Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 October 2012, ৩ কার্তিক ১৪১৯, ১ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২১২৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ট্রাইব্যুনালে অসুস্থ কাদের মোল্লার মর্মস্পর্শী বক্তব্য

আমাকে মেরে ফেলা সরকারের উদ্দেশ্য হলে সময় নষ্ট না করে গুলী করুক

* এনজিওগ্রাম করার সুযোগও দেয়া হয়নি * জোর করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে

শাহেদ মতিউর রহমান : জামায়াতে ইসলামীর  সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২ এ  তার শারীরিক অসুস্থতা ও সরকারের ভুমিকা নিয়ে এক মর্মস্পর্শী ও আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাকে মেরে ফেলা যদি সরকারের উদ্দেশ্য হয় তাহলে ট্রাইব্যুনালে সময় নষ্ট না করে সরাসরি গুলী করুক।

কাদের মোল্লার  বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রধান তদন্ত কর্মকর্তার জেরার পূর্বে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন। এদিকে  এই মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খানকে গতকাল জেরা করেছেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আবদুস সোবহান তরফদার। আজ বৃহস্পতিবারও তাকে জেরা করা হবে।

কাদের মোল্লা ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমাকে মেরে ফেলা যদি সরকারের উদ্দেশ্যই হয়ে থাকে তাহলে ট্রাইব্যুনালে এনে বিচারের নামে সময় নষ্ট না করে আমাকে সরাসরি গুলী করে হত্যা করতে পারে। সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে অপর দুই বিচারক ওবাইদুল হাসান ও শাহিনুর ইসলাম এজলাসে আসার পর পেছনের দিকে ডকে থাকা আব্দুল কাদের মোল্লা হাত উচুঁ করে ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন বিচারক শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘মিষ্টার কাদের মোল্লা, আপনি কী কিছু বলতে চাইছেন'? জবাবে কাদের মোল্লা বলেন, ‘জি মাই লর্ড, আমি খুব জোরে কথা বলতে পারছি না। তাই আমি একটু সামনে এসে আপনাদের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলতে চাই'। তখন বিচারক শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘ঠিক আছে আপনি ওখানে দাঁড়িয়েই বলুন, আমরা অপনার কথা শুনতে পাচ্ছি'।

আবদুল কাদের মোল্লা তখন ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে বলেন, গতকাল (অর্থাৎ মঙ্গলবার) আপনাদের আদেশের পরে আমাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেখানকার ডাক্তার আমার বুকের ব্যথার কথা জানার পরে আমাকে ভর্তি হতে এবং আমার হার্টের কন্ডিশন ও বুকের ব্যথার কারণ জানার জন্য এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন। কিন্তু আমাকে সেই সুযোগ না দিয়ে ঐ দিনই কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

কাদের মোল্লা আরো বলেন, আজ আমাকে জোর করে এখানে (ট্রাইব্যুনালে) নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে আমার শরীরের  অবস্থা খুবই খারাপ  অথচ এই অবস্থাতেই আমাকে এভাবে টানা-হেচঁড়া করা হচ্ছে। আমার শরীরের অবস্থা এবং গতকালের ব্যথা ও জার্নির পর আজ ফজরের নামাজের পরে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম গতকালের আপনাদের আদেশের কারণেই আমাকে হয়তো আজ ট্রাইব্যুনালে আনা হবে না। কিন্তু সকালেই আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জোর করে নিয়ে আসা হয়েছে। আমি অন্তত আজ আসতে চাইনি। কিন্তু তা কেউ মানেনি। পরে আমি কর্তৃপক্ষকে বললাম আমাকে যদি এই অবস্থাতেই নিতে হয় তাহলে অন্তত এম্বুল্যান্সে করে যেন নেয়া হয়। কিন্তু সেটিও করা হয়নি। আমাকে আজ নিয়ে আসা হয়েছে সাধারণ গাড়িতে করেই। তিনি বলেন, আমাকে মেরে ফেলা যদি সরকারের উদ্দেশ্যই হয়ে থাকে তাহলে কষ্ট করে ট্রাইব্যুনালের সময় নষ্ট না করে সরকার আমাকে সরাসরি গুলী করে মেরে ফেলুক।

গতকাল জেরার এক পর্যায়ে ডিফেন্স পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) কাদের মোল্লাকে হাসপাতালে নেয়ার বিষয়ে আপনারা (ট্রাইব্যুনাল) আদেশ দিয়েছেন। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর যেহেতু আব্দুল কাদের মোল্লার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ তাই আগামী ৬/৭ দিন কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে তার অনুপস্থিতিতেই শুনানি চলতে পারে। তখন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এ টি এম ফজলে কবীর বলেন, তাহলে এ বিষয়ে একটি আবেদন আপনারা আজই জমা দিয়ে দেবেন। কাদের মোল্লাকে আগামী ৬/৭ দিন না আনলেও চলবে।