|
|
প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে না ভারত
তোফাজ্জল হোসেন কামাল : সীমান্তে রক্ত নিয়ে খেলছে ভারত। একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে নিরীহ বাংলাদেশীদের। তার সাথে পাল্লা দিয়ে চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হলেও সরকার তা গায়ে মাখছে না। প্রিয়জন হারানোর আহাজারী আর নির্যাতিতদের বেদনাতেও সরকারের টনক নড়ছে না। মনে হয় সরকার যেন কুম্ভকর্ণ। বার বার ওয়াদা দিয়েও বরাবরই বরখেলাপ করছে ভারত। কথা দিয়েও কথা রাখছে না বিএসএফ। ফলে সীমান্তে লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ-এর (বিজিবি) সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয় ৫ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন। এই সম্মেলনে বিএসএফের প্রধান ইউকে বানসালের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন। ৫ দিনের বৈঠক শেষ হয় শনিবার ২৯ সেপ্টেম্বর। ওই দিন জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন্স (জেআরডি) স্বাক্ষরের পর বিএসএফ প্রধান আবারও সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা নির্যাতন শূন্যের কৌঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। এ প্রতিশ্রুতি দিয়েই তিনি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে ভারতে ফিরে যান। কিন্তু বিএসএফ প্রধানের এই প্রতিশ্রুতির পরদিনই ৩০ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে হান্নান নামের এক বাংলাদেশী নিহত হন। শুধুমাত্র চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই সীমান্তে ৬ বাংলাদেশী বিএসএফের হাতে নিহত হয়। আর দু'দেশের যৌথ সীমান্ত সম্মেলনের পর থেকে ৮ অক্টোবর সোমবার পর্যন্ত তিনজন বাংলাদেশী বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছে আরও সাত জন। আর আটক করে নিয়ে গেছে চারজনকে। এসব কর্মকান্ড নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণে টু শব্দও নেই। ন্যূনতম প্রতিবাদটুকুও জানানো হচ্ছে না।
বাংলাদেশের সীমান্তের তিন দিক জুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। বিশাল এ সীমান্ত জুড়ে রয়েছে বিএসএফ। এ ছাড়া বাংলাদেশের অন্য এক সীমান্তে রয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা না ঘটলেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চলছে হত্যা-নির্যাতন। এ হত্যা নির্যাতন বন্ধে বার বার উভয় দেশের মধ্যে যৌথ সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসলেও ভারত তাতে কোন কর্ণপাত করছে না। দফায় দফায় বিএসএফ সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা কথা রাখছে না। ভারত সরকার তার সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফকে দিয়ে সীমান্তে রক্তের খেলায় মেতে রয়েছে। এসবের জোর প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে না সরকারের তরফ থেকে। আর এটাকে দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণ বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। তাদের মতে, এ সরকার তার প্রভুদের খুশি রাখতে সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদ করছে না। তবে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তারা সীমান্তে হত্যা-নির্যাতনের ঘটনায় বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এসব উদ্বেগ সরকারের কান স্পর্শ করছে না।
এদিকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় সীমান্ত সম্মেলন। এই সম্মেলন শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএসএফ প্রধান ইউকে বানসাল সীমান্তে নিহতদেরকে চোরাচালানী বললেও এর ন্যূনতম প্রতিবাদ জানায়নি বিজিবি। ফলে একের পর এক হত্যা-নির্যাতন চালানো হচ্ছে সীমান্তে। যার শিকার হচ্ছে নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিকরা। সম্প্রতি সীমান্তে বিএসএফের হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গেছে।
চার বাংলাদেশীকে নিয়ে গেছে ভারতীয় পুলিশ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল সীমান্ত এলাকা থেকে চার বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় বন পুলিশ। গত রোববার সন্ধ্যায় লালাখাল সীমান্তের ১২০৪ নম্বর পিলার সংলগ্ন সিঙ্গারিরপাড় থেকে তাদের ধরে নেয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) লালাখাল ক্যাম্প নিশ্চিত হয়েছে, ওই চার বাংলাদেশীকে ভারতীয় বন পুলিশ আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। ওই চার বাংলাদেশী হলেন : জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট উজানীনগর গ্রামের পাখিধন মিয়া (৩৫), একই উপজেলার জাঙ্গালঘাট গ্রামের সোনা মিয়া (৪২), গোয়াবাড়ী গ্রামের ময়নুদ্দিন (৩৮) ও কানাইঘাট উপজেলার আলিম উদ্দিন (৩৫)।
এলাকাবাসী জানান, গত রোববার বিকেলে চারজনকে লালাখাল সীমান্তের ১২০৪ নম্বর পিলার এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার দিকে ভারতীয় বন পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে ওপারে নিয়ে যায়।
লালাখাল বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ার অভিযোগে ভারতীয় বন পুলিশ ওই চারজনকে আটক করে নিয়ে গেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সূত্রে বিজিবি নিশ্চিত হয়, অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে বনের কাঠ চুরির অভিযোগে তাদের ভারতের স্থানীয় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের এখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনতে হবে বলে তিনি জানান।

