|
|
মিয়া হোসেন : আজ বৃহস্পতিবার হিজরী বছরের শেষ মাস জিলহজ্জের শুরু। মুসলিম উম্মাহর মহামিলনের মাস জিলহজ্জ। এ মাসেই সামর্থ্যবান মুসলমানরা পবিত্রহজ্জব্রত পালন করেন। কাবা শরীফের সামনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা দেন ‘‘লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাববাইক’’ অর্থ্যাৎ হে আল্লাহ আমি হাজির, আমি হাজির।
হজ্জ ইসলামের অন্যতম অবশ্য পালনীয় বিধান। যাদের শক্তি সামর্থ্য আছে তাদের জন্য নামাজ-রোযার মতোই হজ্জ ফরজ। হাদীস শরীফে আছে, আল্লাহ যাদের শক্তি ও সামর্থ্য দিয়েছেন, সচ্ছলতা দিয়েছেন, তারা যদি হজ্জ না করেই মৃত্যুবরণ করেন তবে তারা জাহান্নামের ভয়ঙ্কর অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হবে। বুখারী শরীফে এসেছে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যার ওপর হজ্জ ফরজ করা হয় সে যদি তা আদায় না করে আমি বলতে পরি না যে, সে ঈমান নিয়ে মারা যাবে কি না।
হজ্জকে ইসলামের অন্যতম খুঁটি বলা হয়। এই হজ্জ ফরজ হওয়ার কতগুলো শর্ত রয়েছে। সেগুলো হলো, দৈহিক ও মানসিক সুস্থতা, বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, স্বাধীন হওয়া, পরিবারের ভরণ-পোষণের মতো অর্থ সম্পদ থাকা, হজ্জে যাওয়ার পথ নিরাপদ হওয়া এবং মহিলাদের জন্য স্বামী অথবা রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয় (মুহরিম) থাকতে হবে। ইসলামে হজ্জের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব অত্যধিক। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মক্কায় গিয়ে হজ্জব্রত পালন করে থাকেন। হজ্জ মুসলমানদের আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলন। হজ্জে গিয়ে মুসলমানগণ আল্লাহতায়ালার কাছে নিজের গুণাহসমূহের ক্ষমা প্রর্থনা করেন, বাকি জিন্দেগী আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলার জন্য প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করে নির্দিষ্ট সময়ে অন্তর স্বগৃহে আসে।
এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার লোক মক্কায় হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশে যাচ্ছেন।

