ঢাকা, মঙ্গলবার 18 December 2012, ৪ পৌষ ১৪১৯, ৪ সফর ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition

দোহা সম্মেলনে স্বচ্ছভাবে দেশের অবস্থা তুলে ধরতে পারেনি সরকার

স্টাফ রিপোর্টার : দোহা সম্মেলন ছিল বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অবিচার। সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থা স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে পারেনি সরকার। তাই দোহা সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল শূন্য। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ইক্যুইটি এন্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপসহ (ইক্যুইটিবিডি) ৭টি নেটওয়ার্কিং সংস্থা আয়োজিত ‘‘দোহা জলবায়ু পথঃ বাঁচা মরার সন্ধিক্ষণ’’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইক্যুইটিবিডি'র সভাপতি রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নেটওয়ার্ক ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ বাংলাদেশ (এনসিসিবি) সভাপতি মিজানুর রহমান বিজয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর গ্লোবাল চেঞ্জের সভাপতি ড. আহসানুদ্দিন আহমেদ, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মোর্ত্তজা, পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের নেতা কামরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ধনী দেশগুলো এখনো কিয়োটো প্রটোকল মানছে না। তারা এখনও ১৮ ভাগ কার্বন নিঃসরণ করে থাকে। কার্বন নিঃসরণের এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রী বৃদ্ধি পাবে। উন্নত দেশের বিলাসিতার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দ্বীপ অঞ্চলের দেশসমূহ। এই ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতিও মানছে না উন্নত দেশসমূহ।

ড. আহসানুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি থাকতে হবে। কারণ উন্নত বিশ্ব বার বার প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই। তারা ক্ষতিপূরণের নামে ঋণ চাপিয়ে দিচ্ছে। এই সম্মেলন থেকে দ্বীপ অঞ্চলের দেশসমূহের কোন কল্যাণ ছিল না। এখানে প্রাপ্তি ছিল শূন্য। এর জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়হীনতাও কম দায়ী নয়।

গোলাম মোর্ত্তজা বলেন, সম্মেলনে যারা যোগ দিয়েছে তাদের অনেকেই দেশের জন্য কাজ করেনি। সম্মেলনে প্রতিনিধি বাছাই প্রক্রিয়া ছিল খুবই অস্বচ্ছ। অনেক এনজিও নিজের জন্য কাজ করলেও দেশের জন্য কাজ করেনি। সম্মেলনে দেশের অবস্থা পরিষ্কার ছিল না। লিখিতভাবে কোন দাবি দেয়া হয়নি। দোহা সম্মেলন হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অবিচার। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন জাতীয় সচেতনতা বৃদ্ধি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ