Quantcast
ঢাকা, শনিবার 20 October 2012, ৫ কার্তিক ১৪১৯, ৩ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৬৬১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আরেকজন আটক অজানা আতঙ্কে বাংলাদেশীরা

নাফিস ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে বসবেন বাংলাদেশী কূটনীতিকরা

সংগ্রাম ডেস্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক নাফিস সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছে সরকার। এজন্য আমেরিকাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসাল অফিস সে দেশের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার রাতে এ বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

বার্তা২৪ জানায়, গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। দীপু মনি বলেন, আগে নাফিসের নাগরিকত্ব সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে সরকার। সে ক্ষেত্রে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে বাংলাদেশী নাগরিক না বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। তিনি বলেন, তার জাতীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে আমরা আমেরিকার কাছে কনস্যুলার একসেস চাইব। কনস্যুলার একসেস পেলে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক নাফিসের সঙ্গে একাকী কথা বলার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বৈঠক হলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগের সব বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পাশে দাঁড়িয়েছে, নাফিসের ক্ষেত্রেও সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে মার্কিন আমেরিকার নিউইয়র্কে ফেডারেল নিজার্ভ ব্যাংক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশী তরুণ কাজী রেজোয়ানুল আহসান নাফিস (২১)। তবে নাফিসের পরিবার ও এলাকাবাসী দাবি করেছেন, নাফিস নিরীহ ও শান্ত-প্রকৃতির ছেলে। তাকে ইচ্ছে করেই এ ঘটনায় ফাঁসানো হতে পারে। হয়তবা বোকা নাফিসকে বড় ধরনের কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার বানানো হয়েছে।

আরেকজন আটক : বাংলানিউজ জানায়, বোমা হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে আটক ২১ বছর বয়সী বাংলাদেশী তরুণ নাফিসের সহযোগী হিসেবে আরেকজনকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃক্মখলা বাহিনী। তবে আটক ব্যক্তিকে শিশু পর্নোগ্রাফির অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় হাওয়ার্ড উইলি কার্টার নামের ওই ব্যক্তিকে আটকের কথা ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, একজন এফবিআই এজেন্ট শিশু পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ছবি ও ৩টি ভিডিও ক্লিপ সংবলিত একটি ল্যাপটপ ও একটি হার্ডডিস্ক কার্টারের এ্যাপার্টমেন্টের নিকটবর্তী একটি আবর্জনা রাখার স্থান থেকে উদ্ধার করে। উদ্ধার করা কম্পিউটারে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে কার্টারকে খুঁজে বের করে আটক করা হয় বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

কৌঁসুলিদের দাবি ওই কম্পিউটার থেকে ‘ইয়াকিন' পরিচয়ে একটি ইমেইল ঠিকানা পাওয়া গেছে। ওই ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে গ্রেফতার হওয়া কার্টার বাংলাদেশী নাফিসের সঙ্গে মিলে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ভবন উড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলো বলে দাবি করেছেন নিউইয়র্কের একজন ফেডারেল কৌঁসুলি।

আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশীরা : নাফিসের ঘটনায় নিউইয়র্কে অজানা আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। অজানা আশংকা নিয়ে ঘটনার পরদিন গতকাল শুক্রবার স্কুল করেছে বাংলাদেশী ছেলে মেয়েরা। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আরো কঠোর আইন প্রণয়নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে বাঙালী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকাতে ভিনদেশী কিছু তরুণের মুখে নানান শব্দ প্রয়োগে উচ্চস্বরে ধিক্কার দিতে শোনা গেছে।

নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের প্রভাবশালী ও জ্যেষ্ঠ সিনেটর চাক শুমার স্টুডেন্ট ভিসা নীতি এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিদেশী ছাত্রদের জন্য সহায়ক বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশী ছাত্রদের ভর্তি ও ভিসা ব্যবস্থাকে ‘পুনঃপর্যালোচনা' করার ওপর জোর দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কংগ্রেসের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান পিটার কিংও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন । আমেরিকার ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন নেতা ও নিউইয়র্ক সিটি ভোটার রেজিস্ট্রেশন সহায়তা বিষয়ক কমিশনার বাংলাদেশী মোর্শেদ আলম এ ব্যাপারে বলেছেন, সিনেটর চাক শুমারের বক্তব্যে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আরো কঠোর আইন প্রণয়নের  আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নাফিসের পক্ষে এদিকে এখন পর্যন্ত কমিউনিটির কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। তবে ইউএস সুপ্রিম কোর্টের বার এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এ্যাটর্নি  মঈন চোধুরী এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘হি ইজ প্রিজিউম টু বি ইনোসেন্ট, আনটিল প্রুভেন গিল্টি।' এটা আমেরিকার আইন। নাফিস নির্দোষ হলে তা প্রমাণে তার পরিবারসহ প্রবাসী বাংলাদেশীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বাংলাদেশ দূতাবাস বা কন্স্যুলেটের পক্ষ থেকে এখনও বিষয়টি খতিয়ে দেখা ও পর্যবেক্ষণ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। নাফিসের গ্রেফতারের পর থেকে প্রতিবেশীসহ  তার আশপাশের অনেকেই অপ্রয়োজনে বাইরে থাকা বা অন্যদের সাথে কথাবার্তা একেবারেই এড়িয়ে চলছেন বলে জামাইকার বাঙালিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সবার আশঙ্কা অহেতুক পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হওয়া কিংবা সন্দেহের শিকার হওয়া।

প্রবাসের সবচাইতে পুরাতন সংগঠন (১৯৪৮-২০১২) লিগ অব আমেরিকা ‘সন্ত্রাসী'  কর্মকান্ডের নিন্দা জানাতে আগামী পরশু স্থানীয় সময় রোববার জ্যাকসন হাইটসে এক সমাবেশের আয়োজন করেছে। তারা এহেন ‘সন্ত্রাসী হামলার' পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে সমাবেশে বলবে, ‘দিস ইজ নট আওয়ার ফেস।' নাফিস বাংলাদেশের পরিচয় নয়। তাছাড়া বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।

সমাবেশের উদ্যোক্তাদের অন্যতম জালালাবাদ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জন উদ্দীন বলেছেন, ‘দিস ইজ নট আওয়ার ফেস।' আমরা সেকুলার। আমেরিকা আমাদের ‘এডপটেড হোম।' আমরা অবশ্যই এহেন ধিক্কারজনক কাজের নিন্দা জানাবো এবং আমরা সমাবেশে কমিউনিটির পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে প্রয়োজনে আমেরিকার প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেব । নাফিসের ঘটনার পর প্রথম দিন স্কুলে নাফিসের ঘটনার সংবাদ সম্পর্কে অবহিত কী না ছাত্রছাত্রীদের কাছে শিক্ষকরা তা জানতে চেয়েছেন উল্লেখ করে লিগ অব আমেরিকার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির চৌধুরী শাহীন বলেছেন, আমাদের সন্তানেরা অজানা আশঙ্কা নিয়ে স্কুল করেছে।

তিনি  তার এক পরিচিতের কথা উল্লেখ করে আরো জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় যাদের ভিসা গ্রহণ করার কথা ছিল, সিদ্ধান্ত বদলে তাদেরকে ভিসা দেয়া হয়নি। এমনকি ট্যাক্সিতে চালকের পরিচয় জানতে চাওয়া ও সাবওয়েতে বাংলাদেশীদের নিয়ে কথাবার্তা তাদেরকে নাজুক পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

আব্দুল কাদির চৌধুরী আরো বলেন, নাফিসের ঘটনার সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে কোনো ধরনের পরিচয়ের ‘লেবেল' এঁটে দিলে আমাদের জন্য তা হবে সত্যি খুবই ভয়ঙ্কর। অথচ আমরা অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় কমিউনিটি। জাতিগতভাবেও তাই।

এদিকে নাফিসের হামলা পরিকল্পনা নিয়ে কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষণীয়। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে উদ্ধৃত করে অনেকেই এফবিআই'র ফাঁদ পেতে অপরাধে উস্কানি দেয়াকে স্বাভাবিক জীবনাচরণের জন্য হুমকি এবং অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, কেউ  ‘ফাঁদ' পাতলে তাতে পা না দেয়ার বুঝটুকু সবারই থাকা উচিত। তবে ২১ বছর বয়সী নাফিসের বুদ্ধির অপরিপক্কতাকেও অনেকে সহানুভূতির চোখে দেখছেন।