|
|
সাংবাদিকদের মহার্ঘভাতার ঘোষণা আজ
স্টাফ রিপোর্টার : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, অধিকাংশ সংসদ সদস্য (এমপি) নৈতিবাচক কর্মকান্ডে জড়িত উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্ট্যারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি যে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেই জরিপ প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ কপি তাদের কাছে চাওয়া হবে। প্রতিবেদন দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। টিআইবির প্রতিবেদন সঠিক না হলে তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। তিনি গতকাল বুধবার সকালে সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে ‘‘দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় রিপোর্টিং, আত্মরক্ষা ও উদ্ধার তৎপরতা’’ শীর্ষক তিনদিনের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালায় অংশ নেন ৩০ জন সাংবাদিক।
ক্র্যাব সভাপতি আখতারুজ্জামান লাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আবু নাঈদ মোঃ শহিদুল্লাহ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদ। বক্তব্য রাখেন ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক ইসারক হোসেন ইসা, ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশাও ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মেজর এমএম মতিউর রহমান।
তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে উদ্বোধনীতে বলেন, আজকেই (বৃহস্পতিবার) সাংবাদিকদের মহার্ঘভাতার ঘোষণা করা হবে। কত শতাংশ হবে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী জানান, সাংবাদিকরা যা চেয়েছেন তাই ঘোষণা করা হবে।
তিন দিনের কর্মশালার উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সারাজীবন এদেশের রাজনৈতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছি। তাছাড়া অশুভ শক্তির সৃষ্ট দুর্যোগসহ প্রাকৃতিক এবং ঔপনেবেশিক দুর্যোগ মোকাবিলাও করেছি। এই তিন ধরনের দুর্যোগ এ দেশের জনগণ শত শত বছর যাবত মোকাবিলা করে একটি দক্ষতা অর্জন করেছে। এখন মাটির নিচের যে দুর্যোগ তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কারণ মাটির ওপরের দুর্যোগ মোকাবিলায় এ দেশের জনগণ প্রস্তুত বরাবরই। তাই সাহসী জনগোষ্ঠীর এখনই মাটির নিচের দুর্যোগ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। তা না হলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটবে। তিনি বলেন, একটি উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প একটি দেশের মানচিত্র পাল্টে দিতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাসে বিল্ডিং কোড মানতে হবে। এই কোড মানার জন্য একটি বিধি-বিধান তৈরি করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমনে তিনি মিডিয়াকে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণের আহবান জানান।
টিআইবির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রতিবেদন দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আরটিআইবির প্রতিবেদন যদি সঠিক না হয়, তাহলে টিআইবির কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।’’
দেশের অর্ধেক সংসদীয় আসনের সদস্যদের ওপর ‘গবেষণা' চালিয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) রোববার এক প্রতিবেদনে বলে, সংসদ সদস্যদের ৯৭ শতাংশই বিভিন্ন ‘নেতিবাচক কার্যক্রমে' জড়িত।
টিআইবির ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলেছে, অনির্বাচিতদের ক্ষমতায় আনার পথ তৈরিতে এই প্রতিবেদনের যোগসাজশ থাকতে পারে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলেছে, ওই প্রতিবেদন সরকারি দলের জন্য প্রযোজ্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফায়ারের ডিজি আবু নাঈম শহীদুল্লাহ বলেন, ভূমিকম্প সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সীমিত। তাছাড়া যে কোন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও ক্ষেত্রেও অভাব রয়েছে। তাই নাগরিক দায়িত্ব দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় জ্ঞান আহরণ করা। এতে পরিবার, দেশ ও জাতির মঙ্গল ঘটবে। তা না হলে আমাদের জন্য ভয়াবহ দুর্যোগ অপেক্ষা করছে যা ধ্বংসলীলায় পরিণত করবে আমাদের দেশ, জাতি ও সমাজকে।
ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, দুর্যোগ প্রশমনে আমরা যারা কাজ করছি তাদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। বিগত সময়ে এ দেশে পোশাক শিল্পে সৃষ্ট দুর্যোগ, দুর্ঘটনায় ৪ শতাধিক কর্মী মারা গেছে। জ্ঞান ও সচেতনতা থাকলে এ হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা তথ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ক্রাইম বিটে যারা কাজ করেন তাদের খুবই ঝুঁকিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এজন্য ঝুঁকি ভাতা ওয়েজবোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা অতীব জরুরি।
মালিক-সম্পাদকের সাথে তথ্যমন্ত্রীর বৈঠক : সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকরা সরকারের কাছে কাগজের সমস্যা সমাধান ও বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদপত্রের সম্পাদকরা এ তথ্য জানান। বৈঠকে অংশ নেন সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, আমাদের সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবু হাসান শাহরিয়ার ও প্রথম আলোর প্রধান বার্তা সম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি প্রমুখ।
বৈঠকের পর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের বলেন, দু'একদিনের মধ্যে অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের আগে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সাংবাদিক-কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা ঘোষণা করা হবে। ওয়েজবোর্ড চেয়ারম্যান দু'একদিনের মধ্যে একটি ঘোষণা করেন।
ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, কাগজের সমস্যা সমাধান করার ও বিজ্ঞাপনের মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছি। সরকারের ইতিবাচক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরার জন্য বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্পাদকরা কাগজের সমস্যা, বিজ্ঞাপনের সমস্যা ও পাওনা টাকাসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ইনু বলেন, সরকার ও গণমাধ্যম মিত্র। মিত্রের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করা হবে। সংবাদপত্র ঔপনিবেশিক শাসন, সামরিক স্বৈরতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ এখনও সাম্প্রদায়িকতার চক্রান্তমুক্ত নয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রামুর ঘটনায় প্রমাণ করে দেশ এখনও চক্রান্তমুক্ত নয়। গণতন্ত্রের শক্তি জঙ্গি আক্রমণের মুখে। মিডিয়া এসবের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়েও বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করে কমিটি গঠন করা হবে। তাদের মতামতেই নীতিমালা প্রণয়ন হবে।
গত ১৮ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও প্রেস কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি কাজী এবাদুল হককে চেয়ারমান করে অষ্টম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। এ বোর্ডকে ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সুপারিশ পেশ করতে বলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ডের প্রথম সভাতেই মহার্ঘ ভাতার প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ঘোষণা করার কথা।

