Quantcast
ঢাকা, শনিবার 20 October 2012, ৫ কার্তিক ১৪১৯, ৩ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৮৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সেমিনার

বিএসএফ সীমান্তে শুধু মানুষই হত্যা করছে না স্কুল ছাত্রীদেরও নিয়মিত উত্যক্ত করছে-ভারতের মানবাধিকার সংগঠক

0ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে প্রতিবছর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে - ড. মুনতাসীর মামুন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে ভারতের মানবাধিকার সংগঠক মি. কিরিটি শেঠী বলেছেন, উভয় দেশের সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই বিব্রতকর ঘটনা ঘটে। ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা ভাষা ও সংস্কৃতিগত পার্থক্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় সীমান্তে শুধু মানুষই হত্যা করছে না, স্কুল ছাত্রীদেরও নিয়মিত উত্যক্ত করছে। তারা চোরাচালানেরকেও উৎসাহিত করছে। একই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন বলেন, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি অনেকটা মজবুত হলেও প্রতিবছর সেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে। আসলে সাম্প্রদায়িক চেতনা থেকেই এমনটি হয়।

গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর পাঁচতারা হোটেল রূপসী বাংলা বলরুমে অনুষ্ঠিত ‘গণতন্ত্র সংখ্যালঘু' শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তারা এ মন্তব্য করেন। মৈত্রী সমিতির সভাপতি ড. একে আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপমহাদেশের  খ্যাতনামা চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব শাবানা আজমী। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ  নেন সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ, শ্রীলংকার ড. মোঘল , ভূটানের কারমা তোষার, নেপালের মি. বার্থ প্রমুখ। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান।

পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ নামক সংগঠনের সম্পাদক কিরিটি শেঠী আরো বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত মূলত মানবসৃষ্ট। উভয় দেশের সীমান্ত এলাকায় হাজার হাজার ‘জানখালাস' বাস করছে, যারা কিনা শুধু সীমানার কারণে দু'দেশের জন্যই অবৈধ বাসিন্দা।

বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসির মামুন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থান প্রসঙ্গে বলেন, হিন্দু-খৃস্টান-বৌদ্ধ পরিষদ করে সংখ্যালঘুরা নির্যাতন বঞ্চনা থেকে রেহাই পেতে পারেন না বরং বাংলাদেশকে নিজের দেশ মনে করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, অর্পিত সম্পত্তি তাদেরকেই ফেরত দেয়া হবে যাদের প্রমাণপত্র রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আইএলও কনভেনশন অনুসারে দেশে কোনো আদিবাসী নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুরসহ সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকেরা আসলে উপজাতি। যুদ্ধাপরাধ বিচার বানচালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও তিনি পুনরায় মন্তব্য করেন।

বিশেষ অতিথি জীবন্ত কিংবদন্তীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাবানা আজমী বলেন, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সকল দেশেই গরম পানির পাত্রে বিক্ষিপ্ত ব্যাঙের মতো দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। নারী সংখ্যালঘুরা আরো বেশি প্রান্তিক। সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক স্বার্থেই দাঙ্গা সংঘটিত হয় বলেও তিনি মনে করেন।

মূল প্রবন্ধে ড. আবুল বারাকাত দাবি করেন, রামু ট্রাজেডির সাথে কট্টর মৌলবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে। শত্রু সম্পত্তি আইন সংবিধান, সভ্যতা ও মানবতাবিরোধী বলে তিনি মনে করেন। হিন্দুরা বাংলাদেশে বঞ্চনার বৃত্তে বন্দী বলেও আবুল বারাকাত উল্লেখ করেন।