Quantcast
ঢাকা, শনিবার 13 October 2012, ২৮ আশ্বিন ১৪১৯, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৪৪ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে প্রধানমন্ত্রী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন -ব্যারিস্টার রফিক

স্টাফ রিপোর্টার : প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে তদন্তের আগেই প্রধানমন্ত্রী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রামুর মূল ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন বিএনপি-জামায়াতের লোকেরাই নাকি এ ঘটনার সাথে জড়িত। বিএনপি-জামায়াত জড়িত থাকলে সরকার আবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন?। সরকারের তদন্ত কমিটি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকেই রিপোর্ট প্রকাশ করবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনে সুশীল ফোরাম আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলী প্রেক্ষিত বাংলাদেশ' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সুশীল ফোরামের সভাপতি মোঃ জাহিদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, কৃষক দলের সহ-সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, সুশীল ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সাহেদ, স্বদেশ জাগরণ পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান সেলিম, যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন বাবলু প্রমুখ। পরিচালনা করেন ফোরামের সহ সভাপতি কামাল হোসাইন।

রফিকুল ইসলাম মিয়া আরো বলেন, বৌদ্ধ বিহার ও তাদের বসত বাড়িতে আগুন দেয়ার সময় পুলিশের নীরব ভুমিকা প্রমাণ করে সরকারই এ ঘটনার সাথে জড়িত।

প্রধানমন্ত্রী রামুতে গিয়ে বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দের সাথে কোন কথা বলেননি কেন এমন প্রশ্ন তুলে তিনি রামুর ঘটনা নিয়ে কোন প্রকার রাজনীতি না করতেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান।

রফিকুল মিয়া বলেন, রামুর ঘটনার প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কাউকে দায়িত্ব দিন যাদেরকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা কারো নেই। প্রয়োজনে সাবেক সিনিয়র বিচারপতিদের তদন্তের দায়িত্বভার দিন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই বৌদ্ধ সম্প্রদায় রয়েছে। কখনো বৌদ্ধদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি পাকিস্তান আমলেও তাদের ওপর আক্রমণ হয়নি। এ ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করে। এ কথায় একটা বিষয় পরিষ্কার আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। তাহলে তাদের আমলে এ সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটলো কেন?

বিএনপির এ নেতা বলেন, দেশ আজ ভয়াবহ অবস্থায়। দলীয় ছাত্রদের দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। রাজশাহীতে পুলিশের সামনে পিস্তল দিয়ে গুলী করে ছাত্রলীগ। এর বিচার না করে উল্টো বিরোধী সংগঠনের ছাত্রদের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এভাবে চলতে থাকলে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনার সব ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বাঁচিয়ে রাখার জন্যে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করুন। বিচারপতি খায়রলে হকের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করেছেন। সব কাজে জুডিশিয়ালকে ব্যবহার করলে জাতি বিপন্ন হবে।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশে এখন হাজার কোটি টাকার কমে কোন দুর্নীতি নেই। মহিউদ্দিন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পরই রামুতে এ সহিংস ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দ্বারাই এদেশে প্রশাসনিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছিল।

মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, বর্তমান সরকার ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করেনা। এ জন্য এ দলের নেতাকর্মীরা অন্য ধর্মের লোকদের প্রতি শ্রদ্ধা বোধ দেখায় না। এদেশকে করদরাজ্যে পরিণত করতেই সরকার পরিকল্পিতভাবে রামুর বৌদ্ধ বিহার ও বসত বাড়িতে আগুন দিয়ে বিরোধীদলের ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা করছে।

সুশীল ফোরামের সভপতি মো: জাহিদ বলেন, বিরোধীদলকে দমন করতেই সরকার পরিকল্পিত ভাবে রামুর সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ্যাডভোটেক তাজুল ইসলামের চেম্বারে হানা দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে ফাঁসিতে ঝুলানোর ষড়যন্ত্র করছে। বিরোধীদল ধ্বংসের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।