|
|
মিয়া হোসেন : বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত ও বিশ্ব শান্তির দিশারী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মভূমি পবিত্র মক্কা নগরীর কাবা শরীফে অযুত কন্ঠে লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাববাইক ধ্বনিত হওয়ার মাস পবিত্র জিলহজ্ব। এ মাসের পঞ্চম দিবস আজ সোমবার। দিন যতই যাচ্ছে হজ্বপালনেচ্ছুদের মধ্যে মহান প্রভুর দিদার ও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর শাফায়াত লাভের বাসনা মনের গভীরে ততই তীব্র হচ্ছে।
বিশ্ব মুসলিমের প্রাণকেন্দ্র বায়তুল্লাহ শরীফে যিয়ারতের জন্য তথা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে তামাম দুনিয়া থেকে ছুটে যাওয়া মুসলমানগণ এখন সেখানে সমবেত। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম চিত্র সেখানে দৃশ্যমান। সেখানে বিশ্বের ধনী গরীব, আমির ফকির শেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ সব একাকার। কোন ধরনের ভেদাভেদ বা পার্থক্যের কোন দেয়াল সেখানে নেই। সবার পরনে একই ধরনের পরিচ্ছদ। সবার মুখে একই রবের নাম উচ্চারিত হয়। সবার লক্ষ্য উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। মহান প্রভুর পরম করুণাময় রহমত সান্নিধ্য লাভ।
এই মহিমান্বিত হজ্বের তিনটি কাজ ফরজ। এগুলো হচ্ছে ইহরাম বাঁধা, উকুফে আরাফা বা আরাফার ময়দানে অবস্থান করা এবং তাওয়াফে জিয়ারত বা বায়তুল্লাহ শরীফ জিয়ারত করা। এর পাশাপাশি আরো কয়েকটি কাজ হজ্ব পালনকারীদের আমল করতে হয়। সেগুলো হলো মুজদালিফায় অবস্থান করা, সাফা- মারওয়ার পাহাড় দুটির মধ্যে দৌড়ানো বা সায়ী করা। মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাঁটা। নির্দ্দিষ্ট স্থানে কঙ্কর নিক্ষেপ এবং জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখের পর দুই বা তিন দিন মিনায় অবস্থান করা। ‘‘ইহরাম’’ অর্থ কোন জিনিস নিজের জন্য ব্যবহার হারাম করা । মীকাত বা মীকাতের আগে তালবিয়া পাঠ করে হজ্বের নিয়ত করা এবং নির্ধারিত পোশাক পরিধানের মাধ্যমে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় কার্যাদি সম্পন্নের নাম ইহরাম। এর মাধ্যমে হজ্ব পালনকারী নিজের ওপর সাময়িকভাবে কতিপয় কাজ হারাম করে নেয়া। যেমন- স্ত্রী সহবাস, চুল, নখ, কাটা, সুগন্ধী ব্যবহার করা, সেলাই কাপড় পরিধান, অশ্লীল কথা বলা, শিরক করা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, যে স্থান থেকে ইহরাম বাধতে হয়, সে স্থানকে মীকাত বলে আর ‘‘লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাববাইক’’ পাঠ করাকে তালবিয়া বলা হয়।
মীকাত বা ইহরাম বাধার স্থান প্রত্যেক এলাকার জন্য পৃথক পৃথক। যেমন মদীনাবাসীদের জন্য মীকাত হচ্ছে ‘‘যুলহুলায়ফা’’ নামক স্থান। সিরিয়াবাসীদের জন্য কারনুল মাসাসিল, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানীদের জন্য ইয়ালামলাম এবং মক্কাবাসীদের জন্য মীকাত হলো হেরেম শরীফ।

