Quantcast
ঢাকা, বুধবার 24 October 2012, ৯ কার্তিক ১৪১৯, ৭ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৪০৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা

সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন আহমেদকে জেরা

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলায় প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী রয়টার্স এর চাকুরিচ্যুত সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন আহমেদ এর জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল্। জেরার এক পর্যায়ে সাক্ষী জানান ‘রয়টার্স' বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচনা করে। তাই পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন হলে রয়টার্স ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভেবে জবানবন্দী দেয়ায় তাকে চাকুরিচ্যুত করেছে। ডিফেন্সপক্ষে এডভোকেট আহসানুল হক হেনা তাকে জেরা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হকের নেতৃত্বে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের ট্রাইব্যুনালে এই জেরা করা হয়।

প্রশ্ন : আপনি তদন্তকর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী কোথায় দিয়েছিলেন?

উত্তর : বেইলী রোডস্থ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছি।

প্রশ্ন : আপনি দাবি করেছেন গুডস হিলে আপনাকে নির্যাতন করা হয়েছে। কথিত নির্যাতনের ওই স্থানগুলোতে আপনি পরবর্তীতে গেছেন বা তদন্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন?

 উত্তর : আমি যাইনি। তদন্ত কর্মকর্তাকেও দেখাইনি।

প্রশ্ন : গুডস হিলে একটা লম্বা টিনের গ্যারেজ ছিল বলেছেন

উত্তর : গ্যারেজে দু-তিনটা গাড়ী রাখা হতো। এর ছাদ ছিল টিনের।

প্রশ্ন : ওটা গ্যারেজ ছিল না।

আমি আটক থাকা অবস্থায় সেখানে কোনো গাড়ি দেখিনি। পাকিস্তানী সেনারা থাকতো।

প্রশ্ন : জুন-জুলাই মাসে সেখানে পাকিস্তানি মিলিশিয়া থাকতো। সেখানে পাকিস্তানি সেনারা থাকতো না

উত্তর : সত্য নয়

প্রশ্ন : মিলিশিয়াদের কাজ ছিল গাড়ি-ঘোড়া চেক করা

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : চট্টগ্রাম কলেজ, কাজেম আলী হাইস্কুল, ইসলামিয়া ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, দারুল উলূম মাদরাসা ও সেন্ট মেরি স্কুল গুডস হিলের কাছে অবস্থিত

উত্তর : সত্য

প্রশ্ন : আপনার ভাই-বোন আছে

উত্তর : আমরা তিনভাই-এক বোন। আমি মেঝ

প্রশ্ন : আপনার বাবা চকবাজারে ভাড়া করা বাসায় থাকতো

উত্তর : সত্য

প্রশ্ন : আপনাদের পাড়ায় ছাত্রলীগের অনেক নেতা ছিল?

উত্তর : কয়েকজন নেতা ছিল

প্রশ্ন : আপনি কি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন করতেন?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনার নেতা ছিলেন এডভোকেট মৃদুল গুহ

উত্তর : সত্য নয়

প্রশ্ন : রয়টার্সের হেড অফিস কোথায়

উত্তর : লন্ডনে বার্তা বিভাগীয় হেড অফিস। এটা বিদেশী আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের চীফ করেসপন্ডেন্ট কে

উত্তর : আনিস আহমেদ

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনাকে যে অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছে তাকে এসব কথা বলেছেন?

উত্তর : একাধিকবার বলেছি।

প্রশ্ন : আপনাকে কেন বরখাস্ত করা হয়েছিল?

উত্তর : নীতিগত কারণে রয়টার্স এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্স চায় যেন রাজনৈতিক বিষয়ে কোন কর্মী না জড়ায়। রয়টার্স মনে করে যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি রাজনৈতিক। পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার আসলে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই প্রশ্নের পর প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম আপত্তি জানান। তিনি বলেন এটা মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত নয়। তিনি বলেন রয়টার্সকে এখানে টেনে আনার উদ্দেশ্য কি? জবাবে আহসানুল হক হেনা বলেন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালের জবানবন্দীতে বলেছেন তদন্তকর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দেয়ায় তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়।  এই নিয়ে মৃদু তর্কবিতর্ক শুরু হলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, আমি দেখছি। ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনি কি নিজে চাকুরি ছেড়ে দিয়েছেন। এই প্রশ্ন করার পর ট্রাইব্যুনাল বলেন এটা রিপোটিং করা যাবে না। সাক্ষী বলেন, আমার চাকুরি প্রতিবছর পুনঃনবায়ন হয়ে থাকে। রয়টার্স খরচ কমানোর (ব্যয় সংকোচন নীতি) জন্য আমার চাকুরির চুক্তি বাতিল করেছে। এ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, এতে সাক্ষীর স্বাধীনতা নষ্ট হচ্ছে। সাক্ষীতো এভাবে বলেনি। এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ডিফেন্সপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল তাকে ‘আগের দিনের কনটেম্পট এর বিষয়টি বলে সতর্ক করলে ফখরুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আপনারা কিছু হলেই কনটেম্পট এর ভয় দেখান। এটাতো ঠিক না । বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আপনাদের চোখ দেখতে পাই আমরা। আমদের দাবি হচ্ছে সে বিষয়গুলো ধরিয়ে দেয়া।

এরপর ট্রাইব্যুনাল বলেন মি. চৌধুরী আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীকে বলুন। আইনজীবী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছে গিয়ে পরামর্শ করেন। এরপর তার আইনজীবী সাক্ষীকে প্রশ্ন করেন এর মানে রয়টার্স প্রতিটি দেশে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হতে চায়না। আপনি জবানবন্দী দেয়ার পর তারা মনে করেছে আপনি রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন? সাক্ষী বলেন হতে পারে।

প্রশ্ন : আপনাকে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছ থেকে এক হাজার ডলার দিয়েছিলেন।

উত্তর : এটা সত্য নয়।

প্রশ্ন : সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মন্ত্রী থাকাকালে সাংবাদিক হিসেবে গুডস হিলে গিয়েছিলেন?

উত্তর : না, যাইনি।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটনার আগে আপনাদের সাথে উনাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল?

উত্তর : ছিল না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের আগে আপনি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দেখেছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের আগে আপনার পিতার সঙ্গে ফজলুল কাদের চৌধুরীর পিতার ভাল সম্পর্ক ছিল না।

উত্তর : আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : আপনাকে বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামের কোন স্থান থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল?

উত্তর : না, গ্রেফতার করেনি।

প্রশ্ন : হাজারি গলি ও দেওয়ানজি পুকুর পাড়ে সংখ্যালঘু বেশি থাকার কারণে আর্মিরা বেশি যাওয়া-আসা করতো।

উত্তর : জানা নেই।

প্রশ্ন : সেখানে কারো আশ্রয়ে আপনার থাকা সম্ভব ছিল না।

উত্তর : এটা সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনাকে যে কনডেম সেলে রাখা হয়েছিল সেখানকার ৫ জনের নাম বলতে পারবেন?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ক্যাপ্টেন ও আলী খান, ক্যাপ্টেন এম এন সাফা, প্রফেসর যোগেশ সিং, ইত্তেফাকের নূরুল ইসলাম ও নেলী সেন গুপ্ত ওই পাহাড়ে থাকতেন।

উত্তর : আমি শুনিনি।

প্রশ্ন : কারাগারে আপনার সঙ্গে ইব্রাহিম হোসেন বাবুল চৌধুরী মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদ পত্রিকার মালিক কে ছিল জানেন?

উত্তর : এখন মনে পড়ছে না, তবে আজাদী পত্রিকার মালিক কে ছিল আমি জানি।

প্রশ্ন : আজাদ পত্রিকার আব্দুল্লাহ আল হারুন স্বাধীনতা পত্রিকা চালাতেন এটা জানেন?

উত্তর : এটা আমি জানি।

প্রশ্ন : যেখান থেকে আজাদ পত্রিকা প্রকাশ হতো সেখান থেকে স্বাধীনতা পত্রিকা প্রকাশ হতো?

উত্তর : জানা নেই।

প্রশ্ন : আপনি সাংবাদিকতায় কবে আসেন?

উত্তর : ১৯৭১ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যোগদান করি।

প্রশ্ন : ১৯৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত কতটি সংবাদ সংস্থা ও কয়টি পত্রিকায় কাজ করেছিলেন।

উত্তর : চারটি সংবাদ সংস্থা, একটি নিজের এবং চারটি পত্রিকায় কাজ করেছি।

প্রশ্ন : আপনি কোনো কারণে একটি সংস্থায় বেশিদিন কাজ করতে পারতেন না।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, ঠিকানা- এট দি কলোম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, নিউইয়র্ক অন সিক্সথ নবেম্বর ১৯৭১ পড়েছেন কি না?

উত্তর : না পড়িনি।

প্রশ্ন : আপনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক নন, দি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে কর্মরত আছেন।

উত্তর : আমি অবশ্যই একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, তবে ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে আমার সস্পৃক্ততা বেশি কারণ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আগের চেয়ে বেড়েছে।

প্রশ্ন : বেলুজ ইস্পাহানী ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস পত্রিকাটির কি?

উত্তর : পরিচালনা পর্ষদের একজন সম্মানিত সদস্য।

প্রশ্ন : ইউএসটিসির ক্যাডেট ছিলেন এ ধরনের কোনো কথা তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেননি?

উত্তর : বলার প্রয়োজন ছিল না।

প্রশ্ন : আপনি গুডস হিলের বাড়ির লনে ১৫/২০ জন লোকের কথা বলেছেন। এদের কারো নাম বলতে পারবেন?

উত্তর : লনের মধ্যে যারা ছিল তাদের আমি চিনতে পারিনি।

প্রশ্ন : পরবর্তীতে জেনেছি ও শুনেছি তিনি ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। প্রসিকিউশনের শেখানো কথা অনুযায়ী এ কথা বলেছেন।

উত্তর : এটা সত্য নয়।

প্রশ্ন : ফজলুল কাদের চৌধুরী আপনাকে কিলঘুষি মারা এবং গালাগাল করা একথা বানানো।

উত্তর : এটা সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনাকে সিভিল ড্রেসে কেউ ধরে আনেনি। আপনি আজিজ নগরে আজিজ উদ্দিন লিমিটেডে চাঁদা চাইলে তারা আপনাকে আর্মির কাছে তুলে দেয়।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : নবেম্বর মাসে আপনি আর্মির সঙ্গে সমঝোতা করে বের হন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেন।

উত্তর : এটা সত্য নয়।

প্রশ্ন : যেদিনের ঘটনা বলেছেন, সেদিন গুডস হিলে নিয়ে যাওয়া হয়নি, ফজলুল কাদের চৌধুরী গালাগাল করেনি। আপনি উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এসব কথা বলেছেন।

উত্তর : সত্য নয়।