|
|
কুরবানির হাটে শেষমুহূর্তে উপচে পড়া ভিড়
গতকাল বৃহস্পতিবার মেরুল বাড্ডার আফতাবনগর কুরবানির হাটে এই গরু বিক্রি হয়েছে পঞ্চাশ হাজার টাকায় -সংগ্রাম
কামাল উদ্দিন সুমন : একদিন বাদেই ঈদ। পছন্দ করে কুরবানির পশু কিনতে হাটে হাটে ক্রেতাদের প্রচন্ড ভিড়। একই পরিবারের কয়েকজন করে সদস্য দল বেঁধে যাচ্ছেন হাটে। ঘুরে ঘুরে বাজেটের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পছন্দ করছেন কুরবানির পশু। দামে হয়ে গেলেই পশুর রশি ধরে ছুটছেন বাড়ির পানে। এ যেন ধর্মপ্রাণ মানুষের অন্যরকম এক আনন্দ। শেষ মুহূর্তে এসে জমজমাট হয়ে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় ক্রেতাসাধারণ দরদাম নিয়ে বেশি ভাবছেন না। বাজেটের কাছাকাছি কিংবা একটু বেশি হলেও কিনে নিচ্ছেন পছন্দের গরু। বিক্রেতারাও দাম হেঁকে আগের মতো বসে নেই। তারাও তাদের টার্গেট অনুযায়ী দাম না পেলেও একটু কমেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
এ বছর রাজধানীতে গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ ২১টি কুরবানির পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) তত্ত্বাবধানে ১৫টি হাট ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ৬টি হাট পরিচালিত হচ্ছে। এসব হাটে ঈদের দিন দুপুরের আগ পর্যন্ত চলবে কেনাবেচা। দেশের বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরগুলোর কুরবানির পশুর হাটগুলো শেষ মুহূর্তে এসে ব্যাপক জমজমাট হয়ে উঠেছে। ঈদের আগমুহূর্তে গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডি, বারিধারার মতো অভিজাত এলাকাসহ অলি-গলিতেও গরু-ছাগল নিয়ে বসে যান পাইকাররা। এছাড়া রয়েছে বেশ কয়েকটি অবৈধ হাট। আর যারা কিনে এনেছেন তারাও বাড়ির সামনে বেঁধে রেখেছেন পছন্দের পশুটি। সারাদেশে এখন আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু কুরবানির পশুকে ঘিরে। তুলনামূলক এবার গরুর দাম কিছুটা কম।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী গত বছর ৫ লাখ পশু কুরবানি হয়েছিল। লোকসংখ্যা ও মানুষের আয় বৃদ্ধি, রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে এবার ৪০ থেকে ৫০ হাজার বেশি পশু কুরবানির ধারণা করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে রাজধানীর পশুর হাটের ইজারাদারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এরই মধ্যে ৫ থেকে ৬ লাখ কুরবানির পশু উঠেছে বিভিন্ন হাটে। আজ শুক্রবার আরও দেড় থেকে দুই লাখ পশু ওঠানো হবে এসব হাটে। এ অবস্থায় গত বছরের মতো এবার কুরবানির পশুর সংকট সৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর কুরবানির পশুর হাটগুলোতে গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে গাবতলী, আরমানিটোলা, আগারগাঁও, তালতলা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ ও মেরাদিয়া মাঠের মতো বড় হাটগুলোতে সকাল থেকেই কুরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়। বেশির ভাগ হাটেই দেশী ষাঁড় গরুর চাহিদা ছিল বেশি। হাটে উঠেছে পর্যাপ্ত সংখ্যক ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। এসব পশুর মধ্যে ছাগল বিক্রি হচ্ছে বেশি। গাবতলী হাটে গতকাল পাঁচটি উট দেখা গেছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে পশু বিক্রি আরমানিটোলা টোলা পশু হাটের ইজারাদারদের সঙ্গে সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার পশুর দাম সহনীয়। বিভিন্ন হাটে ছোট ষাঁড় গরুর দাম ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, ছোট থেকে মাঝারি গরু ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা, মাঝারি আকৃতির ষাঁড় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা, মাঝারি থেকে বড় আকৃতির গরু ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা, বড় আকৃতির ষাঁড় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা, বিশালাকৃতির গরু ২ থেকে ৮ লাখ টাকা, ছোট ছাগল ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা, মাঝারি আকৃতির ছাগল ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা, মাঝারি থেকে বড় আকৃতির ছাগল ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, বড় আকৃতির ছাগল ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা, বিশালাকৃতির ছাগল ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন আকৃতির উট বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায়। গাবতলী হাটে গত বছর যে গরু ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে এবার সেই গরু ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আজ শুক্রবার দাম বাড়বে বলে তার ধারণা। সামনে সাদা রঙের বড় একটি গরুর দাম চাওয়া হলো সাড়ে তিন লাখ টাকা। হাটের ইজারাদার সোহেল আহমেদ জানান, রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী এ হাটটি তিনি প্রায় এক বছর আগে সাড়ে সাত কোটি টাকায় ইজারা নেন। এ ছাড়া প্রায় দেড় কোটি টাকা ভ্যাটও রয়েছে। তিনি জানান, এবার গরুর আমদানি অনেক বেশি। এ কারণে দাম বেশ কম। তার অভিযোগ, রাজধানীতে অস্থায়ী পশুর হাটগুলো তিন দিনের কেনাবেচার জন্য ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু অস্থায়ী হাটগুলোয় সাত দিন আগেই গরু তুলে কেনাবেচা শুরু হয়ে যায়। এর ফলে স্থায়ী হাটের ইজারাদার হিসেবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন হাটে বেপারীরা চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেকে। হাটে ট্রাক ঢোকানোর সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলে ট্রাক নিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না হাটে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, পছন্দের হাটে গরু নিয়ে যেতে পারছে না।

