|
|
এইচ এম আকতার : গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম কমেছে প্রায় দেড় ডলার। নতুন রফতানি আদেশ না থাকায় আগের চামড়া নিয়েও বিপাকে ব্যবসায়ীরা। ফলে কমছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বার্ষিক রফতানির পরিমান। একই সঙ্গে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের মূল উপাদান লবণ নিয়ে কারসাজির আশংকাও করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার অ্যান্ড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ) সভাপতি মো. বেলাল হোসাইন বলেন, গত কয়েক মাস ধরে চামড়া রফতানিতে মন্দা চলছে। মাত্র দুই মাসে প্রায় ২০ লাখ বর্গফুট চামড়ার রফতানি আদেশ বাতিল হওয়ায় মজুদ বেড়েছে। গত বছরের এ সময়ে ১০ শতাংশ চামড়া মজুদ থাকলেও এবার ৩০ শতাংশের বেশি মজুদ রয়েছে। গত বছরের অবিক্রীত প্রায় ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের চামড়া যুক্ত হবে এবছরের নতুন চামড়ার সঙ্গে। ফলে সংরক্ষণের জটিলতার আশংকা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চামড়ার রফতানি আদেশ আগের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে আগের রফতানি আদেশ বাতিল না করে কম দামে রফতানি করতে হচ্ছে। ফলে বেশির ভাগ ট্যানারিতে চামড়া অবিক্রীত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাসংকটের কারণে এখন চামড়া ব্যবসায়ীরাও লোকসানে রয়েছেন।
ট্যানারি এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার মন্দার কারণে এবার চামড়াজাত পণ্যের অর্ডার অনেক কম হয়েছে। এ অবস্থায় লোকসান দিয়ে চামড়া কেনার কোন সুযোগ নেই। আমরা বাজার চাহিদার অতিরিক্ত দাম দিয়ে চামড়া কিনতে পারি না। এছাড়া লবণ নিয়েও প্রতিবছর এক ধরনের কারসাজি করা হয়। চামড়া প্রক্রিয়াকরনের জন্য লবণের চাহিদা থাকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টন। দেশের অভ্যন্তর ও আমদানিকৃত অপরিশোধিত লবণের মাধ্যমে তা পূরণ করা হলেও এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী চামড়া প্রক্রিয়াকরণের সময়ে লবণের বস্তা প্রতি দাম তিন'শ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা বাড়িয়ে দেয়। লবণের বাজার নিয়ে যেন কেউ কারসাজি করতে না পারে এ জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, বিশ্ব মন্দা ও সরকারের প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বন্ধ হওয়ায় চামড়া শিল্প ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। কমেছে রফতানির পরিমাণ। গত বছর চামড়া রফতানি ব্যাহত হওয়ায় এবার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের বেশি চামড়া মজুদ রয়েছে। ঋণের জন্য ব্যাংক ও সরকার তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে টাকার অভাবে চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা দুরূহ হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, নতুন বছরের আরো ৭০-৭৫ লাখ বর্গফুট পশুর চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে সবাই চিন্তিত। এ সুযোগে অনেক চামড়া দেশ থেকে পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাবনাময় এ শিল্পের সমস্যা সমাধানে চামড়া পাচার রোধ, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, সরকারি প্রণোদনা প্রদানে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, এবার অন্য বছরের তুলনায় চামড়া রফতানি কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৯ কোটি ৪৮ লাখ ডলার চামড়া রফতানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি হয়েছে ৭ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার। গত জুলাই-আগস্টের সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের চামড়া রফতানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও রফতানি হয় ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ শতাংশ কম। ইপিবির তথ্য মতে গত বছরের একই সময়ে চামড়া রফতানি হয় ৬ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

