|
|
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত
গতকাল বুধবার নিজস্ব বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ নাসের আল বুসাইরী -সংগ্রাম
0সৌদি আরব খালাফ হত্যাকান্ডের বিচার পর্যবেক্ষণ করছে0 হাজীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সৌদী সরকার0 ডিসেম্বরে রিয়াদে সৌদী-বাংলাদেশ যৌথ কমিশনের সভা0
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকাস্থ সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন নাসের আল বুসাইরী বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক অতি প্রাচীন। এ সম্পর্ক কখনই শিথিল হয়নি। বাংলাদেশের সকল দলের সাথে সৌদি আরব সম্পর্ক রাখে। সকল দলের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক থাকুক, বাংলাদেশের জনগণ শান্তিতে থাকুক, এ দেশে সবসময় শান্তি বিরাজ করুক, এটাই সৌদি আরবের কামনা। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সৌদি আরব খালাফ হত্যাকান্ডের বিচার পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তখনই পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হবো, যখন সত্যিকার অর্থে বিচার হবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে গুলশানস্থ রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এবারের হজ্জ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জানান, গত সপ্তাহে সৌদী দূতাবাস হজ্জের ভিসা দেয়ার কাজ সম্পন্ন করেছে। এ বছর ১ লাখ ১১ হাজার ভিসা দেয়া হয়েছে। যাদের কাগজপত্র সঠিক ছিল ও সঠিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছে তাদের সবাইকে ভিসা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এবার হজ্জ ভিসা ইস্যুতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি। ধর্ম মন্ত্রণালয়, হাবসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ থেকে সহযোগিতা থাকায় কোন সমস্যা হয়নি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের বর্তমান সরকার হাজীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। হজ্জ প্রতিপালনের স্থানে নতুন রেল সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলোও প্রস্তুত রয়েছে। এবার ২০টি রেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, হেরেম শরীফের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে। এখন ৪তলায় উন্নীত করার কাজ চলছে। আগে এক সাথে ৫০/৫২ হাজার হাজী তাওয়াফ করতে পারতো, এখন ১ লাখ ৩০ হাজার হাজী তাওয়াফ করতে পারবেন। মদীনায় গত বছর ঈদের পর বাদশা নতুন কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এখন মদীনায় ১ মিলিয়ন হাজী একত্রে নামায পড়তে পারবেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, গত বছর বাদশার ব্যক্তিগত মেহমান হিসেবে এ দেশ থেকে ৬০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির হজ্জ করার যাবতীয় খরচ বহন করা হয়েছে। এবারও সমপরিমাণ ব্যক্তিবর্গের হজ্জে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ৪০০ জন ব্যক্তি বাদশার আমন্ত্রণে হজ্জ করছেন। বিশ্ব মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্যই এই উদ্যোগ।
৩ বছরের জন্য ওমরা বন্ধ থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটা একেবারেই অসম্ভব। আল্লাহর ঘরে কেউ ওমরা করতে যাবে, আর তাকে তা করতে দেয়া হবে না, তা অসম্ভব ব্যাপার। উন্নয়ন কাজ চলছে, ওমরার কাজও চলবে।
বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া কখনওই বন্ধ করা হয়নি, তবে পরিমাণ কমেছে। এক সময় বাংলাদেশ থেকে সীমাহীন শ্রমিক নেয়া হতো। এখন সারা বিশ্ব থেকেই ভারসাম্যপূর্ণভাবে শ্রমিক নেয়া হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
সৌদী কূটনীতিক খালাফ আল আলী হত্যাকান্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ হত্যাকান্ড নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তৎপরতায় সৌদী সরকার মোটামুটি সন্তুষ্ট। গ্রেফতার করায় ইতোমধ্যে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী দ্রুত বিচার আইনে বিচারের কথা জানিয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সৌদি আরব বিচার কাজ পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তখনই পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হবো, যখন সত্যিকার অর্থে বিচার হবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে। কী বিচার হচ্ছে আমরা তার অপেক্ষায় আছি।
সৌদীয়া এয়ারলাইন্স টিকিট প্রাপ্তিতে সমস্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সৌদীয়া এয়ারলাইন্স শুধু ৫টি এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করে এটা ঠিক নয়। ছোট বড় ১৫০টির মতো এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হয়। নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ বেশি নিয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, সৌদীয়া এয়ারলাইন্সের একার পক্ষে সব টিকিট বিক্রি সম্ভব নয় বলেই এজেন্সির মাধ্যমে দেয়া হয়। টিকিট ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে কোন ভালো প্রস্তাব থাকলে, আগামী বছর থেকে সেটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের সকল দলের সাথে সৌদি আরব সম্পর্ক রাখে। সকল দলের সাথে সকল দলের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক থাকুক, বাংলাদেশের জনগণ শান্তিতে থাকুক, এ দেশে সবসময় শান্তি বিরাজ করুক, এটাই সৌদি আরবের কামনা, এটাই সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় পলিসি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক অতি প্রাচীন। এ সম্পর্ক কখনই শিথিল হয়নি। সরকার পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কের কোন অবনতি হয়নি। খালাফ হত্যাকান্ড নিয়ে বাংলাদেশ থেকে আমরা অনেক সময় পর্যন্ত কোন সাড়া পাইনি। কিন্তু তারপরও সম্পর্কের কোন অবনতি হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ডিসেম্বরে রিয়াদে সৌদী-বাংলাদেশ যৌথ কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

