|
|
রাঙ্গামাটিতে উপজাতি গ্রুপের সংঘর্ষের পর তল্লাশি
অস্ত্র, গোলাবারুদ ও নাশকতামূলক সরঞ্জামসহ ৭ জনকে আটক
রাঙ্গামাটি জেলা সংবাদদাতা : গত সোমবার রাঙ্গামাটি শহরের উলুছড়িতে পার্বত্য চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষের দুই গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১ জন নিহত হওয়ার পর সোমবার সারারাত ও গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঐ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমান অস্ত্র, গোলাবারুদ ও নাশকতামূলক সরঞ্জামসহ ৭ জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রও রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি সদর সেনাজোনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আটক সাত জন, অস্ত্র ও গোলা-বারুদসমূহ সাংবাদিকদের দেখানো হয়। আটক সকলেই সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের পার্বত্য চুক্তিপক্ষের সমর্থক বলে দাবি করেছেন। সোমবার গোলাগুলীর ঘটনার পরপরই সেনা অভিযানে পাঁচজন ও গতকাল তল্লাশির সময় আরো দু'জনকে আটক করা হয়। এদের সকলকেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করেছেন সেনা কর্মকর্তারা।
আটক ৭ জন হলো সুভাষ চাকমা, গোপাল ত্রিপুরা, জুন চাকমা, অনিক চাকমা, দীপ্ত মারমা, সুশীল জীবন চাকমা ও দালা চাকমা। নিহত শুক্রসেন চাকমাসহ আটককৃতরা সবাই নিজেদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য বলে দাবি করেছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে সেনা ও আনসারবাহিনীর যৌথ তল্লাশির সময় আটককৃত সুশীল জীবন চাকমা একজন আনসার সদস্যকে লক্ষ্য করে তার কাছে থাকা এসএমসি থেকে গুলী করে। তবে অত্যাধুনিক এ অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে সে অভ্যস্ত না থাকায় এই ফায়ারে কোনো গুলী বের হয়নি। এতে ভাগ্যচক্রে আনসার সদস্য বেঁচে যায়। সাথে সাথে ঐ আনসার সদস্য একটি বস্তাসহ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এসএমসিসহ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল নাজমুল হক জানান, সোমবার বিকেলে সন্ত্রাসীদের দুইদলের মধ্যে উলুছড়ি এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের খবর পেয়ে সেনাসদস্যরা সেখানে হাজির হয়। এসময় সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলীবর্ষণ করে। এতে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলীবর্ষণ করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঐস্থান থেকে শুক্রসেন চাকমা (৩০) নামে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি রাইফেল ও গুলী রাখার পোচ উদ্ধার করা হয়।
পরে সেনাবাহিনী ঐ স্থানে সারারাত অভিযান পরিচালনা করে ৭ জনকে আটক করে। সেনাবাহিনী নিহত ও আটকদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য না জানালেও সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জনসংহতি সমিতির সদস্য বলে দাবি করেন। এর মধ্যে ৫ জনকে সোমবার রাতে এবং ২ জনকে মঙ্গলবার সকালে আটক করা হয়।
আটকদের কাছ থেকে যেসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, তা হলো-১টি মার্ক থ্রি রাইফেল, ১টি সাবমেশিন কার্বাইন, ২টি বিদেশী রাইফেল, ১টি একনলা বন্দুক, ৩টি পোচ, ১৮৬ রাউন্ড তাজা গুলী, ৩টি ম্যাগজিন এবং সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত পোশাক, চাঁদা সংগ্রহের রশিদ এবং ৮টি মোবাইল সেট। প্রেস ব্রিফিংয়ে রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোঃ নাজমুল হক, সদর জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আ ন ম ফয়সল, রাঙ্গামাটি রিজিয়নের জি টু আই মেজর রাজিব, সদর জোনের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, জেলা আনসার বাহিনীর কমান্ড্যান্ট এসএম লাভলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে উপরোক্ত কর্মকর্তাগণ ছাড়াও রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারোয়ার হোসেন স্বয়ং এবং ঘাগড়া তিন আনসার ব্যাটালিয়নের সিও জানে আলম সুফিয়ান, লে. মোঃ আতাউল গণিসহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

