|
|
স্টাফ রিপোর্টার : ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনা প্রধান হারুন অর রশিদের জামিন আবেদন ‘যথাযথ' হয়নি জানিয়ে ‘উপস্থাপিত হয়নি' মর্মে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল রোববার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের বেঞ্চে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত ‘উপস্থাপিত হয়নি' মর্মে জামিনের আবেদনটি খারিজ করে দিলেও হারুন অর রশিদ আইন অনুসারে নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তার আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু সাংবাদিকদের জানান, বেলা ৩টায় শুনানি করার জন্য আমরা নতুন করে আপিল দায়ের করব।
এ মামলায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি কার্যধারার ৪৯৮ ধারায় জামিন চেয়েছেন। কিন্তু মামলা দুটি বিশেষ আইনে দায়ের হওয়ায় ওই ধারায় জামিন চাওয়া যায় না। মানি লন্ডারিং আইন অনুসারে তারা নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। তাকে সহায়তা করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় হারুন অর রশিদসহ ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্লান্টেশেন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ পাচারের ‘প্রমাণ' পেয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মোঃ তৌফিকুল ইসলাম মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি দায়ের করেন। মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহ আসামীদের সবাইকে জামিন দিলেও এর আইনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জামিনের ওই আদেশ বাতিল করেন। এরপর হারুন অর রশিদ, ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল আমিন ও গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন গত ১১ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ তা নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠান। হারুন অর রশিদ ওই দিনই জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে এ বিষয়ে শুনানির জন্য গতকাল রোববার দিন রাখা হয়।

