Quantcast
ঢাকা, বুধবার 10 October 2012, ২৫ আশ্বিন ১৪১৯, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৭২৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ডিফেন্স পক্ষে দেয়া তালিকায় ২৯৩৯ জনের নাম ছিল

গোলাম আযমের পক্ষের মাত্র ১২ জন সাফাই সাক্ষীর অনুমতি দিল ট্রাইব্যুনাল

p তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর বর্ষীয়ান জননেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে সাফাই সাক্ষী ১২ জন নির্ধারণ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ডিফেন্স পক্ষে সাফাই সাক্ষীর জন্য দেয়া দু'হাজার ৯৩৯ জনের তালিকা থেকে কমিয়ে এই আদেশ দেয়া হলো। আগামী রোববারের মধ্যে এই ১২ জন সাক্ষীর নামের তালিকা দাখিল করতে হবে এবং সাক্ষীরা কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন তাও লিখিতভাবে ট্রাইব্যুনালে দিতে হবে। এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমানের সাক্ষ্য প্রদান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তার সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়। আজ বুধবারও তার সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে।

গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এর আগে রোববার আসামিপক্ষের দেয়া দু'হাজার ৯৩৯ জন সাফাই সাক্ষীর নামের তালিকা বাদ দেয়ার জন্য আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর সোমবার প্রসিকিউশনের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

আদেশের পরে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, এমন দীর্ঘ সাক্ষীর নামের তালিকা পৃথিবীর কোনো আদালতে কেউ দেননি। আসামিপক্ষ মামলার দীর্ঘসূত্রিতার জন্য এ ধরনের তালিকা দিয়েছেন। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান শেষ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার গতকালের সাক্ষ্য

তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের কৃতঅপরাধের ১০টি ডিভিডি দাখিল করলাম। এটা ছাড়া ইনডেক্স অব-এ.বি.সি.এন.বি.সি.সি এবং সি.বি.এল নিউজ দাখিল করলাম। তদন্তকালে আমি শহীদ হিরু মিয়া দারোগা ও তার কিশোর পুত্র শহীদ কামাল ও শহীদ নজরুলসহ মোট ৩৮ জনের হত্যার বিষয় তদন্ত করি। তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি, আলামত জব্দ করি ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র ও সূচিপত্র আলাদা কাগজে প্রস্তুত করি। এই সেই খসড়ার মানচিত্র প্রদর্শনী ৫২০/১ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী ৫২১/১ হিসেবে চিহ্নিত হল। এই সেই সূচিপত্র প্রদর্শনী ৫১১ এবং তদন্তকালে আমি পৈরতলা গণকবর, গণকবর সংলগ্ন রেলওয়ে ব্রিজ, বি.বাড়িয়া ব্রিজ, বি.বাড়িয়া পুরাতন জেলখানা এবং দানা মিয়ার বাড়ি এবং বাক্ষ্মণবাড়িয়ার ফটোগ্রাফ সংগ্রহ করি যা যথাক্রমে প্রদর্শনী ৪২২, ৫২২/১ ৫২২/২/এবং ৫২২/৩/ হিসেবে চিহ্নিত হলো। মামলা সংক্রান্তে আমি তিনটি জব্দ তালিকা মোতাবেক আলামত জব্দ করি যাহা ইতোপূর্বে প্রদর্শনী হিসেবে ৫১৮, ৫১৯ এবং ৪৯৬-৪৯৭ এবং ৫১১-৫১৩ প্রদর্শিত হয়েছে। এই মামলা সংক্রান্তে আমি যে সকল সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়েছি তার মধ্যে সাক্ষী মহসীন আলী খান পিতা, মৃত-রিয়াসত আলী খান এ জবানবন্দি আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ১৯(২) ধারা মোতাবেক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রহণ করা হয়েছে। এই সেই জবানবন্দি যা ৩-০৮/১০ সালে আমি লিপিবদ্ধ করেছি। এটা প্রদর্শনী ৫২৩ হিসেবে চিহ্নিত হলো। ইহাতে আমার স্বাক্ষর প্রদর্শনী ৫২৩/১ হিসেবে চিহ্নিত হলো। তদন্তকালে আমি জব্দকৃত আলামত, প্রাপ্ত কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এটা আমার কাছে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আসামি অধ্যাপক গোলাম আযম ১৯৬৯ থেকে '৭১ সাল পর্যন্ত পূর্বপাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সেই কালো রাতে পাক হানাদার বাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইট নামে সর্বাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ব্যাপকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যাসহ অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত করতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে সবকিছু দেখে শুনে বুঝে ১৯৭১ সালে ৪ এপ্রিল আসামি অধ্যাপক গোলাম আযম অন্যান্য ১২ জন লোকসহ গবর্নর হাউসে টিক্কা খানের সাথে সাক্ষাৎ করে পাকিস্তান বাহিনী কর্তৃক কৃত এবং চলমান লিখিত অপরাধসমূহে সমর্থন করেন এবং আশ্বাস প্রদান করেন। উক্ত ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় পাক সেনাবাহিনীকে সর্বাত্মক অপরাধমূলক কাজের সহায়তা দানের উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল ১৪০ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় পীস কমিটি গঠন করে। আসামি অধ্যাপক গোলাম আযম উক্ত পীস কমিটির শীর্ষস্থায়ী ৩য় ব্যক্তি। বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্বপাকিস্তান জামায়াতের আমীর এবং পীসকমিটির শীর্ষ স্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতা ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে অপরাধীদের শীর্ষ স্থানে অবস্থান করে তার নেতৃত্বাধীন  নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ এবং পীসকমিটির শীর্ষ স্থানীয় নেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন স্থানে উস্কানিমূলক বক্তৃতা, বেতার বিবৃতি প্রদান করেন। পাক দখলদার বাহিনীর সঙ্গে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা মোতাবেক তার দলীয় ও সমমনা নেতাদের দ্বারা সারাদেশে পীসকমিটি রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী গঠন করে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর ১৩ মে অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ১০ জুন তার বিরুদ্ধে ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। এরপর ১ জুলাই থেকে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।