Quantcast
ঢাকা, সোমবার 22 October 2012, ৭ কার্তিক ১৪১৯, ৫ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৫০৪ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ট্রাইব্যুনালে মাসুদ সাঈদীর সাক্ষ্য

আমার পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

নাজমুল আহসান রাজু : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন ও দু'বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় ডিফেন্সপক্ষের দু'সাফাই সাক্ষীর জেরা এবং ১৬তম সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। মাওলানা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী প্রসিকিউশনের জেরায় বলেছেন, তার পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হয়রানির উদ্দেশেই মামলাটি করা হয়েছে। এর পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, ‘সাঈদীকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।' এই কথা বলার দু'ঘণ্টা পর পিরোজপুরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। বিদেশে যেতে সরকারের বাধা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলে হাইকোর্ট বাধা দেয়া অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এরপর আপিলের শুনানিতে এটর্নি জেনারেল ওই কথা বলেন। মাসুদ সাঈদী ২০০৯ সালের ১৩ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত দুটি পৃথক রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন। যুগান্তরের প্রথম পাতায় এটর্নি জেনারেলের রিপোর্ট এবং ১৫তম পৃষ্ঠায় মুক্তিযোদ্ধা সইজউদ্দিন পশারীর ছেলে মানিক পশারীর দায়ের করা যুদ্ধাপরাধের মামলার রিপোর্ট প্রকাশ পায়। দুটি রিপোর্টকে প্রদর্শনী ‘বিকে' এবং ‘বিকে-১' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার এ সংক্রান্ত দেয়া বক্তব্যও বিয়টিকে প্রমাণ করে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে ডিফেন্সপক্ষের সাক্ষী অসুস্থ হলেও জেরা শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাসপাতালে থাকা অসুস্থ রোগীর বেড এনে রাখা হয়েছিল। গত বুধবার সাফাই সাক্ষী আব্দুস সালাম হাওলাদার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে সাক্ষী অসুস্থ হলেও জেরা করতে যেন অসুবিধা না হয় তাই এ বেড আনা হয়। কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল থেকে বেডটি আনা হয়েছিল। সাক্ষী আব্দুস সালাম সুস্থ অবস্থায় প্রসিকিউশনের জেরার জবাব দেয়ায় ওই বেডের প্রয়োজন হয়নি। বেলা ২টা ১০ মিনিটে একজন পুলিশ সদস্য দুজন লোকসহ এসে বেডটি ট্রাইব্যুনাল থেকে নিয়ে যান।

গতকাল বুধবার আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের নেতৃত্বে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক এই জেরা ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাধারণত ট্রাইব্যুনাল বেলা ১টা পর্যন্ত শুনানি গ্রহণ করেন। এই নিয়মের ব্যত্যয় করে ২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত শুনানি চলে।

প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের থাকা-খাওয়ার জন্য করা সেইফ হাউজের অস্তিত্ব নেই বলা হলেও এ বিষয়ে ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশের একটি রিপোর্ট দাখিল করেন মাসুদ সাঈদী। প্রকাশিত রিপোর্টে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বিষয়টি স্বীকার করেন। সেখানে বলা হয়েছে, আমার দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক সৈয়দ হায়দার আলীকে প্রশ্ন করেছিলেন, সেইফ হাউজে থাকা সাক্ষীদের কেন হাজির করা হলো না জবাবে তিনি বলেন, আমি সেইফ হাউজের দায়িত্বে নেই। যারা দায়িত্বে আছেন তারা এটা বলতে পারবেন তার এই বক্তব্যে প্রমাণিত হয় সেইফ হাউজের অস্তিত্ব আছে।

স্বাধীনতার পর মাওলানা সাঈদী পলাতক ছিলেন বলে প্রসিকিউশনের দাবি করা বক্তব্যের জবাবে মাসুদ সাঈদী ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বরের একটি পত্রিকা দাখিল করেন। ইত্তেফাকের রিপোর্টে দেখা যায় রাজধানীর মতিঝিলের টি এন্ড টি কলোনী মসজিদে প্রধান অতিথি হিসেবে মাওলানা সাঈদী তাফসির মাহফিল করেছেন। এই রিপোর্ট প্রমাণ করে মাওলানা সাঈদী পলাতক ছিলেন না। সারা দেশে তিনি তাফসির মাহফিল করেছেন।

প্রশ্ন : নুরু খানের বাড়িতে আগুন দেয়ার সময় কোথায় ছিলেন?

উত্তর : বাড়িতেই ছিলাম।

প্রশ্ন : রাজলক্ষ্মী স্কুল থেকে কত দূরে আপনার বাড়ি?

উত্তর : ২০০/৩০০ গজ।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আপনি রাজলক্ষ্মী স্কুলে গিয়েছিলেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : এখন কি করেন?

উত্তর : জমিজমা চাষ করাই। নার্সারি আছে, দেখাশোনা করি।

প্রশ্ন : নুরু খানের বাড়িতে আগুন দেয়ার সময় আপনার বাড়ির অন্য লোকেরা কোথায় ছিল?

উত্তর : বাড়ির আশপাশে আড়ালে-আবডালে ছিল।

প্রশ্ন : আপনি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেটা কি আবডাল না খোলা ছিল?

উত্তর : আবডাল ছিল।

প্রশ্ন : আপনার বাবা পিস কমিটিতে ছিলেন?

উত্তর : সত্য নয়। তিনি বৃদ্ধ মানুষ, দোকানদারি করতেন।

প্রশ্ন : নির্বাচন নিয়ে মামলা কোন আদালতে করা হয়?

উত্তর : আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : যেসব রাজাকারদের কথা বলেছেন তারা আপনাদের বাড়িতে আসত?

উত্তর : তারা রাজাকার ক্যাম্পে থাকত। রাজাকাররা পারেরহাট বাজারে আসত এবং দোকানে এসে জিনিসপত্র নিত, বলতো, লিখে রাখো পরে টাকা দেব।

প্রশ্ন : কে কে রাজাকার এবং পিস কমিটিতে কে কে ছিল?

উত্তর : পিস কমিটির সদস্যদের চিনতাম।

প্রশ্ন : পিস কমিটি যখন গঠন হয় তখন আপনি ছিলেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : যারা পিস কমিটিতে ছিল তাদের খোঁজ-খবর রাখেন?

উত্তর : সত্য নয়। রাখি না।

প্রশ্ন : সুধাংশু বাবু যখন নির্বাচন করেছেন তার বক্তব্য শুনেছেন?

উত্তর : তার বক্তব্য শুনেছি। সব লিফলেট, কাজগপত্র পড়ে দেখেছি। পোস্টারে লিখিত, নৌকা মার্কায় ভোট দিন এটা পড়েছি।

প্রশ্ন : সুধাংশু বাবু সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেন নাই এটা সত্য নয়।

উত্তর : এটা অসত্য।

প্রশ্ন : পিস কমিটির লোক ও পাক সেনারা যখন নুরু খানের বাড়িতে প্রবেশ করে আপনাকে দেখেছে।

উত্তর : তারা আমাকে দেখেনি। আমি তাদের দেখেছি।

প্রশ্ন : আপনার দাদার নাম কি?

উত্তর : আলিম উদ্দিন হাওলাদার।

প্রশ্ন : আপনি ও আপনার বাবা স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আসামীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে সাক্ষ্য দিতে এসেছেন?

উত্তর : সত্য নয়।

এরপর ১৬ নম্বর সাফাই সাক্ষী আব্দুল হালিম ফকির জবানবন্দী দেন। আমার নাম আব্দুল হালিম ফকির। পিতা- মৃত মোঃ সেকান্দার আলী ফকির, মায়ের নাম- মৃত কুলসুম বিবি, বয়স- ৫৫ বছর, গ্রাম- টেংরাখালী, উপজেলা- জিয়ানগর, জেলা- পিরোজপুর, পেশা- সাংসারিক কৃষি। ১৯৭১ সালে নবম শ্রেণীতে লেখাপড়া করতাম। এসএসসি পাস করেছি।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের টেংরাখালী গ্রামে রাজাকার, পিস কমিটি ও পাকবাহিনীর কোনো লোক প্রবেশ করেনি। কোনো বাড়ি-ঘর লুটতরাজ করেনি। কেবল নির্বাচন হয়নি। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মাওলানা সাঈদী সাহেব রাজাকার ছিলেন না। পিস কমিটির সদস্য এবং স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন না। মানবতাবিরোধী কোনো কাজ তার দ্বারা হয়নি। সাঈদী সাহেব ট্রাইব্যুনালে হাজির আছেন। এই আমার জবানবন্দী। তাকে জেরা করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।

প্রশ্ন : টেংরাখালী কোন ইউনিয়নে পড়েছে?

উত্তর : পারেরহাট ইউনিয়নের মধ্যে।

প্রশ্ন : সাউথখালী কোন ইউনিয়নে পড়েছে?

উত্তর : প্রত্যাশী ইউনিয়নে।

প্রশ্ন : জিয়ানগর থানা আগে কোন জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল?

উত্তর : পিরোজপুর।

প্রশ্ন : জিয়ানগর থানায় কয়টা ইউনিয়ন ছিল?

উত্তর : ৩টা, আরেকটি ইউনিয়নের নাম বালিপাড়া।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে বালিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে ছিল?

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : বালিপাড়া ইউনিয়নে কয়টা ওয়ার্ড ছিল?

উত্তর : ৯টি ওয়ার্ড ছিল।

প্রশ্ন : এই ইউনিয়নের কোন ওয়ার্ডে কে কে  মেম্বার ছিলেন?

উত্তর : বলতে পারব না।

প্রশ্ন : প্রত্যাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার কে কে ছিল বলতে পারবেন?

উত্তর : আমি বলতে পারব না।

প্রশ্ন : সাঈদী সাহেবের বাপ-চাচারা কয় ভাই?

উত্তর : বলতে পারব না।

প্রশ্ন : সাঈদী সাহেবেরা কয় ভাই পারলে নাম বলেন।

উত্তর : সাঈদী সাহেবরা দু'ভাই, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মোস্তফা সাঈদী।

প্রশ্ন : মোস্তফা সাঈদীর কয় ছেলে কয় মেয়ে?

উত্তর : বলতে পারব না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মোস্তফা সাঈদী বিবাহিত না অবিবাহিত ছিলেন?

উত্তর : বলতে পারব না।

প্রশ্ন : পারের হাট ইউনিয়নে কতজন রাজাকার ও পিস কমিটির লোক ছিল?

উত্তর : সঠিক বলতে পারব না, পিস কমিটির সবার নাম বলতে পারব।

প্রশ্ন : পিস কমিটির সবাইকে আপনি চিনতেন কারণ তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।

উত্তর : আমি ছেলেবয়সী ছিলাম। পিস কমিটির লোকজন মুরববী বয়সের ছিলেন।

প্রশ্ন : যুদ্ধের সময় তাদের কাছে যাওয়া-আসা করতেন।

উত্তর : এটা সত্য নয়।

প্রশ্ন : পিস কমিটি গঠনের সময় আপনি ছিলেন।

উত্তর : সঠিক নয়, আমি ছিলাম না।

প্রশ্ন : পিস কমিটির অফিসে গেছেন।

উত্তর : যাইনি।

প্রশ্ন : এসএসসি কবে পাস করেছেন?

উত্তর : ১৯৭৩ সালে।

প্রশ্ন : আপনারা কয় ভাই?

উত্তর : আমরা চার ভাই, আমি তৃতীয়। আমার অন্যান্য ভাইয়েরা জীবিত আছে।

প্রশ্ন : টেংরাখালী গ্রাম কত বড়?

উত্তর : আধা মাইলের মতো হবে।

প্রশ্ন : আপনাদের গ্রামে কোনো রাজাকার ছিল?

উত্তর : আমাদের গ্রামে কোনো রাজাকার পিস কমিটির সদস্য ছিল না।

প্রশ্ন : মুক্তিযোদ্ধা ছিল?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ যখন চলে তখন আপনাদের গ্রামে কতটি বাড়ি ছিল?

উত্তর : আনুমানিক ৬০/৭০টি বাড়ি ছিল।

প্রশ্ন : ওই সময় কতজন ইউনিয়ন পরিষদে খাজনা দিত?

উত্তর : আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : আপনার ছেলে মেয়ে কত জন?

উত্তর : তিনজন ২ মেয়ে ১ ছেলে।

প্রশ্ন : আপনার পিতা কি করতেন?

উত্তর : কৃষি কাজ করতেন, সালিশও করতেন।

প্রশ্ন : আপনার পিতা ও পরিবারের পিস কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।

উত্তর : এটা সত্য নয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার বাবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

প্রশ্ন : পিস কমিটির লোকেরা কি করত?

উত্তর : লোকজনকে ধরে নিত। পাকবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করত। পাকবাহিনী গুলী করে হত্যা করত।

প্রশ্ন : মানবতাবিরোধী কি ধরনের কাজ?

উত্তর : লুট করা, অগ্নিসংযোগ করা, মানুষ হত্যা করা এবং ধর্ষণ করাকে বুঝি।

প্রশ্ন : মানবতাবিরোধী কাজ সম্পর্কে কবে থেকে জানেন?

উত্তর : মানবতাবিরোধী কাজটিকে ১৯৭১ সালে সাধারণত মানুষ এই আলোচনা করতেন।

প্রশ্ন : আপনাকে যে সাক্ষী দিতে হবে, এটা কবে জেনেছেন?

উত্তর : চলতি বছর ১০ অক্টোবর জেনেছি, এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে হবে।

প্রশ্ন : আপনাকে লোকে বললেই সাক্ষ্য দেন।

উত্তর : সত্য নয়। আজই প্রথম আমি কোনো মামলায় সাক্ষ্য দিচ্ছি।

প্রশ্ন : কে বলছে আসতে?

উত্তর : সাঈদী সাহেবের শ্যালক।

প্রশ্ন : আপনি পারিবারিকভাবে স্বাধীনতাবিরোধী থাকার কারণে বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায়, আর্থিকভাবে লাভবান হযে জামায়াত নেতা মাওলানা সাঈদী সাহেবকে বাঁচাতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

উত্তর : সত্য নয়, আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই।