Quantcast
ঢাকা, সোমবার 22 October 2012, ৭ কার্তিক ১৪১৯, ৫ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৬৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মওদুদ

আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক ছাত্রলীগ

গতকাল রোববার ডিআরইউ মিলনায়তনে মুক্তচিন্তা ফোরাম আয়োজিত একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ছাত্রলীগকে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অনেকগুলো কলঙ্ক আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কলঙ্ক হলো ছাত্রলীগ। সরকারের চার বছরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে চারশ'টি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৩টি। তারা শিক্ষাঙ্গনের শত বছরের ঐতিহ্য জ্বালিয়ে দিয়েছে। হত্যা, সন্ত্রাস, ছাত্রীদের ওপর নির্যাতনসহ এমন কিছু নেই যা তারা করেনি। আর এসবের জন্য দায়ী সরকার। ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং মদদ দিচ্ছে। কারণ এ সরকারের আইনের শাসন নেই। তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস মানেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাস। সরকারি দলের এই ছাত্রসংগঠনটি ছাড়া অন্য কেউ শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্ত চিন্তা ফোরাম আয়োজিত ‘শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস' শীর্ষক একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক আমিরুল মোমিনীন মানিক।

বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমানে দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। ছাত্রলীগের কাছে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা জিম্মি। উদাহরণ হিসেবে রাজশাহী, কুমিল্লা, ঢাকা ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলা যায়। এসব ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা এই ঘটনা দেখছি। এটা একটু কম বা বেশি হয়। বর্তমানেও দেশের সব স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আর তা সমাধানে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটা কোনো দলের নয়, এটা জাতীয় সমস্যা।

বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে জন্যে আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি দাবি করছি। কিন্তু আমরা সবাই জানি সরকার তা করতে পারবে না। কারণ বর্তমান সরকারই আইনের শাসনকে ভয় পায়। আবারো সরকারকে ব্যর্থ আখ্যায়িত করে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে মওদুদ বলেন, যারা নিজেদের ছেলেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তারা দেশকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। আর এ জন্যে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রীর নয়, সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে এখন এক ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। মওদুদ বলেন, ছাত্রলীগ তাদের মূল আদর্শ থেকে সরে গেছে, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত না করে, বরং তা বিনষ্ট করেছে তারা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর নাম করে ছাত্রলীগকে সারাদেশে চাঁদা তোলার লাইসেন্স দিয়েছেন। ছাত্রলীগ সেই চাঁদা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরীহ ছাত্রদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে। চাঁদা তুলতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের দু'গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে এবং সেখানে একজন নিহত হয়েছে।