Quantcast
ঢাকা, সোমবার 22 October 2012, ৭ কার্তিক ১৪১৯, ৫ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৪৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

হলমার্ক কেলেঙ্কারি

দুর্নীতিতে জড়িত ৩০ রাঘব বোয়ালের কথোপকথন দুদকের হাতে

স্টাফ রিপোর্টার : সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িত রাঘব বোয়ালদের কথোপকথনের মাধ্যমে দুর্নীতি কিভাবে হয়েছিল তার পথগুলোর সন্ধানে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৩০ ব্যক্তির মোবাইল ফোনের কললিস্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সরকারের একজন উপদেষ্টা, সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, রূপসী বাংলা শাখার (সাবেক শেরাটন) একাধিক কর্মকর্তা, হলমার্কের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। দুদক সূত্র এসব তথ্য জানায়।

সূত্র জানায়, প্রায় পঞ্চাশ ব্যক্তির কললিস্ট সংগ্রহের চেষ্টায় আছে দুদক। দুদকের আবেদনের বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটর ইতোমধ্যে গত তিন বছরের (২০১০, ২০১১, ২০১২) ৩০ ব্যক্তির ফোনের তালিকা (আউটগোয়িং ও ইনকামিং) দিয়েছেন। গত তিন বছরে তারা কবে কখন কাকে ফোন দিয়েছেন এবং এসব ব্যক্তির ইনকামিং কলের সকল তথ্য রয়েছে। এসব ব্যক্তির মোবাইল ফোনের তালিকা এখন দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগে রয়েছে বলে সূত্র জানায়। এ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গঠিত দুদকের তদন্ত টিম ইতোমধ্যে হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদের কললিস্ট খতিয়ে দেখছে। তানভীরের ফোনের তালিকায় দেখা গেছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি, সোনালী ব্যাংকের একাধিক পরিচালক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তানভীরের যোগাযোগ হতো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সন্দেহভাজনদের ভয়েস রেকর্ডও প্রয়োজনে দুদক সংগ্রহ করবে। মোবাইল কল লিস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে আমি বলতে চাই না। তদন্ত চলাকালীন তদন্তে বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমন বক্তব্য দেয়া ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের খুঁজে বের করা। যে পদ্ধতি অনুসরণ করে দুদকের তদন্ত টিম জড়িতদের বের করতে পারবে বলে মনে করবে সে পদ্ধতিই গ্রহণ করবে। এদিকে রিমান্ডে নিয়ে তানভীর মাহমুদের কাছ থেকে দুদক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে জানায় দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বহুল আলোচিত হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়ুন কবিরকে আসামী করে মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রমনা মডেল থানায় ১১টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের মধ্যে হলমার্কের ৭ জন এবং সোনালী ব্যাংকের ২০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) শাখা থেকে ভুয়া ঋণপত্র বা এলসির মাধ্যমে হলমার্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের ছয় সদস্যের অনুসন্ধান দলের সদস্যরা বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় এসব মামলা করেন। তারা আসামীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, পরস্পরের যোগসাজশ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থের সব অপব্যবহার সংক্রান্ত মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনেছেন। মামলাগুলো করেছেন দুদকের অনুসন্ধান দলের সদস্য সিও উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী, উপ-পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঁঞা, সহকারী পরিচালক মোঃ মশিউর রহমান, নাজমুচ্ছায়াদাত, উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ মজিবুর রহমান ও মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

মোট ১১টি মামলায় হলমার্ক গ্রুপ স্বীকৃত বিলের বিপরীতে পরিশোধিত (ফান্ডেড) দায় হিসেবে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৭ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানান অনুসন্ধান দলের প্রধান মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী।

দুদক জানায়, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখা থেকে হলমার্ক মোট ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। এর মধ্যে ফান্ডেড অর্থ হচ্ছে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৭ টাকা। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই ফান্ডেড দায় লোপাটের সঙ্গে যাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীকে দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করলেও দালিলিকভাবে তার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় মামলায় তিনি আসামী হননি বলে জানিয়েছেন দুদকের তদন্ত টিম। দুদকের মামলায় বর্তমানে হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ, চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) তুষার আহমেদ, সোনালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (শেরাটন শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক) কে এম আজিজুর রহমান বর্তমানে দুদকে তাদের রিমান্ড চলছে।