ঢাকা, মঙ্গলবার 18 December 2012, ৪ পৌষ ১৪১৯, ৪ সফর ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition

এবারের বাটেক্সপোতে স্পট অর্ডার ক্রেতা-দর্শনার্থী সবই কমেছে

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে তৈরি পোশাক নিয়ে সর্ববৃহৎ প্রদর্শনী বাটেক্সপোতে এবার স্পট অর্ডার, ক্রেতা-দর্শনার্থী সবই কমেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতালের কারণে ২৩তম বাটেক্সপো-২০১২-এর লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে গত ১২-১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বাটেক্সপো পরবর্তী এক সাংবাদিক সম্মেলনে খোদ বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিএজিএমইএ)-এর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এ তথ্য জানান। এ সময় অন্যদের মধ্যে বাটেক্সপো ২০১২-এর প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দ ফজলুল আহসান, বিজিএমইএ'র দ্বিতীয় সহ-সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এবার পোশাক খাতের স্পট অর্ডার কমেছে প্রায় ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার। বাটেক্সপো-২০১২ মেলায় মোট স্পট অর্ডারের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ১০ লাখ ডলার যা ২০১১ সালে ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। পাশাপাশি কমেছে ক্রেতাও। গত বছর এ মেলায় ক্রেতা ছিলেন ১৭৫ জন, যা সদ্য সমাপ্ত বাটেক্সপো মেলায় কমে দাঁড়িয়েছে ১৫৯ জনে। একইভাবে আগের বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থী কমেছে প্রায় আড়াই হাজার।

এর কারণ হিসেবে শফিউল ইসলাম বলেন, হরতাল, অবরোধসহ রাজনৈতিক নানা অস্থিতিশীলতায় বিদেশী ক্রেতারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে থাকেন। মেলায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে তাজরীনের অগ্নিকান্ডে বিজিএমইএ ও সরকার যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে ক্রেতারা সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আগামীতে যাতে তাজরীনের মতো কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য নন-কপ্লায়েন্স গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে কমপ্লায়েন্স করা হবে। যারা কমপ্লায়েন্স ঠিক করতে পারবে না তারা এ শিল্পে টিকে থাকতে পারবে না। নন-কপ্লায়েন্স গার্মেন্টস চিহ্নিত ও ব্যবস্থা নিতে টাস্কফোর্স গঠন করবে বিজিএমইএ।

এছাড়া সরকারের নীতিগত সহায়তা পেলে ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে ২০১৫ সাল নাগাদ পোশাক শিল্পে রফতানি আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এবারের মেলায় নতুন ক্রেতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেলায় ৯০ জন নতুন ক্রেতা এসেছিলেন যাদের বেশির ভাগই চীন ও জাপানের। চীন থেকে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি বাণিজ্যিক দলও এসেছিলেন। ২০১৩ সালে চীনে বাংলাদেশের রফতানি বাজার প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কিছুসংখ্যক কারখানার জন্য গোটা শিল্পের ধ্বংস ডেকে আনতে পারি না। এ শিল্পের লালন, তদারকি ও বিকাশের জন্য পৃথক গার্মেন্টস মন্ত্রণালয় গঠন আজ সময়ের দাবি। এ মন্ত্রণালয় তৈরি পোশাক শিল্পের গবেষণা ও উন্নয়নে কাজ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ