ঢাকা, মঙ্গলবার 18 December 2012, ৪ পৌষ ১৪১৯, ৪ সফর ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে নিয়ে বিব্রত ও বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অযৌক্তিকভাবে তাকে দিতে হচ্ছে বিশেষ ছাড়। নতুন অনুমোদন নেয়া ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদে নিজেকে রেখে চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন তিনি। অথচ ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনভাবেই এটা সম্ভব নয়। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে বিব্রত করলেও মন্ত্রী হওয়ার কারণেই মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে এ ব্যাপারে কিছু বলা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ব্যাংক সূত্র। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে চিঠি  দেয়া হবে এমন একটি অলিখিত সিদ্ধান্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়ে রেখেছে বলেই জানা গেছে। এর ফলে আপাতত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদেই বহাল থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল সোমবার একটি অনলাইন সংবাদ সংস্থা এসব কথা জানায়।

সংস্থাটি জানায়, এনিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি বলেন, ‘‘মন্ত্রী বলে কথা। বুঝতে পারলাম না কেন তিনি এটি করলেন। তবে আমরা এখনই তাকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে চাইছি না। একেবারে চূড়ান্ত পর্বে তাকে শর্ত দিয়ে লাইসেন্স দেয়া হবে। সেখানে বলা হবে, মন্ত্রী থাকবেন নাকি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদে থাকবেন।’’ ওই কর্মকর্তা জানান, চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য পাওয়া আবেদনগুলো বাছাইয়ে যেসব ভুল-ত্রুটি এবং অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে সেগুলো সংশোধন করে দিতে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

বাছাই পর্বেই ব্যাংকটিতে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের চেয়ারম্যান থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। নিয়ম মোতাবেক তাকে চিঠি দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়নি। 

সূত্র মতে, দ্য ফারমার্স ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া আবেদনপত্রে চেয়ারম্যান হিসেবে মহীউদ্দীন খান আলমগীরকেই বহাল রাখা হয়েছে। তবে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকছেন না তিনি। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র  জানিয়েছে, নতুন ব্যাংকগুলোর লাইসেন্স চূড়ান্ত করতে আরও কয়েকমাস লেগে যাবে। সব কাজ শেষ করে আগামী এপ্রিল মে মাসের আগে কোনভাবেই হয়তো নতুন ব্যাংকগুলো কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। এখন জমাকৃত আবেদন নানা পর্যায়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে। উদ্যোক্তাদের আয়কর তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে। সেখানে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে। এর বাইরে আরও বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে।

সূত্র জানায়, এই মুহূর্তে চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীকে ঝামেলায় ফেলতে চায়না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিব্রত।  বিপাকে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর জেনেও না জানার ভাব করছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি।

তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, এব্যাপারে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নির্দেশনা মোতাবেক হাঁটছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি এব্যাপারে আপাতত নীবর থাকতে মৌখিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বলেছেন। সূত্র মতে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো মন্ত্রী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালক থাকতে পারেন না। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের উদ্যোক্তা থাকায় কোনো বাধা নেই। নিয়মানুযায়ী চেয়ারম্যান বা পরিচালকরা ব্যাংক থেকে সম্মানীসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন। একজন চেয়ারম্যানের জন্য একটি নির্দিষ্ট অফিস থাকে। যেখানে তিনি একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তাও পান। তার জন্য ব্যাংক একটি গাড়ি সরবরাহ করে এবং এর পরিচালনা ব্যয় তিনি অফিস থেকে পান। এছাড়া দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত বোর্ড মিটিং বা এক্সচেঞ্জ হাউসের কোনো অনুষ্ঠানে গেলে যাতায়াত, হোটেল ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ ব্যাংক থেকে ব্যয় বহন করা হয়। তাছাড়া বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত থাকলে সম্মানী নেন। এসব বিবেচনায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদটি লাভজনক পদ হিসেবেই বিবেচিত।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক অনুমোদনের পর চূড়ান্ত লাইসেন্স পেতে ৫টি বাণিজ্যিক ও ২টি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সম্পূর্ণ কাগজপত্র জমা দিয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো- সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, দ্য ফারমার্স ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, নন- রেসিডেন্ট ব্যাংক (এনআরবি) এবং এনআরবি কমার্স ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৬ মাসের মধ্যে কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের মধুমতি ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা নিজাম চৌধুরীর এনআরবি ব্যাংক। তাদেরকে সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তথ্য মতে, ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অথচ গত ১৬ অক্টোবর ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করেন তিনি। ব্যাংকটির অংশীদার (শেয়ারহোল্ডার) রাখা হয়েছে ৩৩ জনকে। ব্যাংকার এরফান উদ্দিন আহমেদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে। রাজধানীর গুলশানের একটি ভবনে এর প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ