সামাদ ও ফাজলে রশীদের নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেছেন, আতাউস সামাদ ও ফাজলে রশীদ ছিলেন সাংবাদিকতার বাতিঘর। তারা গণতন্ত্রে জন্য কাজ করেছেন। তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। তাদের মৃত্যুতে সবাই শোকাহত। শোকসভা থেকে তাদের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে প্রেস ক্লাব চত্বরে প্রবীণ সাংবাদিক আতাউস সামাদ ও ফাজলে রশীদ স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও এম কে আনোয়ার, জাসদ সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণ ফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আহমদ, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ডেইলী নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, দৈনিক যায় যায় দিন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক শফিক রেহমান, অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, কল্যাণ পার্টি সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ ইব্রাহীম, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক আমানুল্লাহ কবীর, ড্যাব মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডিইউজে সভাপতি আব্দুস শহীদ, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক আব্দুল আউয়াল ঠাকুর, আতাউস সামাদের ছোট ভাই আতিকুস সামাদ প্রমুখ। শোকসভার শুরুতে আতাউস সামাদের শোক প্রস্তাব পাঠ করেন বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ফাজলে রশীদের শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রেস ক্লাব পরিচালনা কমিটির সদস্য হাসান হাফিজ। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহসহ বিশিষ্টব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন বলেন, আতাউস সামাদ বলে গেছেন, তিনি সাংবাদিকতা করে শান্তি পেয়েছেন, আত্মার ও মনের শান্তি। তিনি সম্মানিত ব্যক্তি। তাকে সম্মান জানাচ্ছি।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আতাউস সামাদ ও ফাজলে রশীদ সত্যিকার অর্থে খাঁটি সাংবাদিক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সহমর্মী ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। বারবার সংবাদপত্রের ওপর আঘাত এসেছে। সাংবাদিকরা ব্যর্থ হোক তা আমরা চাই না। ৩ বছরে ১৭ জন সাংবাদিককে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। জামাল ও জুনায়েদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তাদের মাগফিরাত কামনা করি। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা থাকলে দেশ বাঁচবে, স্বাধীনতা থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এম কে আনোয়ার বলেন, সাংবাদিক আতাউস সামাদ ও ফাজলে রশীদ এ দু'টি নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এ দেশে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তারা বেশ ভূমিকা রেখেছেন। এ মুহূর্তে অন্য সাংবাদিকদের এগিয়ে এসে সহযোগিতা করার জন্য তিনি আহবান জানান।

অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আতাউস সামাদ একজন আদর্শ সাংবাদিক ও নাগরিক। যখন তার প্রয়োজন বেশি, তখনই তিনি চলে গেলেন। গণতন্ত্রের উদ্ধারে তিনি বেশ ভূমিকা রেখেছেন। বিবিসিতে তার খবর শুনতে সবাই আগ্রহে থাকতাম। আর ফাজলে রশীদও বহুগুণে গুণান্বিত ছিলেন। সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের মস্তবড় অনুসঙ্গ। তা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সমর্থক। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ অনিশ্চিতভাবে চলছে, সামনে ভয়ংকর অবস্থার দিকে যাচ্ছে। আতাউস সামাদকে হারিয়ে আমরা দরিদ্র হয়ে গেছি। তারা যে পথে চলেছেন, সে পথে দৃষ্টি দিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, এ দু'জন সাংবাদিকই গুণী ব্যক্তি ছিলেন। আমার সাথে তাদের সম্পর্ক ভাল ছিল। আল্লাহ তাদের বেহেশত দান করুক।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আতাউস সামাদ বহু দিনের বন্ধু। তিনি নীতিবান সাংবাদিক হিসেবে সব সময় ঝুঁকি নিয়ে সত্য কথা বলেছেন, লিখে গেছেন। তিনি ১৫ দলীয় ও ৭ দলীয় ঐক্যকে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি উচিত কথা স্পষ্ট ভাষায় সহজ করে তুলে ধরেছেন। জনগণের বিজয় অবশ্যম্ভাবী, আগামী বছর এমন সময় যেন আমরা বিজয়ী হই।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, ফাজলে রশীদের সাথে আমরা বেশ সম্পর্ক ছিল। আর আতাউস সামাদের বাসায়ও আমি যাতায়াত করতাম। তিনি ছিলেন আপসহীন মানুষ। তিনি যা দেখতেন, তাই বলতেন। কাউকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না। সংবাদের ভেতরের অন্তর্নিহীত সংবাদ তিনি নিয়ে আসতেন। নতুন তথ্য পেলে সময় দিয়ে জানার চেষ্টা করতেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়ও তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। কোনো ধরনের হুমকী, জেল ও অন্যায়ের সাথে তিনি আপস করতেন না। আতাউস সামাদ একজন বিবেকবান মানুষ। তার মৃত্যু নেই। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, আতাউস সামাদের মৃত্যু আমার কাছে স্বজন হারানোর মতো। আমার অবর্তমানে তিনি আমার দেশ-এর হাল ধরে রেখেছিলেন। তিনি রক্তচক্ষুর কাছে মাথানত করেননি। ফাজলে রশীদও একজন গুণী ব্যক্তি। তিনি তাদের মাগফিরাত কামনা করেন।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, আতাউস সামাদের তুলনা তিনি নিজেই। আর কারো সাথে তার তুলনা করা যায় না। এরশাদের সময় ৬ দিন পত্রিকা বন্ধ ছিল। তখনকার আন্দোলনে তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। গণতন্ত্রের ওপর তিনি অবিচল আস্থাশীল ছিলেন। তিনি সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবির আন্দোলনে সহযোগিতা করেছেন। ফ্যাসিবাদকে মনে প্রাণে ঘৃণা করতেন আতাউস সামাদ। আর ফাজরে রশীদও একজনগুণী মানুষ ছিলেন। তিনি তাদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, আতাউস সামাদের বিদায়ে একটি নক্ষত্র বিদায় নিয়েছে, এ অপূরণীয় ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।

সভাপতির বক্তব্যে কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, এ দু'জনই ছিলেন সাংবাদিকতার স্তম্ভ ও বাতিঘর। তাদের হারিয়ে আমরা বেদনা বিদুর। তারা সংবাদপত্র ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন। তাদের লেখা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের পথ চলা উচিত। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এগুলো শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।