ঢাকা, রোববার 11May 2014 ২৮ বৈশাখ ১৪২১, ১১ রজব ১৪৩৫ হিজরী
Online Edition

আজ ঐতিহাসিক কুরআন দিবস

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ১১ই মে। ঐতিহাসিক কুরআন দিবস। ১৯৮৫ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে সংঘটিত হয় এক পৈশাচিক, নারকীয় হত্যাকা-। ১৯৮৫ সালের ১২ এপ্রিল ভারতের দুইজন উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী নাগরিক পদ্মপল চোপরা ও শীতল সিং কুরআনের সকল আরবি কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি রীট আবেদন করে। রীটে বলা হয়, কুরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যেখানে কাফির ও মুশরিকদের হত্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেরণা দেয়া হয়েছে, তাই এই গ্রন্থ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্ম দিতে পারে। মিসেস পদ্মা খাস্তগীর এই মামলা গ্রহণ করে এ বিষয়ে ৩ সপ্তাহের মধ্যে এফিডেভিট প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেয়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

১০ মে জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে হাজার হাজার ইসলামী ছাত্র-জনতার মিছিল ও সমাবেশে মিলিত হলে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। পরের দিন ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। ইসলামী জনতা শুধুমাত্র দোয়া করার অনুমতি চাইলে তা না দিয়ে জনতার উপর গুলী বর্ষণ করে পুলিশ। এতে স্কুল ছাত্র, কৃষক, রিকশাওয়ালা ও রেল শ্রমিকসহ গুলীবিদ্ধ হয়ে ৮ জন শাহাদাতবরণ করেন।

কুরআনকে বাজেয়াপ্ত করার মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কলকাতাসহ সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। সারা দেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে আয়োজন করা হয় এক প্রতিবাদ সমাবেশ। ঘটনার দিন বেলা ১১টার সময় সমাবেশের আহ্বায়ক মাওলানা হোসাইন আহমদকে এসপি অফিসে ডেকে সমাবেশ বন্ধ করার জন্য চাপ দেয়া হয়। কিন্তু ইসলামী জনতা দলে দলে আসতে থাকে ঈদগাহ ময়দানের দিকে। উপায় না দেখে ঈদগাহ ময়দানে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। শুধুমাত্র দোয়া করে জনতাকে শান্ত করে চলে যাবো নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সেই আবেদনও শুনেনি তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা।

এ সময় ইসলামী জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে এলোপাতাড়ি গুলীবর্ষণ শুরু করে পুলিশ। পুলিশের গুলীতে প্রথমেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ১০ম শ্রেণীর ছাত্র শিবির কর্মী আব্দুল মতিন। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় শীষ মোহাম্মদ, রশিদুল হক, ৮ম শ্রেণীর ছাত্র সেলিম, সাহাবুদ্দীন, কৃষক আলতাফুর রহমান সবুর, রিকশাচালক মোক্তার হোসেন ও রেল শ্রমিক নজরুল ইসলাম শহীদ হন। আহত হয় অর্ধ শতাধিক মানুষ।

কুরআনের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যেখানে সকল মুসলমানের কর্তব্য সেখানে ইসলামী জনতার উপর গুলীবর্ষণ করে ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় রচনা করেছিল বাংলাদেশের কিছু মুসলমান নামধারী পুলিশ। বর্বরোচিত এই হত্যাকা-ের বিচার তো হয়ইনি, বরং উল্টো হয়রানি করা হয়েছিল মুসলিম জনতাকে। ২৫ বছর পার হলেও আজও এ ঘটনার কোন বিচার হয়নি। শহীদের রক্তে যারা হলি খেলে আনন্দে আত্মহারা হয়েছিল তাদের বিচার যদি এই দুনিয়ার আদালতে না হয় তাদের বিচার আখেরাতের আদালতে হবে এই ভেবে নিজেদের সান্ত¦না খুঁজে শহীদের স্বজনরা।

এ দিনটিকে স্মরণ করতে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতি বছর পালন করে ‘কুরআন দিবস’ হিসেবে।

কর্মসূচি : ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুরআন বিতরণ, কুরআনখানী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল, শহীদদের কবর জিয়ারত ও ১১ মে কুরআন দিবস ঘোষণা ও খুনিদের বিচারের দাবিতে মিছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ