ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 November 2013, ২৩ কার্তিক ১৪২০, ২ মহররম ১৪৩৫ হিজরী
Online Edition

আল-আকসা মসজিদ বিভক্ত করতে নেসেটে নতুন বিল : আরব সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদ

কায়রো থেকে অন ইসলাম : ইসরাইল অধিকৃত পূর্ব-জেরুসালেমের অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদকে দুই ভাগে বিভক্ত করার একটি প্রস্তাব নিয়ে নেসেট অধিবেশনে আলোচনার সময় আরব ও ইহুদি সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল হয়েছে।

জেরুসালেম পোস্টের এক রিপোর্টে বলা হয়, সিনেট সদস্য জামাল জেহলাক নেসেট কমিটিতে চিৎকার করে বলেন, এখানে কোন টেম্পল মাউন্ট নেই। আছে শুধু আল-আকসা মসজিদ। আমি কোন টেম্পল মাউন্ট কখনো দেখিনি, এখানে বাস্তবে যা আছে তা হচ্ছে আল-আকসা মসজিদ। প্রচার মাধ্যমের খবরে বলা হয়, আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রবেশ, পরিদর্শন ও প্রর্থনার অনুমতি দেয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে নেসেটের অধিবেশন ডাকা হয়।

অধবেশনের শুরুতে ধর্মবিষয়ক উপমন্ত্রী এলি বেন দাহান বলেন, আমি দেশের প্রধান রাব্বি (ধর্মযাচক)কে বলেছিলাম আল-আকসা মসজিদে প্রার্থনা করার জন্য প্রবেশ করতে দেয়ার অনুমতি দেয়া যায় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে। বেন দাহানের মন্তব্য আরব সিনেট সদস্যদের অনুভূতিকে নাড়া দেয় এবং তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। জামাল তাকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকেন, আপনি কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, হাবায়িত হায়ে ইহুদিদের নাকি ইসরাইলী সরকারের? এরপর কমিটির প্রধান মিরি রেগেভ এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং আল-আকসা মসজিদকে টেম্বল মাউন্ট বলে অভিহিত করেন। এতে আরব সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। সিনেট সদস্য জামাল যখনই টেম্পল মাউন্ট শব্দটি শোনেন তখনই আল-আকসা মসজিদ বলে চিৎকার করে ওঠেন।

আরব-ইসরাইল সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে পূর্বজেরুসালেম তথা আল-আকসা মসজিদ।

১৯৬৭ সালের আরব ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইল মুসলমানদের এই পবিত্র নগরী দখল করে নেয়। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আপত্তি সত্ত্বেও তেলআবিব কর্তৃপক্ষ এটাকে ইসরাইলের অঙ্গীভূত করে নেয়।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহল তাদের এই কর্মকর্তাতে আজ পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়নি। পূর্ব-জেরুসালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদসহ পুরো এলাকাটিকে আল হারাম আল শরীয়া নামে ডাকা হয়।

ইহুদিদের দাবি, হযরত সোলায়মান (আঃ) এর তাদের কথিত টেম্পল মাউন্ট আল-আকসা মসজিদের নীচে অবস্থিত। তারা মসজিদ ধ্বংস করে সে স্থানে তাদের কথিত টেম্পল মাউন্ট প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

আল-আকসা কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামী কর্তৃপক্ষ ওয়াক্্ফ ইহুদিদের শুধুমাত্র মাগরিবি নেট দিয়ে মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে এবং ইসরাইলী পুলিশ এখানে আগমনকারীদের ওপর নজরদারি করে থাকে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্রমবর্ধমান হারে ইসরাইলী রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতাদের আল-আকসা মসজিদ পরিদর্শন করতে দেখা যায়।

আরব এমপিরা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, আল-আকসা কম্পাউন্ডে ইহুদিরা প্রার্থনার জন্য প্রবেশের আইনগত বৈধতা পেলে তৃতীয় ইন্তিফাদা শুরু হবে। জেরুসালেম পোস্ট জামালের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, তিনি বলেন, আপনারা আগুন নিয়ে খেলা করছেন এবং এ থেকে দাবানলের সৃষ্টি হবে। আরেকজন এমপি মোহাম্মদ বারাকেই বলেন, আল আকসা মসজিদ অপবিত্র করার অনুমতি দিলে আমাদেরকে এখানে পাবেন না, পাবেন আল-আকসায়। অন্য একজন আরব সিনেট সদস্য আহমদ তিবি বলেন,  আল-আকসার কারণে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরু হয়েছিল। আরেকটি ইন্তিফাদা হবে এখান থেকেই।

গত সোমবার জেরুসালেমের মুফতি মোহাম্মদ হোসাইন হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, এই নতুন বিল মুসলিম ও ইহুদির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করবে।

তিনি আনাডোলু এজেন্সিকে বলেন, ইসরাইল আল আকাসা থেকে মুসলমানদের বের করে দিয়ে সেখানে টেম্প মাউন্ট নির্মাণ করতে চায়। আল আকসা মসজিদ ও এর প্রাঙ্গণকে বিভক্ত করার বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াবো। এগুলো মুসলমানদের পবিত্র স্থান। এখানে ইহুদিদের প্রার্থনা করার কোন অধিকার নেই।

মানবাধিকার সংগঠন আল হকের আইন বিষয়ক গবেষক নাসের আল রায়েস বলেন, জেরুসালেমের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার লক্ষ্যে ইসরইল যে উদ্যোগ নিয়েছে নতুন বিল হচ্ছে তারই অংশ বিশেষ।

তিনি আনাডোলু এই আইনের মধ্য দিয়ে ইসরাইল পবিত্র নগরীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ