ঢাকা, বুধবার 19 June 2013, ৫ আষাঢ় ১৪২০, ৯ শাবান ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition

সামাজিক যোগাযোগে অবদান রাখছে উইকিপিডিয়া

জাফর ইকবাল : সামাজিক যোগাযোগে এখন মাধ্যমের অভাব নেই। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ফলে এখন মানুষ এসবের মাধ্যমে নিজের অনেক না বলা কথাও প্রকাশ করছে। তেমনি একটা মাধ্যম হচ্ছে উইকিপিডিয়া। সামাজিক যোগাযোগে ক্ষেত্রে অবদান রাখছে এই উইকিপিডিয়া। এ যেন ফেসবুক, মাইস্পেস, গুগল প¬াসের মতো সামাজিক যোগাযোগের একটি অনন্য মাধ্যম।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিশ্ব্যব্যাপী তথ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। তথ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সৃষ্ট ওয়েবভিত্তিক, বহুভাষিক, মুক্ত বিশ্বকোষ হিসেবে পরিচিত এমনই সাইটের নাম উইকিপিডিয়া। এটি উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয়।

উইকি শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো হাঁটা। আর উইকি উইকি মানে দাঁড়িয়ে ছোট ছোট পায়ে হেঁটে চলা। তবে শাব্দিক অর্থে ছোট ছোট পায়ে হেঁটে চলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ইন্টারনেট জগতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য হলো উইকি উইকি ওয়েব সংস্কৃতিতে সবার ছোট ছোট অবদান যুক্ত করে তথ্য সেবায় বিশ্বকে নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া। তবে উইকিপিডিয়াকে তথ্য সেবা প্রদানের জন্য গঠন করা হলেও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রমে ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে এবং বিশ্ব সংস্কৃতি ও সভ্যতায় সামাজিক যোগাযোগে ব্যপক ভূমিকা পালন করছে। অনলাইন বিশ্বকোষের অগ্রদূত উইকিপিডিয়া ব্যবহারকারীর জন্য তথ্য শেয়ার সুবিধা চলু করেছিল হালের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুক তৈরিরও ৭ বছর আগে। বর্তমানে সাইটটিতে প্রতি মাসে সোয়া ৪শ’ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ১৯.৯ মিলিয়ন প্রবন্ধ ব্যবহার করছে। বর্তমানে এটি বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে।

উইকিপিডিয়া মূলধারার সামাজিক যোগাযোগের সাইটটের মতো কাজ করে যাচ্ছে। তবে এটি ফেসবুকের লাইক বাটন এবং গুগল প¬াসের লিঙ্ক সংযোজন করার মতো সেবা থেকে বিরত আছে। উইকিপিডিয়া নিজেদের কমিউনিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজেদের কোন নির্দিষ্ট একক ওয়েব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করেনি। সংগঠনটি টুইটার সাইটের মতোই প্রোফাইল রক্ষণাবেক্ষণ করছে। কিন্তু উইকিপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস হাফিংটন পোস্ট সংবাদ মাধ্যমে বলেন, যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বিশ্বকোষের সম্পর্ক গাঢ় করার তেমন কোন পরিকল্পনা আপাতত আমাদের নেই।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত ওএমএমএ গে¬াবাল কনফারেন্সের এক সাক্ষাৎকারে জিমি ওয়েলস বলেন, অন্যদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব না করাটাই আমাদের জন্য ভালো। তিনি আরও বলেন, আমি যদি উইকিপিডিয়াতে কোন কিছু পড়তে চাই, তবে এটি হবে আমার একান্তই ব্যক্তিগত কার্যক্রম। আমার চিন্তা-ভাবনা ও কার্যক্রম অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ গোপন ও নিরাপদ থাকবে। এতে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইেটের মতো কোন কিছু খুঁজতে বা জানতে গিয়ে গোপনীয়তা নিয়ে আফসোস করতে হবে না ব্যবহারকারীদের। তবে সামাজিক যোগাযোগের সাইটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় আমেরিকানদের দৈনন্দিন সময়ের ২২ শতাংশ অনলাইনে ব্যয় হচ্ছে। এর প্রভাব উইকিপিডিয়ায়ও পড়েছিল, যদিও এটি আমাদের কার্যক্রমে বেশি একটা বিঘœ ঘটাতে পারেনি।

উইকিপিডিয়া বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষদের মধ্যে আচার-আচরণ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, দৈনন্দিন ও সামাজিক, ঐতিহাসিক কর্মকা-ের সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগের একটি বড় ধরনের কার্যাবলি। এ মুহূর্তে উইকিপিডিয়ার উন্নয়নে বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়া প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী উইকিপিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে উলে¬খযোগ্য হারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এর কার্যক্রম উন্নয়ন করা প্রয়োজন এবং সেইসঙ্গে বিশ্বের প্রায় সব দেশের ভাষাকে এর আওতাভুক্ত করতে হবে। উইকিপিডিয়ার মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের প্রতিটি মানুষের নিজের ভাষায় তথ্যকোষ সুবিধা প্রদান করা। উইকিপিডিয়ায় বর্তমানে যারা কাজ করছেন তাদের শতকরা ৯০ ভাগই পুরুষ। উইকিপিডিয়া চায় নারী কর্মীরাও এখানে সমানভাবে যুক্ত হোক। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে উইকিপিডিয়া কর্তৃপক্ষ এডিটিং সফটওয়্যার সংযোজনের পরিকল্পনা করছে। আর এটি স্বল্প গভীরতার টেকনোলজি ব্যাকহগ্রাউন্ডের তথ্য সম্পাদনাকারীর জন্য বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করবে।

উলে¬খ্য, বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত এ অনলাইন তথ্যকোষের প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস এবং ল্যারি স্যাংগার। ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয় ওয়েবসাইটটি। বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১২ বছর আগে যাত্রা শুরু করে এ বিশ্ব তথ্যভা-ার। বর্তমানে এতে ২৯৭টি ভাষায় প্রায় ২০.৭ মিলিয়ন বিষয়ভিত্তিক তথ্য রয়েছে তার মধ্যে শুধু ইংরেজিতে রয়েছে ৪ মিলিয়ন। উইকিপিডিয়ায় নিবন্ধগুলো সমন্বিতভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচেষ্টায় তৈরি করা হয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে উইকিপিডিয়া ওয়েবসাইট দেখতে পারে, এমন যে কেউ এখানকার প্রায় সব নিবন্ধে অবদান রাখতে পারেন। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার তথ্যকে সংযুক্তির মাধ্যমে এটি একটি বিশ্ব সংস্কৃতির মিলনস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। ব্যবহারকারীরা চারপাশের পরিবেশ, বাস্তবিক ঘটনা, ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে এবং জানাতে পারছেন মুহূর্তের মধ্যে। এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে তথ্যসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর হচ্ছে। বিশ্ব সংস্কৃতি ও সভ্যতার উন্নয়নে উইকিপিডিয়া ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এ যেন ফেইসবুক, মাইস্পেস, গুগল প-াসের মতো সামাজিক যোগাযোগের একটি অনন্য মাধ্যম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ