|
|
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আজ
স্টাফ রিপোর্টার : বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের সংখ্যা ও প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ইতিহাস নতুন নয়। সর্বশেষ গত বুধবার দিবাগত রাতে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে নোয়াখালী, ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে ২৪ ব্যক্তি নিহত ও বহু নিখোঁজ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। পূর্বাহ্নে প্রশাসন থেকে সতর্কতা জানানো হয়নি। আবহাওয়া অধিদফতরও ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলে, যা মওসুমী ঝড়ের সংকেত। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ৫নং সতর্কতা সংকেত দেখানো যেতো। আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক বলছেন, টেকনিক্যাল কারণে সাইক্লোনের সতর্ক সংকেত দেয়া যায়নি।
সতর্কতা সংকেতের এমন দুরবস্থা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমালের বিপন্নদশার উদ্বিগ্নতার মধ্য দিয়েই এসেছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। আজ শনিবার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি দিবসের প্রাক্কালে গতকাল শুক্রবার বিকেলে সচিবালয়ে পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এম আসলাম আলম, আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক আরজুমান্দ হাবীব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর ডিজেস্টার রিডাকশন (ইউএনআইএসডিআর)-এর উদ্যোগে প্রতিবছর ১৩ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস' পালন করা হয়ে থাকে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি/ সহায়ক শক্তি বালিকা ও নারী।'
লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দুর্গতদের জন্য ৭শ' মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ৬২ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবক তৈরি ও প্রশিক্ষণ দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বেশ কিছু জেলার ভূমিকম্প ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি কাজ চলছে এবং বিল্ডিং কোড সংশোধন করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী উপকূলীয় অঞ্চলে সদ্য ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত এলাকার জনগণকে আগেই সতর্ক করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত এলাকায় আগেই প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেয়া এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর জনগণকে সচেতন না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণের মুখে পড়েন মন্ত্রী-সচিব সবাই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক দোষ অস্বীকার করে বলেন, এটি কোনো ঘূর্ণিঝড় ছিল না, এটা ছিল একটি নিম্নচাপ। সে অনুযায়ী ৯ অক্টোবর রাত ১০টায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়। পরে মেঘ আরো গাঢ় হতে থাকলে পরদিন দুপুরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়।
‘ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত এলাকার জনগণকে আগেই মাইকিং করে সতর্ক করা হয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন' সাংবাদিকদের এ কথার জবাবে পরিচালক বলেন, আসলে নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া দরকার ততটুকুই নেয়া হয়েছে। এখানে আবহাওয়া অধিদফতরের কোনো কারিগরি দুর্বলতা ছিল না। আপনারা চাইলে এ সংক্রান্ত দাফতরিক কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। বিষয়টি নিম্নচাপ হওয়ায় এখানে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত (চার/পাঁচ) জারি করা সম্ভব ছিল না। ‘মাঝিরা সতর্কীকরণ নির্দেশ মানছেন কি না এবং এটা তদারকি করার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে কি না' সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা অবশ্যই তদারকি করতে হবে। আগামীতে নৌকা ও ট্রলার মালিক এবং মাঝিদের সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে এর একটি সুরাহা করা হবে। আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তো একটি চলমান প্রক্রিয়া। কোথাও কোনো দুর্যোগ হলে মানুষ কিছুদিন সতর্ক থাকেন। তারপর আবার ভুলে যান।
কর্মসূচি
দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালন উপলক্ষে সরকারিভাবে র্যালি, আলোচনা অনুষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্পের মহড়া, জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা প্রকাশ, রেডিও-টিভিতেও টকশো ইত্যাদি কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এর আগে সকাল ৮টায় রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে র্যালি বের করা হবে।

