Quantcast
ঢাকা, সোমবার 15 October 2012, ৩০ আশ্বিন ১৪১৯, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৫২৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

দুদকের সাথে বৈঠক

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্ত কিভাবে হচ্ছে তা জানতে চেয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্যানেল দল

পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল ও দুদক-এর মধ্যে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার পর দুদক কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ড স্মিথ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্ত কিভাবে, কোন উপায়ে করা হচ্ছে জানতে চেয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্যানেল দল। এ সময় তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে দুদকের তদন্ত টিমকেও কিভাবে সহযোগিতা করা যায় তা জানতে চেয়েছে। দুদক পর্যবেক্ষক দলকে তদন্তে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছে। গতকাল রোবাবর দু'ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে দুদক কার্যালয় ত্যাগের পূর্বে এসব জানান বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস প্রধান ও কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ড-স্টিন। এ সময় পর্যবেক্ষক দলের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটায় এ বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় সাড়ে পাঁচটায়। আজ সোমবার আবারও বৈঠক হবে।

শনিবার রাত দু'টায় থাই এয়ার ওয়েজের একটি বিমানে ঢাকা আসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল সোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যাংক পর্যবেক্ষক দলের তিন সদস্যের প্যানেল টিম। এ প্যানেলের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন হংকংয়ের দুর্নীতি বিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং এবং যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক রিচার্ড ওল্ডারম্যান। দুর্নীতি বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে এ তিনজনের রয়েছে বিশ্বব্যাপী সুনাম। ঢাকায় আসার সময় এই প্যানেলের সাথে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশনের প্রধান জিমামেন। চার সদস্যের এই টিমটি গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে ওঠেন।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্র জানায়, গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় ওয়েস্টিন হোটেল থেকে বিশ্বব্যাংকের এই চার সদস্যের টিমটি রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে যায়। সেখানে তারা ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টিনের সাথে বৈঠক করেন। এরপর তারা মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন। ওয়েস্টিন হোটেল থেকে তাদের মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মধ্যে বাংলা খাবার হিসেবে সাদা ভাত, ইলিশ মাছ ও ডাল ছিল। এরপর বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক দলটি ঢাকা অফিসের প্রধান, ল'এডভাইজার পিয়ানি মালিকসহ বেলা আড়াইটায় সেগুন বাগিচাস্থ দুদক কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বেলা সোয়া ৩টায় দুটি গাড়িযোগে ৬ জনের দলটি দুদক কার্যালয়ে এসে পৌঁছান। সাড়ে তিনটায় দুদকের পঞ্চম তলার সম্মেলন কক্ষে উভয় পক্ষের বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। দু'ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বিশ্বব্যাংকের প্যানেল টিমের সদস্যরাসহ সংশ্লিষ্টরা দুদক থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক টিমের সদস্যরা মিডিয়ার সাথে কথা বলতে রাজি হননি। মিডিয়ার আবদারে এবং দুদকের অনুরোধে কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস প্রধান অ্যালেন গোল্ড স্টিন।

বৈঠকে দুদকের পক্ষে ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, দু'কমিশনার যথাক্রমে মোহাম্মদ বদিউজ জামান ও মোঃ সাহাবুদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুদকের আইনজীবী এডভোকেট আনিসুল হক।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক দলটি আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টায় এমিরেটস এয়ার ওয়েজের একটি বিমান যোগে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের (অজ-২৭-০৫৭) গাড়িতে করে দুদকে আসেন পর্যবেক্ষক দলের তিন সদস্য। ঢাকা অফিস প্রধান, ল এডভাইজার ও ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশনের প্রধান আসেন বিশ্বব্যাংকের পতাকাবাহী গাড়িতে (দজ-২৭-০০১) করে।

বিশ্বব্যাংকের দলটি দুদক কার্যালয় ত্যাগের পর সন্ধ্য ৬টা ২০ মিনিটে মিডিয়ার সাথে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ও এডভোকেট আনিসুল হক।

অ্যালেন গোল্ড স্টিনের ব্রিফিং : বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস প্রধান ও কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ড স্টিন দুদকের সাথে বৈঠক শেষে উপস্থিত মিডিয়ার সামনে কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত কথায় তিনি বৈঠক সম্পর্কে মন্তব্য করেন ‘প্রুটফুল এন্ড প্রোডাক্টিভ'। দুদকের সাথে বৈঠক হয়েছে আরো হবে। আজকের বৈঠকটি যতটুকুই হয়েছে তা অত্যন্ত ফলপ্রসু ও গঠনমূলক হয়েছে। আমাদের পর্যবেক্ষক টিমকে স্বাগত জানিয়েছে দুদক। পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে আমরা উভয়পক্ষই আলোচনা করেছি। সততা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য আমরা কিছু পরামর্শও দিয়েছি। দুদক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছে। আমাদের প্যানেলকেও স্বাগত জানিয়েছে। সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্য দুদককে সহযোগিতা করবে প্যানেল।

গোল্ড স্টিন বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে দুদক কিভাবে কাজ করছে, কোন বিধিমালা ও আইনের ভিত্তিতে কাজ করছে তা জানতে চেয়েছি। আমাদের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক টিমটি দুদকের তদন্তে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে সে ব্যাপারে জানতে চেয়েছি। আমরা উভয়পক্ষই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পথ খুঁজছি। আমাদের অভিজ্ঞ প্যানেল এতে সহযোগিতা করবে। কোন উপায়ে দুদকের সাথে কাজ করতে পারে সে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্যানেলটি দুদককে বেশ কিছু পরার্শই দিয়েছে তদন্তের ব্যাপারে। তিনি বলেন, এছাড়া পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্ত কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তাও জানতে চেয়েছি।

দুদক চেয়ারম্যানের ব্রিফিং : দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বৈঠক শেষে দুদক থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন মিডিয়ার সাথে। এ সময় তিনি বলেন, অত্যন্ত সুন্দর ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা বিশ্বব্যাংকের কমিটিকে আমাদের আইনগত দিক থেকে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছি। তারা কোন তথ্য-উপাত্ত চায়নি এমনকি দেয়ওনি বলে জানান তিনি। বিশ্বব্যাংকের কিছু প্রশ্ন ছিল আমাদের কাছে। আমরা সেসব প্রশ্নের জবাব তাদেরকে দিয়েছি। আমরা কিভাবে দুর্নীতির তদন্ত করে থাকি, কি উপায়ে করে থাকি তা তারা জানতে চেয়েছে। আমাদের কার্যক্রম তাদেরকে জানিয়েছি। এরপর তিনি উপস্থিত দুদকের আইনজীবী এডভোকেট আনিসুল হককে কথা বলার জন্য অুনরোধ জানিয়ে দুদক কার্যালয় ত্যাগ করেন।

এডভোকেট আনিসুল হক বৈঠক সম্পর্কে জানান, দুদকের আইনে কি আছে, কিভাবে তদন্ত করা হয় এসবই মূলত তারা জানতে চেয়েছে। তারা জানতে চেয়েছে দুদকের আইনে কোনটা দুর্নীতি আর কোনটা দুর্নীতির ষড়যন্ত্র। দুর্নীতি করলে কি সাজা আর ষড়যন্ত্র করলে কি সাজা? এছাড়া ষড়যন্ত্র করা কি অপরাধের আওতায় পড়ে কি না এসব জানতে চেয়েছে। এছাড়া তারা তদন্তের প্রসেস ও প্রগ্রেস সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমরা তাদেরকে জানিয়েছি। দু'পক্ষই একমত হয়েছে যে, প্যানেলের পরামর্শ মোতাবেকই তদন্ত হবে। তারা পুনরায় বৈঠকে বসকে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা ফিরে গেছে। রাতে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবে আবার আমদের সাথে বৈঠক করার প্রয়োজন আছে কি না। প্রয়োজন মনে করলেই বৈঠক হতে পারে।

দুদক জানায়, গতকাল রোববার প্যানেলের তিনজন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ক্রমে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, কমিশনার (অনুসন্ধান) মোঃ বদিউজ্জামান, কমিশনার (তদন্ত) মোঃ সাহাবুদ্দিন বৈঠক করেছেন। দুদকের ৪ সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান কমিটিতে রয়েছেন, সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মোঃ জয়নুল আবেদীন শিবলী, এসএসএম আবদুল আল-জাহিদ, গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও মির্জা জাহিদুল আলম। এ টিমকে সার্বিকভাবে সহায়তা করবেন মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) খোন্দকার আমিনুর রহমান।

পদ্মাসেতুর পরামর্শক প্রাক-যাচাইতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করা হয় পরামর্শক প্রাক-যাচাই প্রক্রিয়ার দুর্নীতির অভিযোগ। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চলতি বছরের জুন মাসের ২৯ তারিখে পদ্মাসেতু প্রকল্পে ঋণচুক্তি বাতিল করে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আবারও ঋণ দিতে সম্মত হলেও দুর্নীতির তদন্ত অধিকতর জোরদার করার দাবিটি আগের মতোই রেখেছে। তাই বিশ্বব্যাংকের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় দুদক।

দাবি অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন বিশ্বব্যাংকের প্যানেলের সমন্বয়ে অনুসন্ধান করতে সম্মত হয়েছে। সে লক্ষ্যে দুই সপ্তাহ আগেই দুদকের অনুসন্ধান কমিটি পুনর্গঠন করে। চলমান অনুসন্ধান টিমের সঙ্গে যুক্ত করা হয় দুদকের আরও দু'জন উপ-পরিচালককে।

সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুন পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ঋণচুক্তি বাতিল করে। সংস্থাটি দাবি করেছিল তাদের কাছে দুর্নীতির প্রত্যক্ষ প্রমাণ আছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তা বারবার অস্বীকার করা হয়। পরবর্তীতে নানা দেনদরবারের পর সরকারের পক্ষ থেকে সংস্থাটির দেয়া চার শর্ত মেনে নেয়ায় আবার ২০ সেপ্টেম্বর পদ্মাসেতু প্রকল্পে সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয় বিশ্ববব্যাংক। তখন সংস্থাটির দেয়া শর্তগুলো ছিল প্রথমত, দুর্নীতি দমন কমিশনকে একটি বিশেষ যৌথ তদন্ত ও বিচারিক টিম গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি বিকল্প প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সহযোগী অর্থায়নকারীদের জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অধিকতর তদারকির সুযোগ থাকবে। তৃতীয়ত, দুদককে বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধায়নে একটি বাইরের প্যানেলের কাছে তথ্য দেয়ার ও প্যানেলকে তদন্ত প্রক্রিয়ার পর্যাপ্ততা মূল্যায়নের সুযোগ দিতে হবে এবং চতুর্থত, সরকার বাংলাদেশী আইনের আওতায় থাকা সত্ত্বেও তদন্ত চলাকালে সরকারি দায়িত্ব পালন  থেকে সরকারি ব্যক্তিদের (আমলা ও রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত) ছুটি দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের শর্তানুযায়ী পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে ছুটিতে রাখা হয়। তারও আগে সৈয়দ আবুল হোসেনকে যোগাযোগমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হয়।

৫ অক্টোবর পদ্মাসেতুর দুর্নীতির তদন্ত পর্যবেক্ষণে এ প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। প্যানেলের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রসঙ্গ।

পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতির তদন্ত পর্যবেক্ষণে ৫ অক্টোবর এই প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেয় বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাটি। মোরেনো ওকাম্পো নেতৃত্বাধীন এই প্যানেলকে সহযোগিতা করা হবে বলে ইতোমধ্যে সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত জুন মাসে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে। এরপর সরকারের বহুমুখী তৎপরতায় গত মাসে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা বিশ্বব্যাংক দিলেও অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দেয়া শর্তগুলো পূরণের কথা বলেছে, যার অন্যতম হল ‘দুর্নীতির' তদন্ত।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের তোলা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন, আর তাদের সেই কাজ পর্যবেক্ষণ করবে আর্জেন্টিনার আইনজীবী মোরেনো ওকাম্পো নেতৃত্বাধীন প্যানেল। বিশ্বব্যাংকের দেয়া শর্তেই বাইরে থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়।

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ৬১ বছর বয়সী মোরেনো ওকাম্পো নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় সামরিক সরকারের দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরোধিতার উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। বুয়েনস আইরিস ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়ান। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও ছিলেন তিনি। বিশ্বে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে তার প্রথম প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান মোরেনো ওকাম্পো। লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে তাকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন ওকাম্পো। সেই পরোয়ানা জারিও হয়েছিল। তবে বিচারের আগেই নিহত হন গাদ্দাফি।

লুই মোরেনো নেতৃত্বাধীন প্যানেলের পর্যবেক্ষণ পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী বিশ্বব্যাংকের প্রধান জিম ইয়ং কিম।

৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু তৈরি গত বছর বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এডিবি, আইডিবি ও জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে ঋণ বাতিল করলে তা ঝুলে যায়।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠান কানাডাভিত্তিক এসএনসি লাভালিনের দুই কর্মকর্তাকে কানাডা পুলিশ আটক করার পর দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে।

দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর গত সেপ্টেম্বরে ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। তখন সরকারকে কয়েকটি শর্ত দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা পালন হয়নি জানিয়ে চুক্তি বাতিল করে তারা।

চুক্তি বাতিলের পর অবশ্য শর্ত পূরণে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। ছুটিতে পাঠানো হয় প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি এডভাইজর মসিউর রহমান ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত পর্যাবেক্ষণ করতে দিতেও রাজি হয় সরকার, যার ফলে প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।