|
|
স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচার কাজ হয়নি। কার্যতালিকায় কোন মামলা না থাকায় ট্রাইব্যুনালে বসেননি বিচারপতিরা। তবে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো.নিজামুল হক ও সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি এম আনোয়ারুল হক ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে এসেছিলেন। ডিফেন্সপক্ষের আইনজীবীদের দেখা যায়নি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিয়মিত অফিস করেছেন। আগামী ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের কার্যদিবস রয়েছে। ওইদিনও ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় কোন মামলা নেই। পরদিন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, ভাষা সৈনিক ও বর্ষীয়ান জননেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলার শুনানি রয়েছে। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের জেরা চলছে। ডিফেন্সপক্ষ তাকে জেরা করছে। আগামী মঙ্গলবার হবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান ও সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলায় প্রসিকিউশনের ১৬ তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ। এরআগে গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, বিশিষ্ট মুফাসসীরে কুরআন ও দু'বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় ডিফেন্সপক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ভাগীরথীর ছেলে গণেশ চন্দ্র সাহা সাক্ষ্য প্রদান করেন। পিরোজপুরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আলোচিত প্রয়াত ভাগিরথীর ছেলে তিনি। প্রসিকিউশনের তালিকাভুক্ত সাক্ষী হলেও তিনি প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দেননি। এর প্রেক্ষিতে প্রসিকিউশনের আবেদনে গণেশ চন্দ্র সাহাসহ ১৫ জনের জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু সেই গণেশচন্দ্র সাহা প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষী না দিয়ে মাওলানা সাঈদী সাহেবের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন তার মাকে পাঁচ পাকিস্তানী সেনা হত্যা করেছে, মাওলানা সাঈদী তার মায়ের হত্যাকান্ডে জড়িত নয়। তার এই সাক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। তার সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে ডিফেন্সপক্ষের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। যদিও আরো তিনজন সাক্ষী এখনো বাকী রয়ে গেছে। আগামী ৫ নবেম্বর মাওলানা সাঈদীর মামলায় যুক্তি তর্ক শুরু হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। ওইদিন প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করবে। এছাড়াও মঙ্গলবার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষী রয়টার্সের সাবেক সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন আহমেদ সাক্ষ্য দিয়েছেন। ওইদিন তার জেরা শেষ করেন ডিফেন্সপক্ষের কৌসুলি আহসানুল হক হেনা। সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমেদ ১৯৭১ সালে তাকে আটক এবং নির্যাতনের কথা জবানবন্দীতে বললেও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরাসরি কোন অভিযোগ করেননি।

