Quantcast
ঢাকা, সোমবার 15 October 2012, ৩০ আশ্বিন ১৪১৯, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৯৬৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মতিঝিলে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পরপর্তী সমাবেশে মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া

পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন পূরণ হবে না

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ সকল নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে গতকাল রোববার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে -সংগ্রাম

কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে অবিলম্বে জামায়াতের শীর্ষনেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিন। অন্যথায় সরকারকে গণরোষে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে দেশ থেকে বিরোধী দল নির্মূলের জন্যই নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জাতীয় নেতৃবৃন্দের চরিত্র হননের আয়োজন করেছে। কথিত বিচারে যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। বরং সরকার তাদের মর্জি মত কথিত ট্রাইব্যুনালের আইন ও বিধি বারবার সংশোধন করছে। প্রথমে ট্রাইব্যুনালের আইন ও বিধিতে অভিয়োগপত্রের ভিত্তিতে গ্রেফতারের বিধান থাকলেও এখন তা সংশোধন করে কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়াই যে কাউকে গ্রেফতারের বিধান করে সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য আইন তৈরী করেছে। সরকার বিচার চলাকালীন সময়ে প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত ৬০ দিনের আপীলের সময়সীমা ৩০ দিনে কমিয়ে এনেছে। কিন্তু বিচার চলাকালীন সময়ে এ ধরনের আইন সংশোধন ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি কথিত বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ ও বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেন। অন্যথায় জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

গতকাল রোববার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি একথা বলেন। মিছিলটি মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ ফরিদ হোসাইন ও লুৎফুর রহমান, পল্টন থানা আমীর অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, মতিঝিল থানা আমীর কামাল হোসাইন ও শাহবাগ থানা আমীর এডভোকেট হেলাল উদ্দীন প্রমুখ।

মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সরকার কথিত বিচারকে প্রহসনে পরিণত করার জন্য নানানভাবে প্রতিবন্ধকতা ও আতংক সৃষ্টি করছে। এর অংশ হিসাবেই ডিবি পুলিশ ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলামের চেম্বাবে হানা দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা ন্যায়বিচার করতে চায় না। তারা ডিফেন্স পক্ষের প্রধান কৌশলীকে নিয়েও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। গোয়েন্দা পুলিশ ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবীর চেম্বারে তল্লাসী চালিয়ে আতংকের সৃষ্টি করেছে। মূলত সরকার ডিফেন্স পক্ষকে ন্যায়বিচার ও আইনী প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করার জন্য এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি সরকারকে হীনম্মন্যতা পরিহার করে ডিফেন্স পক্ষকে হয়রানি বন্ধ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে ক্ষমতায় আসলেও তারা এখন দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। সরকারী দলের রাঘব-বোয়ালদের দুর্নীতির কারণেই দেশের শেয়ার মার্কেট ধ্বংস হয়েছে। হলমার্ক কেলেংকারীর মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতির কারণেই পদ্মাসেতু অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পদ্মাসেতু আদৌ হবে কী-না তা নিয়ে রীতিমত সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশের মানুষের অকল্যাণ ছাড়া কল্যাণ হবে না। তিনি ব্যর্থতা ও দুর্নীতির দায় স্বীকার করে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করার আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। এ সরকারের আমলে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের চিন্তা-চেতনার লোক দিয়ে সাজানো হয়েছে। তারা আগামী নির্বাচনে নিজেদের ভরাডুবি অাঁচ করতে পেরেই জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। তারা দলীয় সরকারের অধীনে পাতানো, ষড়যন্ত্র ও নীলনক্সার নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসতে চায়। কিন্তু পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন পূরণ হবে না। তিনি সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে অবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকারের গণদাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় জনগণ রাজপথেই গণদাবি আদায় করবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।