|
|
প্রমাণ সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা-অর্থমন্ত্রী
সংগ্রাম ডেস্ক : পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলার পাশাপাশি নির্মাণ কাজ চলবে কি না তা বিশ্বব্যাংকের দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। টোকিওতে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগদান শেষে দেশে ফিরে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের ডিমান্ড হলো তদন্ত ও সেতু বাস্তবায়ন এক সঙ্গে চলুক।’’ ‘‘সেটা হচ্ছে কি না দ্বিতীয় দলটি আসলেই তা জানা যাবে’’, যোগ করেন মুহিত।
বিশ্বব্যাংকের দ্বিতীয় দলটি কবে ঢাকা আসছে জানতে চাইলে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি অর্থমন্ত্রী। তবে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়নে জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত জুনে এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। এরপর শর্তসাপেক্ষে এ প্রকল্পে আবার ফিরে আসার ঘোষণা দেয় বহুজাতিক এ দাতা সংস্থা।
গত ১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারকে দেয়া শর্ত অনুযায়ী দুটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। এর মধ্যে একটি দল দুর্নীতির বিষয়ে বাংলাদেশের তদন্ত অবাধ ও পূর্ণাঙ্গভাবে হচ্ছে কি না তা মূল্যায়ন করবে এবং দ্বিতীয় দলটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজানোর ক্ষেত্রে অন্য ঋণদাতাদের সঙ্গে সমন্বয় করবে, যাতে প্রকল্পের ক্রয় কর্মকান্ড আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান তারা। এর মধ্যে দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণে গঠিত প্রথম দলটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঢাকা ঘুরে গেছে। পরিদর্শক দল বিশ্বব্যাংকে যে প্রতিবেদন দেবে তাতে তাদের ‘আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে' বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘পদ্মা সেতু হবেই। একটা ভুল বোঝাবুঝির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। এই জন্যই কিছু বলতে চাই না। বিশ্বব্যাংক আবার এনগেজ হয়েছে, এটা গুরুত্বপূর্ণ। দুদক এবং তাদের আলোচনা ভালোভাবে চলছে।’’ সম্প্রতি জাপান সফরের আগে গত মাসে চীন সফরে যান মুহিত। সেখানে চীন-অস্ট্রেলিয়ার যৌথ অংশীদারিত্বের একটি কোম্পানি পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান।
তিনি বলেন, ‘‘তারা আমাদের ৩০ শতাংশ অর্থ দিতে বলেছে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থায়ন করবে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।’’ তবে ওই কোম্পানির নাম বলেননি অর্থমন্ত্রী।
জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক প্রমাণ দিলেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে। মন্ত্রী বলেন, ‘‘দুদক মামলা করার জন্য প্রস্তুত। বিশ্বব্যাংককে তারা এ কথা জানিয়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রমাণ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ লাগতে পারে।’’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘুম ভাঙলো
সোনালী ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপের আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ নেয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ঘুম ভাঙতে দেরী হয়েছে' বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তিনি কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘‘২০১০ সালে তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) হলমার্কের ঘটনা পেয়েছে। ২০১১ সালে তারা কোনো রিপোর্ট দেয়নি। এরপর ২০১২ সালে এসে তারা জেগে ওঠল।’’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। তিনি বলেন, ‘‘এ ঘটনাই স্পষ্ট করে, তাদের সামর্থ্যের অভাব রয়েছে।
হলমার্কসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নিরীক্ষায় বেরিয়ে আসে। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রদীপ কুমার দত্ত গতকাল বুধবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, হলমার্ক গ্রুপ ঋণ হিসেবে নেয়া টাকার মধ্যে ২৩২ কোটি টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছে। শিগগিরই তাদের কাছ থেকে আরো ৪৮ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে বলেও প্রদীপ আশা প্রকাশ করেন।
আইএমএফের অর্থ ছাড় প্রসঙ্গ
অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সম্প্রসারিত ঋণ সুবিধার (ইসিএফ) আওতায় এক বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড়ের পর এখন দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। ‘‘আমি মনে করছি, নবেম্বরের মধ্যে আইএমএফ দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় দেবে।’’
মন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে তিনটি বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এগুলো হলো ভ্যাট আইন পরিবর্তন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ। আইএমএফ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে বলেছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে।’’

