ঢাকা, মঙ্গলবার 18 December 2012, ৪ পৌষ ১৪১৯, ৪ সফর ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition

নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্ভিস কার্যালয় ঘেরাও

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : দুর্নীতির অভিযোগ এনে সিরাজগঞ্জের নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থী ও স্বজনরা সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয় ঘেরাও করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সোমবার সকালে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে শত শত বিক্ষুব্ধ প্রার্থী ও তাদের স্বজনরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ সময় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গা ঢাকা দেয়। স্টেনোগ্রাফার ও পিয়ন ছাড়া এই কার্যালয়ের আর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সোমবার সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন, জেলা স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নব কুমার কর্মকার, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রাশেদ ইউসুফ জুয়েল, যুবলীগের সভাপতি মঈন উদ্দিন খান চিনু, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, হরিজন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ হরিজন, নিয়োগ বঞ্চিতদের পক্ষে লাবনী সরকার, মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় ইমরান খান।

এই কার্যালয়ের প্রধান সিভিল সার্জন ডা. নাজিম উদ্দীন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন অফিসের একশ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারী যোগসাজশে ১৭৭ পদের বিপরীতে উৎকোচ গ্রহণ করে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার ৯টি উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী, অফিস সহকারী, পরিসংখ্যান, স্টোর কিপার, ওয়ার্ড বয়, সুইপার ইত্যাদিসহ বিভিন্ন পদে ১৮৮ লোক নিয়োগের জন্য গত মার্চ মাসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এপ্রিল মাসে আবেদন নেয়া শেষ হয়। পরবর্তিতে লিখিত পরীক্ষা শেষে গত ৫ নবেম্বর মৌখিক পরীক্ষা নেয়া সম্পন্ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে বিধি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে একটি পদের বিপরীতে পাঁচজন করে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ডাকার কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা না মেনে শতাধিক প্রার্থীকে ডাকা হয়।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে ১৭৭টি পদের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অনেক প্রার্থী। ইতোমধ্যে এই কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশে এক প্রার্থী মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় পুলিশ তার বাড়ি থেকে নগদ এক লক্ষ টাকাসহ ১১টি নিয়োগপত্র উদ্ধার করেছে। এছাড়াও হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে সরকারি সিলসহ ৭৬টি নিয়োগপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ নাজিমুদ্দিন খান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন এবং প্রধান অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম ছাড়াও এক বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. নাজিমুদ্দীন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ