ঢাকা, মঙ্গলবার 18 December 2012, ৪ পৌষ ১৪১৯, ৪ সফর ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition

মাহমুদুর রহমানের কিছু হলে সারা দেশে ফ্যাসিবাদী শাসকের পতন ঘণ্টা বেজে উঠবে

খুলনা অফিস : খুলনায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও তাকে গ্রেফতারের অপচেষ্টা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ সময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আমার দেশের কণ্ঠরোধের চেষ্টা দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করবে। তারা বলেন, স্বাধীন মত প্রকাশ ও গণতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের শাসন একসাথে চলতে পারে না বলে ইতিহাস প্রমাণ দেয়। মাহমুদুর রহমানকে ৫ দিন ধরে পত্রিকা অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরকারের মনে রাখা উচিত, তিনি একা নন, সারা বাংলাদেশ তার সঙ্গে রয়েছে। তাকে পুনরায় জেলে নেয়ার ষড়যন্ত্র করা হলে দেশে আগুন জ্বলে উঠবে।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত নগরীর প্রাণকেন্দ্র পিকচার প্যালেস মোড়ে আমার দেশ পাঠক মেলার ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। নির্ধারিত সময়সীমার শেষ পর্যায়ে মানববন্ধনস্থল জনসমাগম বেড়ে জনসভায় রূপ নেয়। সরকারের ন্যক্কারজনক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুধু সাংবাদিকই নন, শীর্ষ রাজনীতিবীদ, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, ছাত্র, মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।

মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আমার দেশের খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামূল হক শাওন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম নূরুল ইসলাম দাদু ভাই, মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট গাজী আব্দুল বারী, বিএমএ'র সাবেক মহাসচিব সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক, মহানগরী জামায়াতের শূরা সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম লিটন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, সাবেক ডীন প্রফেসর ড. মোঃ রকিবউদ্দিন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ আলী আহমেদ, মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম, খুলনা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির উদ্দিন আহমেদ, প্রেস ক্লাব খুলনার ট্রেজারার কে এম জিয়াউস সাদাত, দৈনিক নয়া দিগন্তের খুলনা ব্যুরো প্রধান এরশাদ আলী, মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার রাশিদুল ইসলাম, এমইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা, ড্যাবের খুলনা জেলা সভাপতি ডাঃ রফিকুল হক বাবলু, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট সভাপতি অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, বিএনপি নেতা ফখরুল আলম। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোতাহার রহমান, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি আবু তৈয়ব, এমইউজের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক আজীজী, সংগ্রামের আব্দুর রাজ্জাক রানা প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাহমুদুর রহমান নয়, স্কাইপি কেলেংকারীর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হওয়া উচিত। অপকর্ম করা অপরাধ নয়, সত্য প্রকাশ করা অন্যায়-এই নীতিতে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ চালাচ্ছে। তারা বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় এসে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করেছে। যমুনা টেলিভিশন সম্প্রচারের অনুমোদন পায়নি। ইটিভি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। আমার দেশ বন্ধ করা হয়েছিল। মাহমুদুর রহমান জেল খেটেছেন এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে তাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। বর্ষীয়ান সম্পাদক আবুল আসাদ মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। সম্পাদক তাসনিম আলমকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে। শীর্ষ নিউজ বন্ধ হয়েছে ও এর সম্পাদক জেল খেটেছেন। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার পৌনে এক বছরেও হয়নি। সারা দেশে শাসকদলের লুটেরা, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজ, দখলবাজদের হাতে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকরা লাঞ্ছিত হচ্ছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ